বাংলাদেশের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, বলীপাড়ায় প্রথম যাজক হিসেবে অভিষিক্ত ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনি
বান্দরবান:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসে যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়। বলীপাড়া ধর্মপল্লীর ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে প্রথমবারের মতো যাজক (ফাদার) হিসেবে অভিষিক্ত হলেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। গত ৬ নভেম্বর বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর যাজকীয় অভিষেক সম্পন্ন হয়।
চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি এই অনুষ্ঠানে প্রধান পৌরোহিত্য করেন। বিভিন্ন ধর্মপল্লী ও ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত যাজক, সন্ন্যাসিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক খ্রিস্টভক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই অভিষেক শুধু একজন মানুষের ধর্মীয় জীবনের নতুন অধ্যায় নয়, বরং স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নিজেদের সম্প্রদায় থেকে একজন যাজক পাওয়াকে স্থানীয় খ্রিস্টানরা বিশেষ আশীর্বাদ ও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে আর্চবিশপ সুব্রত হাওলাদার বলেন, ঈশ্বর বিশেষ কোনও যোগ্যতা বা ক্ষমতার কারণে নয়, ভালোবেসেই মানুষকে তাঁর কাজের জন্য আহ্বান জানান। নব-অভিষিক্ত ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনির মাধ্যমে বাংলা ভাষার পাশাপাশি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব মাতৃভাষাতেও খ্রিস্টধর্মের বাণী প্রচার ও ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নব-অভিষিক্ত ফাদার ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যাঁরা তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঈশ্বরের পথে চলার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও সাহস প্রার্থনা করেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জন্ম ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার। তাঁর এই অভিষেককে ঘিরে বলীপাড়ায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নবীন যাজককে সংবর্ধনা জানানো হয়।
স্থানীয়দের আশা, ফ্রান্সিস সাধুমনির এই যাত্রা পাহাড়ি এলাকার নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে মাতৃভাষায় ধর্মীয় শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক চর্চার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।