শিলচর
অসমের কাছাড় জেলার একটি লোহা ঢালাই কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। কারখানার মালিক-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবারের ওই দুর্ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হন আরও কয়েকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার মালিক রাকেশ কুমার সুরানাকে সোমবার গুয়াহাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কাছাড় জেলার উদারবন্দ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কারখানায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে চরম গাফিলতি করা হয়েছিল, যার জেরেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শুধু মালিকই নন, ঘটনার পর আটক হওয়া কারখানার ম্যানেজার-সহ আরও চারজনকেও সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে শীঘ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, লোহা ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হওয়ায় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার, উদারবন্দ থানার অন্তর্গত পাংগ্রাম এলাকার একটি যৌথ শিল্প প্রাঙ্গণে।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কিরণ মুন্ডা, আপ্পু বরাইক, শ্যামল গৌর এবং সাগর নাথ। তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে অসম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত চার শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে, বিস্ফোরণের কারণ এবং কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।