ধ্রুপদের পাঁচশো বছরের ঐতিহ্যের নীরব অভিভাবক শাবানা দাগর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 17 h ago
শাবানা দাগর
শাবানা দাগর
 
ফারহান ইসরাইলি 

কখনও কখনও একটি সংগ্রহশালাই শতাব্দীর ইতিহাসকে নিঃশব্দে ধারণ করে রাখে। জয়পুরের রবীন্দ্র মঞ্চে অবস্থিত দাগর আর্কাইভ ঠিক তেমনই এক স্থান। প্রাচীন তানপুরা, বিবর্ণ আলোকচিত্র, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, আনুষ্ঠানিক পাগড়ি, রাজকীয় সম্মানপত্র, পদক এবং অমূল্য ঐতিহাসিক নথিতে সমৃদ্ধ এই আর্কাইভ ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক অনন্য উত্তরাধিকারের সাক্ষ্য বহন করে। এগুলি কেবল জাদুঘরের প্রদর্শনসামগ্রী নয়; বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সঙ্গীত পরম্পরা দাগর ঘরানার দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রার জীবন্ত দলিল।

প্রায় পাঁচ শতকের এই সঙ্গীত ঐতিহ্য সংরক্ষণের পেছনে রয়েছেন শাবানা দাগর এবং তাঁর ভাই ইমরান দাগর, দাগর পরিবারের ২০তম প্রজন্মের প্রতিনিধি। পূর্বসূরিরা যেখানে ধ্রুপদ পরিবেশনাকে জীবনের লক্ষ্য করেছিলেন, সেখানে এই দুই ভাইবোন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন এক দায়িত্ব, ঐতিহ্যটিকেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখা।
 
শাবানা দাগর
 
বিশ প্রজন্ম ধরে ধ্রুপদের ধারাবাহিকতা
 
‘আওয়াজ – দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় শাবানা দাগর জানান, হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে দাগর ঘরানাই সম্ভবত একমাত্র পরিবার, যারা টানা বিশ প্রজন্ম ধরে একই সঙ্গীতধারা, ধ্রুপদ, অবিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষণ করে আসছে। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় কণ্ঠসঙ্গীতের প্রাচীনতম জীবিত রূপ হিসেবে ধ্রুপদের উৎস সামবেদে। প্রথমদিকে এটি মন্দিরে ভক্তি ও ধ্যানের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হতো। পরবর্তীকালে ভারতের বিভিন্ন রাজদরবারে এই সঙ্গীতধারা বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। শাবানার মতে, ধ্রুপদ কেবল একটি সঙ্গীতরীতি নয়; এটি এমন এক সাধনা, যা মানুষের অন্তরের শান্তি ও মানসিক একাগ্রতা গড়ে তোলে। বিশ্বজুড়ে ধ্যানচর্চা জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই ধ্রুপদ সুর ও গভীর মনসংযোগের মাধ্যমে সেই দর্শনকে ধারণ করেছিল।
 
শতাব্দী পেরিয়ে আসা এক বংশপরম্পরা
 
দাগর পরিবারের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। পারিবারিক বংশতালিকা অনুযায়ী, বাবা গোপাল দাস ছিলেন বাবা বেহরাম খানের পিতা। বাবা বেহরাম খানকে দাগর পরম্পরার অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের দরবারে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। ১৮৫৭ সালের পর সম্রাটকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হলে জয়পুরের মহারাজা সাওয়াই রাম সিং তাঁকে নিজের দরবারে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তিনি বহু বছর ধরে শিক্ষা ও সঙ্গীতচর্চা চালিয়ে যান।
 
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বাবা বেহরাম খান প্রায় ১২৫ বছর বেঁচে ছিলেন। সঙ্গীতে অসাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি দর্শন ও প্রাচীন শাস্ত্রেও তিনি ছিলেন পণ্ডিত। বিভিন্ন ধারার বহু সঙ্গীতশিল্পী তাঁর কাছে শিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর উত্তরসূরি আল্লাবন্দে খান, জাকিরউদ্দিন খান এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীরা ধ্রুপদ ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজও জয়পুরে তাঁর স্মৃতি বহন করে ‘বাবা বেহরাম খান দাগর মার্গ’ নামে একটি রাস্তা। রামগঞ্জ চৌপাড় এলাকায় অবস্থিত পরিবারের ঐতিহাসিক বাসভবন ‘বাবা বেহরাম খান দাগর হাউস’ এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। অল ইন্ডিয়া রেডিও, জয়পুরেও তাঁর প্রতিকৃতি সংরক্ষিত রয়েছে। ২০১৯ সালে শিল্পী গগন বিহারী নির্মিত তাঁর একটি ভাস্কর্য দিল্লির গুণীজন সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অল ইন্ডিয়া রেডিওর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
 
সঙ্গীত কিংবদন্তিদের এক পরিবার
 
শাবানা দাগর হলেন উস্তাদ আল্লাবন্দে ইমামুদ্দিন খান দাগরের নাতনি। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর উদয়পুরের মহারানা ভূপাল সিংয়ের রাজদরবারে সভাসঙ্গীতশিল্পী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দাগর পরিবার ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বহু কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ রহিমুদ্দিন দাগর, উস্তাদ ইমামুদ্দিন খান দাগর, উস্তাদ ফাহিমুদ্দিন দাগর, উস্তাদ আমিনুদ্দিন দাগর, উস্তাদ ওয়াসিফুদ্দিন দাগর, উস্তাদ বাহাউদ্দিন দাগর, নফিসুদ্দিন দাগর, আনিসুদ্দিন দাগর এবং আরও অনেকে।
 
এ পি জে আব্দুল কালামের সঙ্গে শাবানা দাগর
 
এই পরিবারের অবদান শুধু কণ্ঠসঙ্গীতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রুদ্রবীণা বাদক হিসেবে উস্তাদ বান্দে আলি খান আজও স্মরণীয়। তাঁর উত্তরসূরি উস্তাদ বাহাউদ্দিন দাগর বর্তমানে সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। ২০১২ সালে তিনি সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন এবং আজও দেশের অন্যতম শীর্ষ রুদ্রবীণা শিল্পী হিসেবে পরিচিত। এই ঘরানা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহু শিষ্যও গড়ে তুলেছে, যাঁদের মধ্যে গুণ্ডেচা ব্রাদার্স, ঋত্বিক সান্যাল এবং উদয় ভাবালকর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁরা ধ্রুপদকে বিশ্বব্যাপী নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
 
মঞ্চ নয়, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পথ
 
দাগর পরিবারের প্রথা অনুযায়ী নারীরা জনসমক্ষে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন না। সময়ের সামাজিক রীতিনীতির প্রভাবে ধ্রুপদকে মূলত পুরুষদের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হতো এবং নারীদের মঞ্চে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। শাবানা নিজে কখনও ধ্রুপদে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেননি। তবে তিনি উপলব্ধি করেন, শতাব্দীপ্রাচীন এই ইতিহাস সংরক্ষণ করাও পরিবেশনার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
 
বাবার অনুপ্রেরণায় তিনি ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এর মাধ্যমে তিনি দাগর পরিবারের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে পরিবেশনার পরিবর্তে পারিবারিক সঙ্গীত ঐতিহ্যের নথিভুক্তকরণ, সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তাঁর পথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্নাতক হওয়ার পর তিনি ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেই পেশায় কাজও করেন। অন্যদিকে ভাই ইমরান ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দুই ভাইবোন উপলব্ধি করেন, পরিবারের অমূল্য নথি ও সংগ্রহ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তখনই তাঁরা নিজেদের জীবনধারা বদলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হন।
 
দাগর আর্কাইভের সূচনা
 
আজকের দাগর আর্কাইভের ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৭৮ সালে, যখন শাবানার বাবা উস্তাদ আলিমুদ্দিন দাগর ‘উস্তাদ ইমামুদ্দিন খান দাগর কমিটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজপরিবার ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতায় জয়পুরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ২০০৩ সালে শাবানা ও ইমরান প্রতিষ্ঠা করেন ‘উস্তাদ ইমামুদ্দিন খান দাগর ইন্ডিয়ান মিউজিক, আর্ট অ্যান্ড কালচার সোসাইটি’। তাঁদের লক্ষ্য শুধু ধ্রুপদ সংরক্ষণ নয়; বরং বিলুপ্তপ্রায় যেকোনও শিল্পধারাকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায় ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে, যখন রবীন্দ্র মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দাগর আর্কাইভ’।
 
সঙ্গীত ঐতিহ্যের এক অমূল্য ভাণ্ডার
 
দুটি গ্যালারি জুড়ে বিস্তৃত এই আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে বাদ্যযন্ত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, বিরল আলোকচিত্র, নামাজের জায়নামাজ, লাঠি, সম্মাননা, বই এবং দাগর পরিবারের বিভিন্ন প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক নথি। এখানে দর্শনার্থীরা পরিবারের সম্পূর্ণ বংশতালিকা দেখতে পারেন এবং উস্তাদ আল্লাবন্দে খান দাগর, উস্তাদ বান্দে আলি খান, উস্তাদ জিয়াউদ্দিন খান দাগর, উস্তাদ জাকিরউদ্দিন খান দাগর, উস্তাদ নাসিরউদ্দিন খান দাগর এবং উস্তাদ ইমামুদ্দিন খান দাগরের স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহ ঘুরে দেখতে পারেন।
 
শাবানা দাগর
 
আর্কাইভের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২০০ বছর পুরনো কয়েকটি তানপুরা, যা দাগর পরিবারের বহু প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁদের আজীবন সাধনায় ব্যবহার করেছেন। এই বাদ্যযন্ত্রগুলি কেবল প্রাচীন নিদর্শন নয়; এগুলি শতাব্দীজুড়ে সঙ্গীতসাধনা ও শিল্পনিষ্ঠার প্রতীক। প্রতি মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন শিক্ষার্থী, গবেষক, শিল্পী এবং বিদেশি গবেষক এই আর্কাইভ পরিদর্শন করেন। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে।
 
গবেষণারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র
 
দাগর আর্কাইভ কেবল একটি জাদুঘর নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্রও। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বিরল অডিও রেকর্ডিং, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি এবং ঐতিহাসিক নথি, যা ধ্রুপদের বিকাশ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে। সবচেয়ে দুর্লভ সংগ্রহগুলির একটি হলো গুরু-শিষ্য পরম্পরায় সঙ্গীত শিক্ষার পদ্ধতির একটি অডিও রেকর্ডিং। কারণ ধ্রুপদ ঐতিহাসিকভাবে লিখিত স্বরলিপির পরিবর্তে মৌখিক শিক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়েছে। এখানে একটি বিশেষায়িত সঙ্গীত গ্রন্থাগারও রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই একাধিক পিএইচডি গবেষণার কাজে এই সংগ্রহশালা সহায়তা করেছে।
 
রুদ্রবীণার ঐতিহ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ
 
দাগর পরিবারের সঙ্গে রুদ্রবীণার সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। শাবানা জানান, উস্তাদ মইনুদ্দিন দাগর রুদ্রবীণার গঠনে একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনেন। সেই কারণে অনেক শিল্পী এই পরিবর্তিত রূপটিকে ‘দাগর বীণা’ নামে উল্লেখ করেন। বর্তমানে রুদ্রবীণা একটি অত্যন্ত বিরল বাদ্যযন্ত্র। মূলত কলকাতার কারিগররা এই যন্ত্র তৈরি করেন এবং প্রতিটি শিল্পীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিলিয়ে আলাদাভাবে নির্মাণ করা হয়। একটি রুদ্রবীণা তৈরি করতে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং এর মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।
 
শাবানার বিশ্বাস, ধ্রুপদ বা রুদ্রবীণার মতো শিল্পকলা শুধুমাত্র বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়। এগুলি টিকে থাকে গুরু ও শিষ্যের জীবন্ত সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। বর্তমানে পানভেলের উস্তাদ বাহাউদ্দিন দাগরের গুরুকুল এবং ভোপালের ধ্রুপদ কেন্দ্র সেই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। পাশাপাশি দাগর আর্কাইভ নিয়মিত কর্মশালা ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করছে।
 
শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে সেতুবন্ধন
 
এই সোসাইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ‘গুণীজন সভা’, যার সমন্বয় করেন ইমরান দাগর। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দিল্লিতে আশিটিরও বেশি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক ও চিত্রকলার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অংশ নিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কথক গুরু পণ্ডিত বিরজু মহারাজও ছিলেন। সোসাইটি ধ্রুপদ উৎসব, রুদ্রবীণা উৎসব, মালহার উৎসব এবং রাগমালা মিনিয়েচার চিত্রকলার সঙ্গে সঙ্গীতের সমন্বয়ে অভিনব অনুষ্ঠানও আয়োজন করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা নয়; শিল্পী, গবেষক এবং দর্শকদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ গড়ে তোলা।
 
গুণীজন সভা
 
গুণীজন সভার অধিবেশন নিয়মিতভাবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যাতে তরুণ প্রজন্ম ভারতের শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারে। প্রায় আঠারো বছর ধরে জয়পুর সাহিত্য উৎসবের সকালের অধিবেশনও গুণীজন সভার সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রক, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি, ওয়েস্ট জোন কালচারাল সেন্টার, জওহর কলা কেন্দ্র, রবীন্দ্র মঞ্চ, রাজস্থান ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার, ইন্ডিয়া হ্যাবিট্যাট সেন্টার এবং ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে দেশজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে এই সংস্থা।
 
আগামী প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য উত্তরাধিকার
 
শাবানার বিশ্বাস, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক তৈরি না হলে কোনও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। এই উদ্দেশ্যেই তাঁদের সংস্থা ১৫০টিরও বেশি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বৃহৎ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রতিটি যন্ত্রের ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও সেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। নিজের দীর্ঘ যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকিয়ে শাবানা বলেন, তিনি কোনও নতুন ঐতিহ্য সৃষ্টি করেননি; শুধু তাঁর পূর্বপুরুষেরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করেছেন, সেটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন।
 
যখন বহু শাস্ত্রীয় শিল্পধারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, তখন শাবানা ও ইমরান দাগরের উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের ইতিহাস রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের প্রচেষ্টা ভারতের সঙ্গীত, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য অধ্যায়কে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করছে। দাগর আর্কাইভের নীরব গ্যালারিগুলিতে ইতিহাস কাচের বাক্সে বন্দি হয়ে নেই; বরং প্রতিটি পাণ্ডুলিপি, প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র এবং প্রতিটি স্মৃতির মধ্য দিয়ে আজও অনুরণিত হচ্ছে। সেই অনুরণন নিশ্চিত করছে, ধ্রুপদের চিরন্তন সুর আগামী বহু প্রজন্মকেও সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে যাবে।