শান্তি সম্প্রীতির বার্তা শাহ আলমের, পাহাড়ি বাঙালি ঐক্যের নতুন সম্ভাবনা ত্রিপুরায়

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
তিপড়া মথার মাইনরিটি চেয়ারম্যান শাহ আলম কর্মীদের সাথে(ফাইল ছবি)
তিপড়া মথার মাইনরিটি চেয়ারম্যান শাহ আলম কর্মীদের সাথে(ফাইল ছবি)
 
আগরতলা:

ত্রিপুরায় সদ্য সমাপ্ত টি টি এডিসি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ এবং অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এবার শান্তির বার্তা দিলেন তিপড়া মথার মাইনরিটি চেয়ারম্যান শাহ আলম। এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েক মাস যাবতই তিনি পাহাড়ে জনজাতি অংশের মানুষের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক আরো মজবুত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে চলছেন। একইভাবে তার একাধিক কর্মসূচিতে বাঙালি অংশের মানুষকেও কাছে টানার প্রমাণও সামনে উঠে এসেছে।
 
 

কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাতে গুনা কিছু লোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে নষ্ট করে পাহাড়ে জাতি জনজাতির মানুষ সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়িয়ে দিয়ে ভোটের রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ। এমনকি নির্বাচনের পরও বিভিন্ন দিকে সন্ত্রাসের অভিযোগ এবং সেই সন্ত্রাসকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অভিযোগ বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মধ্যে হামলা হুজ্জুতির নাটক মঞ্চস্থ করে নির্দিষ্ট একটি অংশের দিকে হামলার অভিযোগ ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। গত কিছুদিন যাবত এই সমস্ত ঘটনায় কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সামান্য বিশৃঙ্খলতা রয়েছে।
 
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাক্তার মানিক সাহা ইতিমধ্যেই এই সমস্ত বিষয় সরজমিনে খবর নিতে পুলিশের মহা নির্দেশক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলিতে পরিদর্শন করছেন। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ছুটে যান সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের জনজাতি অধ্যুষিত দয়ালপাড়া এলাকায়। অভিযোগ সেখানে ভোটের দিন থেকে বোমাবাজি সহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বিষয়গুলি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হলেও একটা অংশ এই ঘটনাগুলিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে মাঠে নেমেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন এবং ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন পুলিশ প্রশাসনকে।
 
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পাশাপাশি এদিন দয়ালপাড়ায় জনজাতিদের মাঝে ছুটে যান তিপড়া মথার মাইনরিটি চেয়ারম্যান শাহ আলম। তিনি গিয়ে এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার কিছু জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে ক্ষোভ ছিল প্রশাসনের উপর। শাহ আলম সেখানে গিয়ে ক্ষুব্ধ নাগরিককে শান্ত করেন। শাহ আলমকে কাছে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেন জনজাতি অংশের মানুষজন। শাহ আলম সেখানে শান্তি এবং সম্প্রীতির বার্তা দেন।
 
তিনি বলেন ভোট আসবে যাবে কিন্তু সামাজিক জীবনে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। এজন্য কোনভাবেই হিংসা করা চলবে না। তিনি জাতি জনজাতি, হিন্দু-মুসলিম উভয় অংশের মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহবান করেন। ভোটের রাজনীতি ভুলে তিনি সবাইকে এক হতে আহবান করেন। একইভাবে বিভিন্ন স্থানে হামলা হুজ্জতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনজাতিদের তিনি শান্ত করে আইনের প্রতি ভরসা রাখার আহ্বান রাখেন।
 
তিনি বলেন দেশে আইন আছে এবং আমাদের সেই আইনের উপর ভরসা রেখেই শান্তি বজায় রাখতে হবে। তার এইসব কথায় এদিন জনজাতি অংশের মানুষজন সহমত পোষণ করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শান্ত হন। শাহ আলম ত্রিপুরার জনজাতি মুসলিম সহ বাঙ্গালিদের নিয়ে এক বিশেষ  সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।