শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের AI প্রযুক্তির ঠাকুর এবার কালিয়াগঞ্জে, উদ্দিপনায় উত্তাল এলাকার মানুষ।

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
শেষ মুহূর্তে মাকে সাজাতে শিল্পীর তুলির টান
শেষ মুহূর্তে মাকে সাজাতে শিল্পীর তুলির টান
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

কলকাতার কুমারটুলির প্রখ্যাত প্রতিমা শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিমা এবার পাড়ি দিচ্ছে উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জে। ভৌগোলিকভাবে যা উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত হলেও দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। 
 
কুমারটুলির ইন্দ্রজিৎ পালের ‘থ্রি-ডি ম্যাজিক’ এবার কালিয়াগঞ্জের পুজোয় অভিনব চমক। বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এআই প্রয়ুক্তির ঠাকুর দেখা নিয়ে কালিয়াগঞ্জের মানুষের মধ্যে বাড়ছে  উদ্দিপনা। 
 
কারন এবারের পূজোয় এই প্রখ্যাত প্রতিমা শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের এই মূর্তিটি সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। প্রথাগত মাটির মূর্তিতে সম্পূর্ণ নতুন এক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি তৈরি করেছেন এমন এক প্রতিমা, যা দেখতে এবার দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসবেন উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জে।
 
শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল মায়ের এআই মূর্তি তৈরি কিভাবে করেছেন তার সেই পরিকল্পনাটা দেখাচ্ছেন
 
কী এই বিশেষ প্রযুক্তি?
 
শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল এবার তাঁর প্রতিমায় ব্যবহার করেছেন বিশেষ থ্রি-ডি এফেক্ট এবং আমেরিকান ডায়মন্ডের চোখ। মাটির সাবেকিয়ানার সাথে আধুনিক আলোক এবং ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তির এমন সুনিপুণ সংমিশ্রণ সচরাচর দেখা যায় না। দেবীর চোখের মণি ও দৃষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ চকচকে পাথর এবং গ্লাস রিফ্লেক্টিভ মেটেরিয়াল। এর ফলে মণ্ডপের আলো যখনই মায়ের চোখে পড়বে, তখন মনে হবে দেবী জীবন্ত এবং মণ্ডপের যেকোনো প্রান্ত থেকেই দর্শনার্থীরা তাকান না কেন, মনে হবে মা ঠিক যেন তাঁদের দিকেই চেয়ে রয়েছেন। দূর থেকে দেখলে পুরো প্রতিমাটিতে একটি জাদুকরী ত্রিমাত্রিক গভীরতা বা থ্রি-ডি ডাইমেনশন ফুটে উঠবে।
 
কুমারটুলি থেকে কালিয়াগঞ্জ:
 
সাধারণত কলকাতার বড় বড় পুজোতেই এই ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতিমা বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই অনন্য শিল্পকর্মের সাক্ষী এবার হতে চলেছে কালিয়াগঞ্জ। 
 
এআই প্রযুক্তির স্বাদ দিতেই জেলার কর্মকর্তাদের এই প্রয়াস:
 
দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুরের সংযোগস্থলের কালিয়াগঞ্জের পুজো কমিটির কর্তারা বহু আগে থেকেই কুমারটুলির এই শিল্পীর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার মানুষদের কলকাতার পুজোর স্বাদ দিতেই তাদের এই অভিনব উদ্যোগ।
 
উচ্ছ্বসিত শিল্পী ও উদ্যোক্তারা:
 
কুমারটুলির বিশিষ্ট শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের স্টুডিও কলকাতার ১/১, বনমালী সরকার স্ট্রিটের হাটখোলাতে। স্টুডিওতে শেষ মুহূর্তের তুলির টান দিতে তিনি ও তাঁর সহকারীরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। 
 
শিল্পী জানান, "বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে, তখন আমাদের সনাতন মৃৎশিল্পকেও সেই আধুনিকতার ছোঁয়া দিতেই এই প্রয়াস। আমেরিকান হীরা ও বিশেষ প্রতিসরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে মায়ের চোখে এক ঐশ্বরিক দৃষ্টি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কলকাতার বাইরের দর্শকরা আমার এই কাজ দেখে আনন্দ পেলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।"
 
শেষ মুহূর্তে শিল্পী মায়ের মুখমণ্ডলীতে রূপ দিতে ব্যস্ত
 
কালিয়াগঞ্জের ওই পুজো মণ্ডপে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কুমারটুলির এই 'টেক-স্মার্ট' প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছানোর অপেক্ষায় দিন গুনছেন কালিয়াগঞ্জ তথা দুই দিনাজপুরের আবালবৃদ্ধবনিতা। বলাই বাহুল্য, এবারের পুজোয় উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে চলেছে শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের এই সৃষ্টি।
 
তবে কুমারটুলির প্রখ্যাত এই মৃৎশিল্পীর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-অনুপ্রাণিত রোবোটিক দুর্গা প্রতিমাটি এবার বিদেশে যাচ্ছে না। এই বিশেষ প্রতিমাটি শুধুমাত্র যাচ্ছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের দেশপ্রিয় ক্লাবে। 
 
এক নজরে একবার দেখে নেয়া যাক এই অনন্য প্রতিমাটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো: 
 
** শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে প্রতিমার মূল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি করা নকশার ত্রুটিগুলো তিনি নিজের হাতেই সংশোধন করেছেন।
 
** এই প্রতিমার চোখ, চুল এবং অস্ত্রে রিচার্জেবল ইলেকট্রিক-ব্লু লাইট ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো সরাসরি বিদ্যুতের সংযোগ ছাড়াই জ্বলবে।
 
** অন্যান্য আকর্ষণের  মধ্যে থাকছে মহিষাসুরের রূপ এবং মণ্ডপের থিমেও থাকবে এই এআই প্রযুক্তির ছোঁয়া। যেখানে রোবটের মতো আবহ তৈরি করা হবে।
 
প্রতিবছরই কুমারটুলি থেকে এই শিল্পীর অনেক ফাইবার গ্লাসের প্রতিমা বিদেশে যায়, কিন্তু এবার যাচ্ছে না। ইন্দ্রজিৎ পালের তৈরি এই বছরের এই অন্যতম আলোচিত  "স্বপরিবারে এআই দুর্গা" দেখতে হলে দর্শকদের কালিয়াগঞ্জের মণ্ডপেই যেতে হবে।