“ভোটের ময়দানে ‘মা-মেয়ের টান’—অদিতি মুন্সির প্রচারে রাজনীতির থেকেও বড় হয়ে উঠছে সম্পর্ক”
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
সদ্য মা হয়েছেন অদিতি মুন্সি। জীবনের এক নতুন অধ্যায়, এক নতুন অনুভব। কিন্তু সেই মাতৃত্বের উষ্ণতাকেই সঙ্গে নিয়ে তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন রাজারহাট গোপালপুর অ্যাসেম্বলি কাউন্সিল-এর প্রতিটি গলি, প্রতিটি মানুষের কাছে।“আমি মহিলা বলে কোনোদিন অ্যাডভান্টেজ নেইনি, আর নেবোও না”—এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েই তিনি যেমন নিজের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছেন, তেমনই আবার মানুষের সামনে নিজেকে তুলে ধরছেন একেবারে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবেই। ভোট চাইতে গিয়ে তিনি যেন আর শুধুই প্রার্থী নন—তিনি হয়ে উঠছেন সবার আপনজন।
প্রচারের পথে বেরোলেই এক অন্য দৃশ্য। মা-বোনেরা তাঁকে ঘিরে ধরছেন, স্নেহে-ভালোবাসায় বলছেন—“শরীরটা খেয়াল রেখো”, “সুস্থ থেকো”—এই মমতার কথাগুলোই যেন তাঁর চলার পথের শক্তি। অদিতি নিজেই বলেন, এই আগলে রাখা, এই ভালোবাসা তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, বাড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস।
সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচয় আগেই তৈরি। সারেগামাপা-র মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই কণ্ঠ আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সেই সুরই এখন তাঁর প্রচারের সঙ্গী। রোড শো করতে করতেই হঠাৎ থেমে যাওয়া—কখনও কোনো মন্দিরের সামনে, কখনও কোনো পাড়ার মোড়ে। তারপর ভক্তদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে গেয়ে ওঠা ভক্তিগীতি—সেই মুহূর্তে যেন রাজনীতি মিলিয়ে যায়, থেকে যায় শুধু ভক্তি আর ভালোবাসা।
৩৭ বছর বয়সী এই প্রার্থী, পেশায় সংগীতশিল্পী ও একটি মিউজিক সংস্থার পরিচালক, ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনেও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রার্থী হিসেবে আবারও লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। তবে তাঁর প্রচারের মূল সুর সংখ্যার হিসাব নয়, বরং সম্পর্কের সমীকরণ।
< প্রিয় খাবারের প্রশ্নে যখন সহজভাবে বলে ওঠেন—‘কচুবাটা’, তখন আরও স্পষ্ট হয় তাঁর মাটির টান। বড় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই সহজ-সরল মানুষটিকেই যেন সামনে আনছেন তিনি।
একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন মেয়ে হিসেবে—কারও মেয়ে, কারও বোন, কারও দিদি, আর আজ একজন মা। সেই সমস্ত পরিচয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হচ্ছে তাঁর এই পথচলা।
রাজনীতির কড়া বাস্তবতার মধ্যেও তাই অদিতি মুন্সির প্রচার যেন এক অন্য গল্প বলে—এখানে ভোটের লড়াই আছে, কিন্তু তার থেকেও বড় হয়ে উঠছে ভালোবাসা, ভরসা আর সম্পর্কের অটুট বন্ধন।