হাতির পাল রেললাইনে, তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল ‘রাজধানী’! হোজাইয়ে বন দফতর ও রেলকর্মীদের নজিরবিহীন সমন্বয়

Story by  Sudip sharma chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 h ago
হাতির পাল রেললাইনে, তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল ‘রাজধানী’! হোজাইয়ে বন দফতর ও রেলকর্মীদের নজিরবিহীন সমন্বয়
হাতির পাল রেললাইনে, তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল ‘রাজধানী’! হোজাইয়ে বন দফতর ও রেলকর্মীদের নজিরবিহীন সমন্বয়
 
হোজাই, অসম:

সকালে আচমকাই রেললাইনের উপর চলে আসে একদল বুনো হাতি। সামনে হাতির পাল দেখতে পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠেন অসমের হোজাই জেলার বনকর্মীরা। একই সময়ে ডাউন রাজধানী এক্সপ্রেসের লোকো পাইলটের সতর্কতা এবং রেল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
 
ঘটনাটি ঘটে হাওয়াইপুর সেকশনে। হাতির পাল রেললাইন পার হচ্ছে বুঝতে পেরে লঙ্কা রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে লুমডিং রেলওয়ে কন্ট্রোলের নির্দেশে রাজধানী এক্সপ্রেসকে ১৬৭/৮ কিলোমিটার পয়েন্টে থামিয়ে দেওয়া হয়।

ফলে ট্রেনটি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে এবং হাতির পাল নির্বিঘ্নে রেললাইন পার হয়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। কোনও হাতি বা ট্রেনযাত্রীর ক্ষতি হয়নি।

অসমের বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়ার এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে বনকর্মী, রেলকর্মী এবং লোকো পাইলটের দ্রুত সমন্বয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তায় সময়ে সতর্কতা ও বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

অসমে আনুমানিক ৬ হাজার বুনো হাতি রয়েছে। খাবার ও চলাচলের সন্ধানে হাতির পাল প্রায়ই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রেললাইন ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। ফলে ট্রেনের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির স্বাভাবিক চলাচলের পথ সুরক্ষিত রাখতে ওয়াইল্ডলাইফ করিডর, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় উঁচু রেলপথ তৈরি করা গেলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

হাওয়াইপুরের এই ঘটনা আরও একবার দেখিয়ে দিল—একটু সতর্কতা, দ্রুত যোগাযোগ আর সমন্বিত পদক্ষেপই বাঁচাতে পারে বন্যপ্রাণীর প্রাণ এবং মানুষের জীবন।