কলকাতা:
টানা বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানে ভেঙে পড়ল প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি বাড়ির বড় অংশ। ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ষাটোর্ধ্ব উর্মিলা সাহু নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। বাড়িটির ভিতরে আটকে পড়া প্রায় ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ ৩১, ব্রজদুলাল স্ট্রিটের পুরনো তিনতলা বাড়িটির একাংশ আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং সোমবার থেকেই ধীরে ধীরে অংশবিশেষ ভাঙছিল। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির পিছনের দিকে থাকা উর্মিলা সাহু ইট ও চাঙরের নীচে চাপা পড়েন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এনডিআরএফ-এর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একে একে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কলকাতা পুরসভা। তবুও প্রায় ২০ জন সেখানে বসবাস করছিলেন। সরু গলি ও বাড়িটির একমাত্র প্রবেশপথের কারণে উদ্ধারকাজেও সমস্যা তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে কলকাতার পুরনো ও বিপজ্জনক বাড়িগুলির নিরাপত্তা। একদিকে লাগাতার বৃষ্টি, অন্যদিকে বহু বছরের জরাজীর্ণ কাঠামো—দুইয়ের মিলিত প্রভাবে শহরে বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। মাত্র একদিন আগেই হাওড়ায় একটি শতবর্ষপ্রাচীন বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল।
একদিকে উদ্ধার হওয়া বাসিন্দাদের স্বস্তি, অন্যদিকে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু—জোড়াবাগানের ঘটনায় ফের সামনে এল বিপজ্জনক বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন।