দীপোৎসব ঘিরে কুমোর, কৃষক ও শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে: যোগী আদিত্যনাথ
লখনউ:
অযোধ্যার দীপোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, স্থানীয় কুমোর, কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিরও নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। সোমবার এমনই দাবি করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে হিন্দিতে একটি পোস্টে যোগী বলেন, অযোধ্যায় জ্বলে ওঠা প্রতিটি প্রদীপ একজন কুমোরের পরিশ্রম, কৃষকের উৎপাদন এবং একটি পরিবারের জীবিকায় নতুন আলো ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালের আগে এই ছবিটা ছিল না। সেই সময় রামনগরীর বিপুল সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাকে স্থানীয় শিল্পী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
যোগীর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও দিশায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে। লক্ষ লক্ষ প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠা দীপোৎসব কুমোর, শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন কাজ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। যে মাটির প্রদীপে আলোকিত হচ্ছে রামনগরী, সেই প্রদীপই পরিশ্রমী পরিবারের ঘরে সমৃদ্ধির আশাও জাগিয়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য একটি পোস্টে অযোধ্যার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে দশম মহা দীপোৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে ‘যোগী কি পাতি’ শীর্ষক একটি চিঠিও প্রকাশ করেন তিনি।
চিঠিতে যোগী লেখেন, সাতটি পবিত্র নগরীর অন্যতম অযোধ্যা তার দশম মহা ও দিব্য দীপোৎসবকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। অন্ধকার থেকে আলো, হতাশা থেকে আশা এবং বিশ্বাস থেকে উন্নতির যাত্রার প্রতীক এই উৎসব। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র প্রদীপ জ্বালানোর অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতের চিরন্তন চেতনা ও সাংস্কৃতিক গৌরবের পুনর্জাগরণের এক মহোৎসব।
সরযূ নদীর তীরে প্রদীপের মালা এবং রাম কি পৈড়িতে লক্ষ লক্ষ প্রদীপের ঝলকানিকে স্বর্গীয় দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশে বিশেষ প্রদর্শনী এবং শিল্পীদের অংশগ্রহণ এই উৎসবের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেও জানান যোগী।
পাশাপাশি, দীপাবলিতে প্রতিবেশী কোনও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান তিনি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের প্রদীপ, মিষ্টি ও নতুন পোশাক উপহার দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কুমোর ও শিল্পীদের তৈরি মাটির প্রদীপ এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার মাধ্যমে তাঁদের পরিশ্রমকে সম্মান জানানোর আহ্বানও জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।