বাংলাদেশের রংপুরে হিন্দু পরিবারের চার খুন: আটক দুই যুবক, ডাকাতির তত্ত্বের পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে অন্য সম্ভাবনা
রংপুর,বাংলাদেশ ঃ
বাংলাদেশের রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই স্থানীয় যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ততার বিষয় নিশ্চিত করেনি।
শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে বাড়ি থেকে গণপতি (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে পার্থী (২৪) এবং ছেলে প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি আরও রহস্য ঘনীভূত করেছে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, ঘরের আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার জায়গাগুলোও ভাঙা ছিল। এসব কারণে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নিহত পরিবারের স্বজনদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার পর ওই বাড়িতে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র দাবি করেছে। এমনকি স্থানীয় কয়েক যুবকের দিকেও সন্দেহের তীর ঘুরছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, একাধিক সংস্থা একসঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাবও তদন্তে যুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এক স্বজন বাড়িতে এসে চারটি মরদেহ দেখতে পান বলে জানা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, হত্যাকাণ্ডের পর এত সময় ধরে কীভাবে ঘটনাটি অজানা রইল এবং বাড়ির ভেতরে কী ঘটেছিল।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এটি কি শুধুই ডাকাতির ঘটনা, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো পরিকল্পনা? আটক দুই যুবকের জিজ্ঞাসাবাদ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করেই সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।