ধর্মের বেড়াজাল পেরিয়ে মায়ের আরাধনায় মুসলিম যুবক! আগরতলায় কাসেমের বাড়ির কালীপুজোয় সম্প্রীতির অনন্য নজির
নূরুল হক / আগরতলা
ধর্মের পরিচয় আলাদা হতে পারে, কিন্তু ভক্তি, বিশ্বাস ও মানবিকতার কোনও ধর্মীয় সীমানা নেই। সেই বার্তাই যেন প্রতিবারের মতো এবারও তুলে ধরতে চলেছেন খয়েরপুরের পশ্চিম নোয়াবাদির মুসলিম যুবক কাসেম মিয়া। দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত মাতা ত্রিপুরেশ্বরী কালীমায়ের আরাধনায় মেতে উঠতে চলেছেন ৩৮ বছরের যুবক। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন কাসেম মিয়া। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই বিরল দৃষ্টান্ত ইতিমধ্যেই এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরেও পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রতিবছর দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে কাসেম মিয়ার বাড়িতে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক নিশিপুজো। এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে এক বিশেষ ঐতিহ্য ও আবেগ। গত বছর দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে যে ঘট স্থাপন করে মায়ের আরাধনা শুরু হয়েছিল, বৃহস্পতিবার বিশেষ পূজার্চনার মধ্য দিয়ে সেই ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে আগামী বছরের বাৎসরিক পুজোর প্রস্তুতি।
পুজোর আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী শনিবার, ৭ নভেম্বর রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে মায়ের অধিবাস। এরপর আগামী রবিবার সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় গঙ্গা আনয়ন ও মায়ের নতুন ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাৎসরিক নিশিপুজোর মূল পর্ব। ধর্মীয় রীতি ও নিষ্ঠা মেনেই সম্পন্ন হবে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান।
কাসেম মিয়ার এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং তা সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে ধর্মের ভিন্নতা মানুষকে আলাদা করার কথা নয়, সেখানে তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের এই সাধনা তুলে ধরছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক অনন্য ছবি। তাঁর বাড়ির এই কালীপুজোতে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ভক্তি ও মানবিকতার বন্ধনে মিলিত হন মানুষ। এলাকার সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই এই পূজাকে কেন্দ্র করে বিশেষ আবেগ তৈরি হয়েছে।
মাতা ত্রিপুরেশ্বরী কালীমায়ের ছবি
বর্তমান সময়ে যখন নানা কারণে সমাজে বিভেদের ছবি সামনে আসে, তখন কাসেম মিয়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন করে সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে। তাঁর বিশ্বাস ও ভক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পুজো প্রমাণ করে, ঈশ্বর আরাধনার পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবিকতা ও সম্প্রীতির ভাষা এক। আর সেই ভাষাতেই খয়েরপুরের পশ্চিম নোয়াবাদি থেকে প্রতিবারের মতো এবারও ছড়িয়ে পড়তে চলেছে একতার বার্তা।