ইমাম ভাতা বন্ধে সমর্থন হুমায়ুন কবিরের, একসঙ্গে বন্ধের দাবি দুর্গাপুজো অনুদানে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 9 m ago
ইমাম ভাতা বন্ধে সমর্থন হুমায়ুন কবিরের, একসঙ্গে বন্ধের দাবি দুর্গাপুজো অনুদানে
ইমাম ভাতা বন্ধে সমর্থন হুমায়ুন কবিরের, একসঙ্গে বন্ধের দাবি দুর্গাপুজো অনুদানে
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

পশ্চিমবঙ্গে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে তিনি দাবি তুলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া সব ধরনের সরকারি অনুদানই বন্ধ করা হোক। দুর্গাপুজো কিংবা মন্দিরের জন্য দেওয়া সরকারি অনুদানও বন্ধ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
 
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে কোনও অর্থসাহায্য দেওয়া উচিত নয়। ইমামদের ভাতা বন্ধ হলে দুর্গাপুজো অনুদান বা মন্দিরের অনুদানও বন্ধ করতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়, তাহলে কোনও বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আলাদা করে আর্থিক সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন তীব্র আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম এবং হিন্দু—দুই সম্প্রদায়কেই তুষ্ট করার রাজনীতি করেছেন।” ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভোটব্যাঙ্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
 
তবে শুধুমাত্র সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন কবির। নতুন সরকারকে এক বছরের সময় দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমি এই নতুন সরকারকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এক বছরের সময় দিতে চাই। বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব।” পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। সরকারের উচিত ধর্মীয় অনুদানের বদলে সেই শূন্যপদ পূরণের দিকে নজর দেওয়া।
 
এদিন কোরবানির সময় পশু জবাই নিয়েও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সচিন মক্করের সঙ্গে দেখা করে ইদ-উল-আজহায় নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পশু কোরবানির ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এমনভাবে কোরবানি হোক যাতে অন্য কারও অসুবিধা না হয় এবং আইনশৃঙ্খলাও বজায় থাকে।”
উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবির সম্প্রতি বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এবার ইমাম ভাতা এবং ধর্মীয় অনুদান নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
 
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হুমায়ুন কবিরের এই অবস্থান রাজ্যের প্রচলিত তুষ্টিকরণ রাজনীতির বিরুদ্ধে এক ধরনের বার্তা। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, ধর্মীয় অনুদান বা ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের উচিত সব সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল থাকা।
 
রাজ্যে ইমাম ভাতা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও এই ভাতা নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে মামলা। একদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এটিকে সামাজিক সহায়তা হিসেবে দেখেছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি ছিল, করদাতাদের অর্থ কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। সেই পুরনো বিতর্কই এবার নতুন করে সামনে এল হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।