মুজফ্ফরপুর, বিহার:
অর্থের অভাব স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। দিনের পর দিন সংগ্রাম, সীমাহীন পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে বিহারের এক শ্রমিকের ছেলে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন। মুজফ্ফরপুরের তরুণ মেধাবী মহম্মদ এহতেশাম রিজভি এবার অংশ নিতে চলেছেন আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াড (IESO)-এ, যা আগামী ২০ থেকে ২৭ আগস্ট ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে।
জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, খারৌনার দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এহতেশাম সারা দেশের হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে ভারতের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিয়েছেন। সবচেয়ে গর্বের বিষয়, গোটা দেশ থেকে নির্বাচিত মাত্র চারজন শিক্ষার্থীর একজন তিনি।কিন্তু এহতেশামের সাফল্যের গল্প শুধু একটি অলিম্পিয়াডে নির্বাচিত হওয়ার গল্প নয়; এটি প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি।
তার বাবা মহম্মদ সেরাজ আনসারি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সীমিত আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। মা চাঁদ তাবাসসুম সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে কখনও পিছপা হননি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও ভূবিজ্ঞান বিষয়ে এহতেশামের গভীর আগ্রহ ছিল। স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরে পৃথিবীর গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমিকম্প ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করতেন তিনি। সেই আগ্রহই তাকে জাতীয় পর্যায়ের কঠিন বাছাইপর্ব পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দরজায় পৌঁছে দিয়েছে।
শিক্ষকদের মতে, এহতেশামের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অধ্যবসায়। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। বরং প্রতিটি বাধাকেই নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এহতেশামের এই অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, গোটা বিহার এবং দেশের জন্য গর্বের বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সাফল্য প্রমাণ করে যে মেধা ও পরিশ্রমের সামনে দারিদ্র্য কখনও স্থায়ী বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
ইতালির আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের পতাকা হাতে দাঁড়ানোর আগে এহতেশাম এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। দিনমজুরের ঘর থেকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের মঞ্চে পৌঁছানোর এই যাত্রা দেখিয়ে দিল—স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে সীমাবদ্ধতাও একদিন হার মানে।
এহতেশামের সাফল্য যেন নতুন প্রজন্মকে বার্তা দেয়—পরিস্থিতি নয়, সংকল্পই ভবিষ্যৎ গড়ে।