সীমান্তে কমছে উত্তেজনা, বাড়ছে আস্থা: ব্রিকস বৈঠকের পর ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন আশার আলো

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 12 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

নয়াদিল্লি:

দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত ও চিনের সম্পর্ক ফের ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে একের পর এক বৈঠক এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ফের গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) মোতায়েন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, LAC সংলগ্ন এলাকা এবং প্রচলিত প্রশিক্ষণক্ষেত্রে কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড-আকারের ১০টি ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। একইসঙ্গে ভারতের সেনাবাহিনীও LAC-এর সব সেক্টরে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং যে কোনও আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অর্থাৎ সীমান্তে ভারতের সতর্কতা বজায় রেখেই উত্তেজনা কমানোর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

এই পরিবর্তনকে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ ফের সক্রিয় হয়েছে। ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন (WMCC)-এর ৩৩তম ও ৩৪তম বৈঠক মার্চ ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের আলোচনাও ফের শুরু হয়েছে।

সামরিক স্তরেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পূর্ব লাদাখে ২৩তম কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক তারই অন্যতম উদাহরণ। সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী ও সামরিক আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠকও বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

ব্রিকস মঞ্চে মোদি-শি বৈঠকে নতুন বার্তা

ভারত-চীন সম্পর্কের এই ইতিবাচক আবহ আরও স্পষ্ট হয়েছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

শি জিনপিং বলেন, চিন ভারত-চীন সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। একইসঙ্গে পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের দুই বৃহৎ জনবহুল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সংঘাত নয়, সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস

ভারত ও চিনের সম্পর্ক অবশ্য শুধুই সীমান্ত উত্তেজনার ইতিহাস নয়। প্রাচীনকাল থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বৌদ্ধধর্ম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে যোগাযোগের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। স্বাধীনতার পরও দুই দেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার পথে এগোনোর চেষ্টা করেছে। ১৯৫৪ সালের পঞ্চশীল চুক্তি সেই সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

পরবর্তী সময়ে সীমান্ত বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করলেও অর্থনীতি, বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি অটুট রেখে যদি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সামরিক ও কূটনৈতিক সংলাপ আরও বাড়ে, তাহলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্রিকস মঞ্চে মোদি-শি বৈঠক এবং LAC-এ চিনা সেনার মোতায়েন কমার খবর সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।

সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা শুধু ভারত ও চিনের জন্য নয়, গোটা এশিয়ার অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।



অধিক পঢ়ক