নবান্নে নতুন সমীকরণ! অর্থমন্ত্রীর দৌড়ে সঞ্জীব সান্যাল, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের জল্পনা তুঙ্গে
দেবকিশোর চক্রবর্তী
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা—নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী কে হচ্ছেন? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ইতিমধ্যেই পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। আর সেই আবহেই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে এক নাম—সঞ্জীব সান্যাল।
বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে কার্যত নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ার ইঙ্গিতই মিলেছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, একটি আসন ছাড়তে হবে তাঁকে। সেক্ষেত্রে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনিবার্য বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সেই উপনির্বাচন ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।
জল্পনা বলছে, নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হতে পারে অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালকে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিচিত মুখ সান্যাল। তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে দক্ষতাকে সামনে রেখেই তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ দফতর রাজ্য সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্ক, বকেয়া ইস্যু, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ—সব ক্ষেত্রেই দক্ষ আর্থিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। ফলে অর্থমন্ত্রীর পদে এমন কাউকেই বসাতে চাইবে সরকার, যিনি প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল।
সঞ্জীব সান্যালের নাম উঠে আসার পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীতি নির্ধারণী স্তরে কাজ করেছেন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। শিল্প বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো বিষয়েও তাঁর ভাবনা আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা হয়নি। শাসকদলের তরফেও অর্থমন্ত্রীর নাম নিয়ে মুখ খোলা হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, উপনির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে এই বিধানসভা। সেখানে সঞ্জীব সান্যালের মতো একজন পরিচিত অর্থনীতিবিদকে প্রার্থী করা হলে তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
এখন দেখার, জল্পনা কতটা সত্যি হয়। অর্থ দফতরের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায় এবং নন্দীগ্রামে আদৌ সঞ্জীব সান্যালকে দেখা যায় কি না, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।