এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২০-এ সোনা জিতে এবার বিশ্বমঞ্চের পথে তাহুরা খাতুন, ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে চাকরির আর্জি

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
তাহুরা খাতুন
তাহুরা খাতুন
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

হংকং এর এশিয়ান অনূর্ধ্ব কুড়ি অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতে ইতিহাস গড়ার পর এবার বিশ্বমঞ্চে নজর তাহুরা খাতুনের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গরের প্রত্যন্ত ফুলবাড়ী গ্রামের ১৯ বছরের কৃষক পরিবারের এই অ্যাথলিট পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ক্রীড়াবিদ যিনি বিশ্ব অনূর্ধ্ব ২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন। এবার তার লক্ষ্য আসন্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড অনূর্ধ্ব-২০ অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের মিশ্র ৪x৪০০ মিটার রিলে ইভেন্টে দেশের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করা।

এরপর তার স্বপ্ন অলিম্পিকে দেশের হয়ে সোনার পদক জেতা।  এশিয়ান অনূর্ধ্ব কুড়ি প্রতিযোগিতায় মহিলাদের ৪x৪০০ মিটার রিলে দৌড়ে সোনা জিতে তিনি এই  বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নামার ছাড়পত্র পেয়েছেন।
 
খেলার মাঠে তাহুরা খাতুন
 
উল্লেখ্য বিগত পাঁচ বছর ধরেই স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার পূর্বাঞ্চল কেন্দ্রে কোচ সঞ্জয় ঘোষ ও যশপাল নূরের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করছেন তাহুরা। সাইয়ে যাওয়ার আগে আর্থিক সংকটের কারণে তার প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ায় সুযোগ পাওয়ার পরে বদলে যায় তার জীবন। 
 
হংকংয়ে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে বাড়ি ফেরার পর কৃষক পরিবারের এই মেয়েকে নিয়ে এলাকায় উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তার পরিবারেও এখন দারুন খুশির আমেজ।
 
শুধু সোনাই নয় ভারতীয় দল নতুন মিট রেকর্ড গড়েছে। হংকং এর ইউথ স্পোর্টস মাঠে  ভূমিকা নেহাতে,শেহনূর বাওয়া ও নিরু পাঠকের সঙ্গে সে ৪x৪০০ রিলেতে অংশ নিয়েছে সে। ৩.৩৮.০৭ সেকেন্ডে রিলে দৌড় শেষ করে শুধু প্রথম নয়, নতুন মিট রেকর্ডও গড়েছেন তাহুরা। 
 
কৃষক পরিবারের মেয়ে তহুরা, বাবা তোয়েব আলী মীর অন্যের জমিতে চাষ করেন। মা আনোয়ারা বিবি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। এই আর্থিক অনটনের মধ্যেও নাছোড়বান্দা মেয়েকে তারা এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। 
 
তাহুরা খাতুন
 
তাহুরার দাদা পেশায় শিক্ষক মীর আলমগীর বলেন, "চার ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে ও ছোট। ছোট থেকেই দুষ্টুমি দেখে ওকে খেলার জগতে দেওয়া হয়। ভাঙ্গরের ফুলবাড়ীর মত পিছিয়ে পড়া গ্রাম থেকে সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশকে সোনা এনে দিয়েছে। তার জন্য আমরা ও এলাকার সবাই গর্বিত।"
 
তার স্থানীয় শিক্ষক ও প্রশিক্ষক বাগবুল ইসলামের নজরে পড়ে তার অসাধারণ শারীরিক ক্ষমতা। তার প্রশিক্ষনে তাহুরার পথচলা শুরু।তিনি তাহুরাকে নিয়ে আসেন ভাঙ্গর স্পোর্টস একাডেমীতে। আর সেখান থেকেই চলছে তাহুরার এই সোনার দৌড়।
 
২০১৯ সালে জাতীয় স্তরে তার প্রথম পদক। তারপর ২০২১ সালে জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের  হয়ে সোনা জয় করলেন তাহুরা। বর্তমানে সে সল্টলেকের সাই হস্টেলে থেকে অনুশীলনের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করছে। 
 
অনূর্ধ্ব কুড়ি এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী তাহুরাকে সম্বর্ধনা দিতে রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী  ইন্দ্রনীল খাঁ নব মহাকরণে নিজের দপ্তরে ডেকে ছিলেন। তার হাত থেকে সম্বর্ধনা পেয়ে তাহুরা অভিভূত। সংসারের কথা বলে সে একটি চাকরিরও আবদার করেছেন ক্রীড়া মন্ত্রীর কাছে। 
 
তাহুরা খাতুনের পোস্টার
 
ক্রীড়া মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সর্বতোভাবে সাহায্য করবে তাকে। যোগ্য ক্রীড়াবিদদের খেলো ইন্ডিয়া স্কিমের অধীনে তাকে নিয়ে আসা হবে এই প্রতিশ্রুতিও দেন ক্রীড়া মন্ত্রী। যাতে কোনোভাবে ক্রীড়াবিদরা বঞ্চিত না হয়। ক্রীড়া মন্ত্রীর সম্বর্ধনা মঞ্চে হঠাৎই দেখা হয়েছিল এশিয়াডে সোনা জয়ী জ্যোতির্ময়ী শিকদারের। তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু উপদেশ দেন। সেই উপদেশ পেয়ে তাহুরা অভিভূত!