দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কঠোরবাংলাদেশের অবস্থান

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কঠোরবাংলাদেশের অবস্থান
দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কঠোরবাংলাদেশের অবস্থান
 
  নয়াদিল্লি ঃ

বাংলাদেশ ও ভারতের সষ্ট কম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ঢাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পরেছে। এর মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের হস্তান্তর

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব বিষয়ে ভারতের ইতিবাচক সাড়া এবং দুই দেশের মধ্যে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরি হওয়াকে সম্ভাব্য শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা চাইছে, সম্পর্কটি যেন পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে যায়।

ব্রিকস সম্মেলনের বদলে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জোর

ভারত আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে ঢাকার আগ্রহ মূলত সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়। এর মধ্যেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা নতুন গতি পায়।

তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অস্বস্তিকর। ঢাকা এ বিষয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণই সবচেয়ে বড় ইস্যু


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত এখনো জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

তবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান শুধু একজন ব্যক্তির প্রত্যর্পণকে ঘিরে নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা সামগ্রিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করতে চাইছে—যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আলোচনায় আরও একাধিক বিষয়

শেখ হাসিনার ইস্যুর পাশাপাশি পানি বণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি, জ্বালানি ও বাণিজ্য—এই বিষয়গুলিও দুই দেশের ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ চালিয়ে যাওয়াই সম্পর্কের জটিলতা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীরের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ঢাকার লক্ষ্য কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

সব মিলিয়ে, এখন নজর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে। তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক হলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ থেকে শুরু করে সীমান্ত, বাণিজ্য ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেই বৈঠকের সময়সূচি এবং ঢাকার দাবির বিষয়ে দিল্লির অবস্থানই আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।