২০ বছরের আইনি লড়াই শেষে জয়, পান দোকানিকে ১৮ হাজারের চেক দিল ডাকঘর

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 45 m ago
২০ বছরের আইনি লড়াই শেষে জয়, পান দোকানিকে ১৮ হাজারের চেক দিল ডাকঘর
২০ বছরের আইনি লড়াই শেষে জয়, পান দোকানিকে ১৮ হাজারের চেক দিল ডাকঘর

সিউড়ি:

প্রবাদে বলে, ‘ধৈর্যের ফল মিঠে’। দীর্ঘ ২০ বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষে সেই প্রবাদই যেন সত্যি হল দুবরাজপুরের পান দোকানি পরিবারের ক্ষেত্রে। আদালতের নির্দেশের পর শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের টাকা মেটাতে বাধ্য হল ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুলালচন্দ্র খাগের হাতে তুলে দেওয়া হল ১৮ হাজার ৪৭৩ টাকার চেক।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৬ সালে। দুবরাজপুর ডাকঘরের দেওয়াল ঘেঁষে ছোট একটি পানের গুমটি চালাতেন স্থানীয় বাসিন্দা অজিত কুমার খাগ। ডাকঘরের জমিতে থাকা একটি বড় বটগাছের কারণে তাঁর দোকানের ছাদে ফাটল ধরছিল বলে অভিযোগ। ক্ষতিপূরণের দাবিতে ওই বছরই আদালতের দ্বারস্থ হন অজিতবাবু।

২০০৯ সালে দুবরাজপুর আদালত ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে ১৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই টাকা মেটানোর পরিবর্তে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ সিউড়ি জজ কোর্টে আপিল করে। এরই মধ্যে অজিতবাবুর মৃত্যু হলে আইনি লড়াইয়ের দায়িত্ব নেন তাঁর ছেলে দুলালচন্দ্র।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০২৫ সালে জজ কোর্ট ডাকঘরের আপিল খারিজ করে দেয়। আগের ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে আরও ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হয়। সব মিলিয়ে পাওনা দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এরপরও টাকা না মেলায় ফের আদালতের দ্বারস্থ হন মামলাকারী।

মামলাকারীর আইনজীবী স্বরূপ আচার্য জানান, বকেয়া আদায়ের আবেদনের পর আদালত সম্প্রতি পোস্টমাস্টারের ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার ও কম্পিউটার ক্রোক করে নিলামে তোলার নির্দেশ দেয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতের নাজির ওই নির্দেশ কার্যকর করতে দুবরাজপুর পোস্ট অফিসে পৌঁছন। এরপরই ডাকঘর কর্তৃপক্ষ টাকা মেটানোর উদ্যোগ নেয়।

শেষ পর্যন্ত সোমবার সিউড়ি সাব-ডিভিশন পোস্ট অফিসের কর্তা চন্দন সৌ দুলালচন্দ্রের হাতে ১৮ হাজার ৪৭৩ টাকার চেক তুলে দেন।

চেক হাতে পেয়ে দুলালচন্দ্র বলেন, এতদিনের লড়াইয়ের পর টাকা পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন মামলা লড়ার জন্য আইনজীবী স্বরূপ আচার্যকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটি মেরামত করে বাবার ব্যবসা ফের নিজেই শুরু করতে চান।

স্বরূপ আচার্যের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২০ বছর ধরে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ টাকা মেটাতে টালবাহানা করেছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মক্কেলের হাতে চেক পৌঁছেছে।