মেসিদের এক ঝলক দেখার জন্য সাইকেলে তিনশ দিনে ১৭টি দেশ, ১৭ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন আর্জেন্টটাইন তিন সমর্থক

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
মেসিদের এক ঝলক দেখার জন্য সাইকেলে তিনশ দিনে ১৭টি দেশ, ১৭ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন আর্জেন্টটাইন তিন সমর্থক
মেসিদের এক ঝলক দেখার জন্য সাইকেলে তিনশ দিনে ১৭টি দেশ, ১৭ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন আর্জেন্টটাইন তিন সমর্থক
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

ভালো বাসার জন্য মানুষ কত কী নাই করে! এই বিষ্ময়কর কাণ্ডটি ঘটালেন আর্জেন্টিনার তিন তরুণ সাইক্লিস্ট। জাতীয় দলের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর সমর্থনের নজির গড়লেন মিগেল সিলিও, ভিসেন্তে কনকুলিনি ও ইয়ামান্দু মার্তিনেজ। প্রায় ৩০০ দিনে ১৭ হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে তারা বিশ্ব কাপ শুরুর আট দিন আগেই পৌঁছে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে, যেখানে বর্তমানে বিশ্বকাপের জন্য অবস্থান করছে মেসির আর্জেন্টিনা দল।
 
তিনশ দিনে ১৭ হাজার কিলোমিটার। তাদের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরুটা হয়েছিল গত আগস্টে আর্জেন্টিনার এন্ত্রে রিওস প্রদেশের গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে। তখনও বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র-ই অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা দল কোথায় অবস্থান করবে বা কোথায় খেলবে, সেটা কারোরই জানা ছিল না তখন পর্যন্ত। তবুও প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসায় তারা উত্তর আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেন এবং পথে ১৭টি দেশ অতিক্রম করেন! 
 
দীর্ঘ এই যাত্রায় পেয়েছেন মধুর ফলও
 
এই দীর্ঘ যাত্রার মধুর ফলও পেয়েছেন এই তিন বন্ধু। কানসাসে পৌঁছে পেয়েছেন বিশেষ সম্মান। এই সম্মান আবার যার তার কাছ থেকে নয়, স্বয়ং আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির কাছ থেকে। আর ছিলেন কোচিং স্টাফ এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া। এরা সবাই তাদের স্বাগত জানিয়েছেন।
 
এই অসাধারণ সমর্থনের প্রশংসা করে সভাপতি তাপিয়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, 'আর্জেন্টাইন সমর্থকদের এই রঙের প্রতি ভালোবাসা এবং বিশেষ করে ‘স্কালোনেতা’র প্রতি আবেগের কোনো সীমা নেই, কোনো সীমানা নেই। এটি তারই স্পষ্ট উদাহরণ।'
 
যাত্রাপথে তারা আরেক আর্জেন্টাইন ক্রীড়া কিংবদন্তি এমানুয়েল জিনোবিলির সঙ্গেও দেখা করেন। কনকুলিনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের পর তারা সান আন্তোনিওতে জিনোবিলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথমে তারা একটি এনবিএ সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখেন। এর পরদিন জিনোবিলির আমন্ত্রণে কফি ও মাতে(আর্জেন্টিনার পানিয়)পান করতে বসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে আড্ডা।
 
রাস্তায় এরা সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেও পড়েছিলেন
 
তবে পুরো সফরটি মোটেও সহজ ছিল না। ইকুয়েডরের মাচালা অঞ্চলে কারাগার দাঙ্গার সময় তারা সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। আবার কলম্বিয়ায় একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও তাদেরকে অস্থির পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাত্রা করতে বাধ্য করে।
 
তাদের বড় চিন্তা বিশ্ব কাপের টিকিট
 
সব বাধা পেরিয়ে এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা বিশ্বকাপের টিকিট। ফিফার অফিসিয়াল বিক্রয় পর্বে পাঁচবার চেষ্টা করেও টিকিট পাননি তারা। পুনর্বিক্রয় বাজারে টিকিটের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় কিছুদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাদের একটাই লক্ষ্য,যেভাবেই হোক আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে উপস্থিত থাকা। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই অসাধারণ যাত্রার স্বীকৃতি হিসেবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় কি না।