শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী:
আইপিএল ও পিএসএলের মিলটা এখন সামির নামে। ভারত ও পাকিস্তানের চলমান দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সামিরের। না, এক ক্রিকেটার দুই লিগেই খেলছেন না!
আইপিএলে সর্বোচ্চ রান যিনি করেছেন, তাঁর নাম সামির রিজভি, পিএসএলে সর্বোচ্চ রান সামির মিনহাসের। দিল্লির হয়ে খেলা সামির রিজভির ২ ম্যাচে রান ১৬০, আর ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সামির মিনহাসের ৩ ম্যাচে রান ১৮০।
আইপিএলে সামির রিজভি খেলছেন তিন মরসুম ধরে। যদিও ভালো খেলে শিরোনাম হয়েছেন কম। ২০২৪ আইপিএলের নিলামে ২০ লাখ ভিত্তিমূল্যের এই ক্রিকেটারকে ৮ কোটি ২০ লাখে দলে নিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস।
চেন্নাইতে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের মতো মাস্টারমাইন্ডরা রিজভির মধ্যে এমন কিছু তাঁরা দেখেছিলেন, যে কারণে টাকা ঢালতে হাত গুটিয়ে নেননি। তবে চেন্নাইয়ের প্রত্যাশামতো কিছুই করতে পারেননি রিজভি। ৮ ম্যাচ খেলে রান করেছেন মাত্র ৫১। তাই এত দামের সামির রিজভিকে তারা আর ধরে রাখেনি।
সেই সামির রিজভি পরের নিলামে কত দামে বিক্রি হয়েছিলেন, জানেন? মাত্র ৯৫ লাখে। কিনেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ৫ ম্যাচে। রান করেছিলেন মোট ১২১, যার মধ্যে আসরের শেষ ম্যাচে খেলেছিলেন ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। সেটা দেখেই কিনা কে জানে, দিল্লি তাঁকে ধরে রাখে। এই সিদ্ধান্তই এখন পর্যন্ত কাজে লেগেছে দিল্লির।
২২ বছর বয়সী রিজভি এবার নতুন মরসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই দিল্লিকে জিতিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে লক্ষ্ণৌর বিপক্ষে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর শনিবার মুম্বাইয়ের বিপক্ষে খেলেছেন ৯০ রানের ইনিংস। আর দুটি ম্যাচেই হয়েছেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। গত বছর দিল্লির শেষ ম্যাচটিতেও হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। আইপিএলে টানা ৩ ম্যাচে ম্যাচ সেরা হওয়া অষ্টম খেলোয়াড় এখন সামির রিজভি।
অন্যদিকে পাকিস্তানেরও আছেন একজন সামির। তিনি হলেন সামির মিনহাস। তিনিও এখন আলোচনায়। ১৯ বছর বয়সী এই ওপেনার টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে করেছেন ২৮ রান। পরের ম্যাচে ৮২ রানে অপরাজিত, শনিবার খেলেছেন ৭০ রানের ইনিংস।
সামির মূলত আলোচনায় আসেন গত ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ কাঁপিয়ে। সেবার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলেন ১৭১ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। যুব ওয়ানডেতে এটিই ছিল পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। পুরো টুর্নামেন্টে ৪৭১ রানের করে তিনি হয়ে ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।এবারই প্রথম পিএসএলে খেলছেন সামির মিনহাস। তাঁকে ১ কোটি ৯০ লাখে কিনেছে ইসলামাবাদ।
সামিরের বাবা কাশিফ মিনহাজ নিজেও একসময় ক্রিকেটার ছিলেন। সন্তানের ক্রিকেটে আগ্রহ দেখে তিনিই তাঁকে স্থানীয় ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাবে ভর্তি করে দেন। গত এশিয়া কাপ ফাইনালে সেঞ্চুরির পর সামির তাঁর বাবার কথা বলতে গিয়ে জানান, ‘বাবা আমাকে ক্রিকেট খেলতে উৎসাহিত করেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সব সুযোগ করে দেন।’
মজার ব্যাপার হলো, বাবা কাশিফ মিনহাজ এখন একজন পেশাদার ক্রীড়া আলোকচিত্রী। শনিবার সামির যখন ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিচ্ছিলেন, সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ছবিগুলো ফ্রেমবন্দী করেছেন তাঁর গর্বিত বাবা।
তবে ক্রিকেটের যাঁরা নিখাদ দর্শক, তাঁদের চোখে এখন পাকিস্তানের সামির আর ভারতের সামির একসঙ্গে ধরা পড়ছেন ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান হিসেবে।