জম্মু-কাশ্মীর: কালাকোটে সুফি সাধক সৈয়দ রাসূল শাহ ওরফে নঙ্গা বাজি সাহিবের ৬৯তম উরস সম্পন্ন
রাজৌরি (জম্মু-কাশ্মীর)
জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার কালাকোট উপমণ্ডলের বল্লি পঞ্চায়েতে প্রসিদ্ধ সুফি সাধক সৈয়দ রাসূল শাহ, যিনি ভক্তদের কাছে নঙ্গা বাজি সাহিব নামে পরিচিত, তাঁর ৬৯তম বার্ষিক উরস গভীর শ্রদ্ধা, ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেন এবং দরগায় হাজিরা দিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের জন্য প্রার্থনা করেন।
এই উরসের আয়োজন করা হয় দরগার রক্ষণাবেক্ষণকারী সৈয়দ বাজি আলতাফ হুসেন শাহ সাহিব-এর তত্ত্বাবধানে। তিনি জানান, এ বছরও জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এখানে এসেছেন। বিশেষ বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে হিন্দু, মুসলিম, শিখসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশ নেন, যা এই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, সুফি সাধক নঙ্গা বাজি সাহিবের উরস শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রেম, শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি মাধ্যম। দরগায় আগত ভক্তরা তাঁদের মনের ইচ্ছা নিয়ে আসেন এবং এখানকার আধ্যাত্মিক পরিবেশ তাঁদের শান্তি ও আশা দেয়।
উরস উপলক্ষে বিশেষ নামাজ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে জম্মু-কাশ্মীরসহ সমগ্র দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উপস্থিত ধর্মীয় বিদ্বানরা যুবসমাজকে নেশার মতো কু-অভ্যাস থেকে দূরে থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ইতিবাচক জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।
এই উপলক্ষে “সৈয়দ রাসূল শাহ (নঙ্গা বাজি সাহিব) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট”-এরও উদ্বোধন করা হয়। এই ট্রাস্টের অধীনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাজৌরি জেলার প্রত্যন্ত ও বঞ্চিত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের উন্নত শিক্ষা প্রদান করা। ট্রাস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এবং পরে দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষদের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফায়াত হুসেন-এর মতে, প্রচলিত বিশ্বাস হলো—যে ব্যক্তি আন্তরিক মন নিয়ে এখানে এসে দোয়া করেন, তাঁর মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সেই কারণেই শুধু উরসের সময় নয়, সারা বছরই ভক্তরা এই দরগায় আসেন।
উরস চলাকালীন দরগায় লঙ্গরেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসে আহার করেন। এই প্রথা সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করে। নঙ্গা বাজি সাহিবের দরগাহ আজও শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার এক জীবন্ত নিদর্শন হয়ে রয়েছে।