হামজা শেখ একজন নিঃস্বার্থ বীর, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীর গভীরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 17 h ago
হামজা শেখ
হামজা শেখ
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়াদিল্লি 

জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডার বাসিন্দা হামজা শেখ সেইসব মানুষদের মধ্যে একজন, যিনি জীবন বাঁচানো এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃতদেহ খুঁজে বের করাকে তাঁর জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রায় ২৮-২৯ বছর বয়সী হামজা বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চেনাব এবং জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যান্য নদীতে উদ্ধার অভিযানে জড়িত আছেন। এই কারণেই তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের 'উদ্ধারকারী' হিসেবে পরিচিত।
 
যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তা হলো সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নদীতে নেমে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প। নদীর জল প্রায়শই বরফের মতো ঠান্ডা, স্রোত প্রবল এবং গভীরতাও যথেষ্ট হতে পারে। তবে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই হামজা ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

হামজা শেখ

চেনাব নদীর দুর্ঘটনা এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর সংগ্রাম

জম্মু ও কাশ্মীরের পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো দেখতে সুন্দর হলেও, সেগুলো খুব বিপজ্জনক হতে পারে। চেনাব ও উপত্যকার অন্যান্য নদীতে হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় প্রায়শই প্রাণহানি ঘটে। নদীতে কেউ ডুবে গেলে, তাকে খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

হামজার মতে, অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে গভীর জলে অনুসন্ধান চালাতে সক্ষম প্রশিক্ষিত ডুবুরি সহজে পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার পর অন্য রাজ্য থেকে বেসরকারি ডুবুরিদের ডেকে আনতে হয়। তিনি বলেন, এই বেসরকারি ডুবুরিরা একটি অভিযানের জন্য প্রায় ২ লাখ থেকে ২.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করতে পারেন।

ধনী পরিবারগুলো হয়তো এই পরিমাণ অর্থ জোগাড় করতে পারে, কিন্তু গরীব পরিবারগুলোর পক্ষে এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে, অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় ধরে নদীর তীরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।

হামজা এই কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সম্ভবত এ কারণেই তিনি এই উদ্ধারকাজকে কখনো পেশা বা অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে বেছে নেননি। তিনি বলেছেন, তিনি অভাবী পরিবারগুলোকে এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিতে চান।

শৈশবের একটি দুর্ঘটনা তার জীবন বদলে দেয়

নদীর সাথে হামজার সম্পর্ক তার শৈশব থেকেই। তার বাড়ি ছিল নদীর তীরে, আর বয়ে চলা জলের শব্দ ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু যখন তার বয়স প্রায় ১০ বছর, এই নদীই তার পরিবারে এমন এক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল যা সে কখনো ভুলতে পারেনি।

তার এক আত্মীয় চেনাব নদীর প্রবল স্রোতে ডুবে মারা যান। পরিবারটি তাকে খুঁজে বের করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। হামজা বলেন, তার পরিবার প্রায় দুই-তিন বছর ধরে চেনাব নদীর তীরে তাকে খুঁজছিল কিন্তু খুঁজে পায়নি।
 

হামজা শেখ তার দল
 
সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় দগ্ধ হওয়ার পর মৃতদেহ খুঁজে না পাওয়ার কষ্টটা হামজা নিজ চোখে দেখেছিল। পরবর্তীকালে সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে ওঠে। যখনই নদীতে কেউ ডুবে মারা যায়, হামজার শৈশবের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

হামজা পরিবারের জীবিকা নদীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। অল্প বয়স থেকেই তিনি নদী থেকে বালি সরানোর মতো কঠোর কায়িক শ্রম করতেন। ঘন ঘন ডুব দেওয়া এবং ভারী বালি বহন করার ফলে ধীরে ধীরে তার সাঁতার কাটার ও দম ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত হয়েছিল।

এগারো বছর বয়সে সে নদীতে একটি অচেনা মৃতদেহ দেখতে পায়। এই ঘটনাটি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। হামজা ভেবেছিল, এই মৃত ব্যক্তি নিশ্চয়ই কারো ছেলে, কারো ভাই অথবা কারো প্রিয়জন। মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা গেলে তারা অন্তত জানাজা সম্পন্ন করার একটি সুযোগ পাবে।

সে পানি থেকে দেহটি তুলেছিল। এটাই ছিল তার মুক্তির যাত্রার শুরু। এরপর থেকে, যখনই এলাকার নদীতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটত, হামজা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করত।

আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়া ৫০ ফুট গভীরতায় ডুব দিন

হামজা বলেছেন, তিনি আধুনিক স্কুবা সরঞ্জাম বা অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই গভীর জলে ডুব দেওয়ার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি দম ধরে রেখে প্রায় ৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত ডুব দিতে পারেন।

কিছু উদ্ধার অভিযানে তাঁকে টানা বেশ কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি একটানা ১৩ দিন পর্যন্ত অভিযানেও নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি গত প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ডোডা ও চেনাব উপত্যকায় এই ধরনের পরিষেবা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজ স্থানীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং খুব কম লোকই তাঁর সম্পর্কে জানত।

কাশ্মীরে যাওয়ার পর এক নতুন পরিচয়

প্রায় আট মাস আগে হামজা চেনাব উপত্যকা ছেড়ে কাশ্মীর উপত্যকায় চলে যান। সে সময় উপত্যকার নদীগুলোর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে দুর্ঘটনার খবর আসছিল। হামজা বলেন, তিনি সাহায্যের জন্য কারও কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষা করেননি। যেখানেই তাঁর প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে, সেখানেই তিনি সাহায্যের জন্য জলের কাছে চলে গেছেন।

যখন কাশ্মীরের মানুষ তাঁকে প্রবল স্রোত ও বরফশীতল জলে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখল, তখন তাঁর কাজ ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি ‘উদ্ধারকারী’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। হামজা বলেন, তিনি তাঁর অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন, কিন্তু কাশ্মীরে আসার পর যে সাড়া ও প্রশংসা পেয়েছেন, তা তাঁকে নতুন অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

তারা উদ্ধারকাজের জন্য এক টাকাও পারিশ্রমিক নেন না

হামজার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, তিনি উদ্ধার অভিযানের বিনিময়ে কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না। তিনি বলেছেন, তিনি কখনো টাকার জন্য উদ্ধারকাজ করেননি। তার মতে, যখন পরিবারের কোনো সদস্য ডুবে মারা যায়, তখন বেসরকারি ডুবুরিদের দাবি করা পারিশ্রমিক গরিব পরিবারগুলোর জন্য এক বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এই অভিজ্ঞতাগুলোর কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, অভাবী পরিবারগুলো কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই তাঁর সাহায্য চাইতে পারে। তিনি এই কাজটিকে চাকরি বা ব্যবসা হিসেবে গণ্য করেন না। তাঁর কাছে এটি একটি আবেগঘন দায়িত্ব।

হামজা শেখ
 
হামজা বলেন, যতদিন তাঁর শরীরে শক্তি থাকবে, তিনি মানুষের খোঁজে ও উদ্ধারের জন্য নদীতে যেতে থাকবেন। তাঁর কাছে উদ্ধার মানে শুধু কাউকে পানি থেকে তুলে আনা নয়; এটি একটি পুরো পরিবারের জন্য আশার প্রতীক।

মৃত্যুভয় এবং ধর্মীয় বিশ্বাস

উত্তাল নদীতে ডুব দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই বিপজ্জনক। মৃত্যুভয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে হামজা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, মানবতার সেবা করতে গিয়ে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে, সে তার কৃতকর্ম ও সদিচ্ছা নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। হামজার মতে, তিনি আর্থিক লাভ বা খ্যাতির জন্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন না। তার কাছে উদ্দেশ্য বা সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্বাসই তাকে বিপদসংকুল পথে পাড়ি দেওয়ার সাহস জোগায়।

মায়ের ভয় গর্বে পরিণত হলো

শুরুতে হামজার মা-ও তার এই কাজে ভয় পেয়েছিলেন। নিজের সন্তানকে উত্তাল নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা কোনো মায়ের পক্ষেই সহজ নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তার মনোভাব বদলে যায়।

কাশ্মীরে হামজাকে উদ্ধারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তার মা দেখেছিলেন, মানুষের কাছ থেকে সে কতটা ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছে। মায়ের ভয় ধীরে ধীরে গর্বে পরিণত হয়। হামজা বলেন, তার মা এখন বিশ্বাস করেন যে কাশ্মীরে তিনি তার আপনজনদের মধ্যে একটি পারিবারিক বন্ধন খুঁজে পেয়েছেন।

মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবারটিও সান্ত্বনা পেয়েছে

উদ্ধার অভিযান সবসময় শুধু জীবন বাঁচানোর মধ্যেই শেষ হয় না। কখনও কখনও ডুবুরিদের মৃতদেহও খুঁজতে হয়। এমন ক্ষেত্রে, সাফল্য মানে কাউকে জীবিত ফিরিয়ে আনা নয়; এর অর্থ হলো পরিবারকে তাদের প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ করে দেওয়া।

হামজা বলেন, তিনি কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারেন না। কিন্তু মৃতদেহটি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়। এর ফলে পরিবারটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। তিনি বলেন, এটি উদ্ধার অভিযানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দিক।

কাশ্মীরের যুবকদের থেকে অনুপ্রেরণা


হামজা কাশ্মীরের যুবকদের উৎসাহ ও মনোভাবেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনার খবর পেলেই স্থানীয়রা প্রায়ই সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন। এমনকি সাঁতার না জানা কিছু যুবকও আবেগ এবং সাহায্য করার প্রবল ইচ্ছা থেকে নদীর তীরে ছুটে যায়।

তবে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ ছাড়া ডুব দেওয়া নিজেই একটি গুরুতর ঝুঁকি হতে পারে। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হামজা বিশ্বাস করেন যে, উদ্ধার অভিযানের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের মতোই সাহায্য করার ইচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কাশ্মীরের জনগণের বিশ্বাসকে তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।
 
হামজা শেখ

এসডিআরএফ-এ আধুনিক সরঞ্জামের সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা

হামজার নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মানুষ জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে তাকে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীতে (এসডিআরএফ) কাজ করার সুযোগ এবং আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

হামজা বলেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য সহায়তা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সরকারি ব্যবস্থার অধীনে কাজ করার সুযোগ পেলে উন্নত সরঞ্জাম এবং সুনির্দিষ্ট নীতির মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান আরও নিরাপদে ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তবে, তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর জীবনব্যাপী পথচলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি চাকরি কোনো শর্ত নয়। চাকরি পেলে হয়তো উন্নত সরঞ্জাম, সুসংগঠিত ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং কঠোর নিয়মকানুন পাওয়া যায়; কিন্তু সরকারি পদ না পেলেও তিনি তাঁর কাজ কখনো থামান না।

এটি একটি অবিরাম যাত্রা

হামজা শেখের গল্প কোনো নির্দিষ্ট উদ্ধার অভিযানের গল্প নয়। এটি এক দীর্ঘ যাত্রার কাহিনী, যা শৈশবের এক পারিবারিক ট্র্যাজেডি দিয়ে শুরু হয়ে মানবসেবার এক মহান ব্রতে পরিণত হয়েছিল।

কথা শেষ হতেই হামজা বিশ্রাম নেওয়ার সময় পেল না। সে আরেকটি উদ্ধারকাজে ছুটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, কারণ নদীর তীরে কেউ একজন তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। 

ডোডার এই অসাধারণ যুবক তার অভিজ্ঞতা, সাঁতারের দক্ষতা এবং সাহসকে কাজে লাগিয়ে সেইসব পরিবারের পাশে দাঁড়ান, যাদের কাছে প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

চেনাব নদীর জল কখন শান্ত হবে বা কখন এর ঢেউ বিধ্বংসী রূপ নেবে, তা কেউ জানে না। কিন্তু হামজা শেখ মনস্থির করে ফেলেছে। যখনই কোনো প্রিয়জন নদীতে হারিয়ে যাবে, হামজা তাকে খুঁজে বের করতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়বে। 

হামজার কাছে এই কাজ অর্থ উপার্জনের কোনো উপায় নয়; এটি শৈশবে ভোগ করা অসহনীয় যন্ত্রণার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ এবং মানবতার প্রতি এক অটল অঙ্গীকার।