দুই হাত হারিয়েও থামেনি স্বপ্নের সাঁতার, প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত আব্দুলকাদির

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 15 h ago
দুই হাত হারিয়েও থামেনি স্বপ্নের সাঁতার, প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত আব্দুলকাদির
দুই হাত হারিয়েও থামেনি স্বপ্নের সাঁতার, প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত আব্দুলকাদির
 
মনসুরউদ্দিন ফরিদি

“মানসিকভাবে শক্তিশালী হলে, কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।” এই মন্তব্য আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালার। একজন অসাধারণ সাঁতারু, যার দু’টি হাত না থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুত। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু সাহস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সেই চরম বিপর্যয়কে একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছেন।
 
আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালা। হাত না থাকা এই তরুণ সাঁতারু বর্তমানে সুইমিং পুলের অন্যতম দ্রুততম সাঁতারু হিসেবে পরিচিত। তাঁর কাহিনি সত্যিই এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি তাঁর দু’টি হাত হারিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তিনি একজন আন্তর্জাতিক স্তরের সাঁতারু, যিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এখন তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
 
 
দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালা ‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথোপকথনে গর্বের সঙ্গে বলেন যে, একটি শক্তিশালী মানসিকতা তাঁকে হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। কখনও হার না মানা তাঁর স্বভাব তাঁর জীবনে একটি নতুন দিশা এনে দিয়েছে। যার ফলে, হাত ছাড়া যে জীবন একসময় অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হতো, সেটিই এখন তাঁর কাছে একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
 
মধ্যপ্রদেশের রতলামের বাসিন্দা আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালার কাছে সুইমিং পুলই হয়ে উঠেছিল এমন এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে তিনি জীবনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। সাহস, সংকল্প, আবেগ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রতিবন্ধকতার চাপিয়ে দেওয়া সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছেন।
 
সংগ্রাম ও সাফল্যের এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাঁর বাবা হুসেইন ইন্দোরওয়ালা। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেও ছেলে যাতে হতাশার অন্ধকারে ডুবে না যায়, তা তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। আজ আব্দুলকাদির প্যারা সাঁতারে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিততে সক্ষম হয়েছেন।
 
১০ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক
 
বিদ্যুতের একটি ভয়াবহ শক আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালার জীবনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেটি কোনো সাধারণ শক ছিল না, ছিল ১০,০০০ ভোল্টের এক ভয়ংকর বিদ্যুৎ প্রবাহ।
 
আব্দুলকাদির
 
তিনি ‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-কে জানান, ২০১৪ সালে ভোপালে তাঁর দাদুর বাড়িতে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর দু’টি হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চিকিৎসকদের তাঁর দু’টি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হতে হয়। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর।
 
জীবনটা যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল এবং হতাশা তাঁকে গ্রাস করতে শুরু করেছিল। কিন্তু পরিবারের উৎসাহ ও সমর্থন সেই অন্ধকারকে আলোয় পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
 
দুর্ঘটনার পরবর্তী জীবন
 
সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ছোট্ট আব্দুলকাদিরের সামনে প্রাথমিক এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্মগুলি আবার নতুন করে শেখা। তাঁর শিক্ষার জন্য লেখা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি হাতের পরিবর্তে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তিনি পা দিয়ে লিখতে সক্ষম হয়ে ওঠেন।
 
‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথোপকথনে তাঁর বাবা হুসেইন ইন্দোরওয়ালা বলেন, তিনি নিজের ছেলেকে অন্যদের তুলনায় কোনো দিক থেকে কম বা কোনো কাজ করতে অক্ষম বলে কখনও অনুভব করতে দেননি। তাই তিনি আব্দুলকাদিরকে তাঁর প্রতিবন্ধকতার কারণে কখনও অসহায় হিসেবে দেখেননি। যখনই কেউ তাঁর দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাতেন, তখনই তিনি তাঁদের তা করতে বাধা দিতেন।
 
এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই আব্দুলকাদিরের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল। আব্দুলকাদির নিজেই বলেন, তিনি কখনও ভয় পাননি। জীবনে তিনি যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারবেন, বাবা-মায়ের এই বিশ্বাসই তাঁকে অপরিসীম শক্তি দিয়েছিল।
 
আব্দুলকাদির
 
“হতাশা কোনো বিকল্প নয়”
 
যে দুর্ঘটনা আব্দুলকাদির ইন্দোরওয়ালার জীবন বদলে দিয়েছিল, সেটি তাঁর বাবা হুসেইন ইন্দোরওয়ালার কাছেও কোনো বিপর্যয়ের চেয়ে কম ছিল না। হুসেইন গত ৩৫ বছর ধরে রতলামে বসবাস করছেন এবং তাঁর একটি রং ও হার্ডওয়্যারের ব্যবসা রয়েছে। ‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর মনে হয়েছিল যেন তাঁর ছেলের জীবনের সমাপ্তি ঘটে গেছে।
 
কিন্তু সেই কঠিন সময়ে পরিবারটি একা ছিল না। বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ হুসেইন ও তাঁর পরিবারকে যথেষ্ট সাহস দিয়েছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তাঁরা আব্দুলকাদিরের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের যাত্রায় সম্পূর্ণ সমর্থন করবেন।
 
আব্দুলকাদিরের স্কুলের প্রধান শিক্ষকও তাঁদের বাড়িতে এসে বাবা-মাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে স্কুল তাঁর শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে এবং তাঁকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহায়তা করবে।
 
এই সময়েই পরিবারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্যারা-স্পোর্টসের কিছু ছবি দেখতে পায়। তাঁরা দেখেন, বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা পদক জিতছে। হুসেইনের মনে হয়েছিল, হয়তো তাঁর ছেলের জন্যও একটি নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তখনই আব্দুলকাদিরকে সাঁতারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে শুরু করেন।
 
প্রশিক্ষক রাজা রাঠোর দেখালেন নতুন পথ
 
আব্দুলকাদিরের মতে, এই নতুন শুরুর ক্ষেত্রে আরও একজন ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই ব্যক্তি ছিলেন তাঁর প্রশিক্ষক রাজা রাঠোর, যিনি তাঁকে সাঁতার শেখানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
 
প্রথমদিকে সাঁতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক উন্নতি ও পুনর্বাসন। কিন্তু খুব শীঘ্রই প্রশিক্ষক ও বাবা-মা বুঝতে পারেন যে আব্দুলকাদিরের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। রাজা রাঠোর আব্দুলকাদিরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন এবং আজ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণের জন্য এক টাকাও নেননি।
 
আব্দুলকাদির
 
আব্দুলকাদিরও নিজের সমস্ত শক্তি সাঁতারের জন্য উৎসর্গ করেন। হাত ছাড়া পানিতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজনীয় গতিতে সাঁতার কাটা তাঁর কাছে একেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু নিরন্তর অনুশীলন ধীরে ধীরে এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলিকেই তাঁর শক্তিতে পরিণত করে।
 
ভাবুন তো! মাত্র সাত বছর বয়সে দু’টি হাত হারানোর পর মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি বেলগামে প্যারা ন্যাশনাল গেমসে পরপর বেশ কয়েকটি পদক জিততে সক্ষম হন।
 
জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়
 
‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-এর সঙ্গে কথোপকথনে আব্দুলকাদির জানান, তিনি জাতীয় পর্যায়ে ২৩টি সোনা ও ৩টি রুপোর পদক জয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর এই পারফরম্যান্সই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দরজা খুলে দেয়।
 
ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ২০২৪ সালে মিশরে অনুষ্ঠিত ‘সিটি প্যারা সুইমিং ওয়ার্ল্ড সিরিজ’-এ অংশগ্রহণ করেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। তিনি ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে সোনার পদক এবং ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রুপোর পদক অর্জন করেন।
 
এছাড়াও, ২০২৫ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসেও আব্দুলকাদির ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে ৩টি সোনা ও ১টি ব্রোঞ্জের পদক জিতে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন।
 
এর পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ওয়ার্ল্ড প্যারা সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে তিনি বিশ্বের সেরা প্যারা সাঁতারুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের অসাধারণ সামর্থ্য প্রদর্শন করেন।
 
আব্দুলকাদির
 
পরবর্তী লক্ষ্য: প্যারা এশিয়ান গেমস
 
আব্দুলকাদিরের এই যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দিকে। ১৫ অক্টোবর থেকে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
 
‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-কে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি গান্ধীনগরের ‘স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (SAI) কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এশিয়ান গেমসে পদক জয় করাই তাঁর মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত। তিনি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সুইমিং পুলে কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রশিক্ষণ নেন।
 
তাঁর মতে, তাঁর এই যাত্রা সবে শুরু হয়েছে। তাঁর দৃষ্টি এখন প্যারালিম্পিক গেমসের দিকে নিবদ্ধ। এক দশক আগে ১০,০০০ ভোল্টের বিদ্যুতের শক তাঁর দু’টি হাত কেড়ে নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই দুর্ঘটনা তাঁর অদম্য সাহস কেড়ে নিতে পারেনি।
 
বাবা-মায়ের বিশ্বাস, প্রশিক্ষকের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এবং নিজের নিরন্তর সংগ্রামের জোরে আব্দুলকাদির প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, একজন ব্যক্তি এবং তাঁর স্বপ্নের মধ্যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনও চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না।
 
তাঁর বাবা হুসেইন ইন্দোরওয়ালা বলেন, আব্দুলকাদিরের এই সাফল্য নিশ্চিতভাবেই তাঁর নিজের সংগ্রামের ফল। তবে তিনি এর জন্য বহু মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থনকেও কৃতিত্ব দেন।
 
আব্দুলকাদির দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা হিজ হোলিনেস সৈয়দনা মুফাদ্দল সাইফুদ্দিনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছেন। সৈয়দনা মুফাদ্দল সাইফুদ্দিন তাঁকে আশীর্বাদ করার পাশাপাশি তাঁর সাঁতার প্রশিক্ষণের সমস্ত খরচের দায়িত্ব সম্প্রদায়টি গ্রহণ করেছে।
 
আব্দুলকাদির
 
এক অনন্য বার্তা: যা সকলের কাছে পৌঁছনোর যোগ্য
 
বর্তমানে BBS-এর দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আব্দুলকাদির ‘আওয়াজ- দ্য ভয়েস’-কে গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেন, “আপনি যদি মানসিকভাবে শক্তিশালী হন, তাহলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই আপনার পথের বাধা হতে পারে না।” তিনি বলেন, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, মানুষকে কখনও হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। নিরন্তর কঠোর পরিশ্রম সবসময় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। শৃঙ্খলা জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ।
 
তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তাঁর শক্তিশালী মানসিকতা তাঁকে অভাবনীয়ভাবে সাহায্য করেছে। কখনও হার না মানার মানসিকতা তাঁকে নতুন শক্তি দিয়েছে, যার ফলে দু’টি হাত ছাড়া যে জীবন একসময় কঠিন বলে মনে হতো, সেটিই এখন তাঁর কাছে একেবারে সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
 
নতুন প্রজন্মের প্রতি তাঁর একটি সহজ অথচ শক্তিশালী বার্তা, “কখনও আশা ছেড়ে দিও না। হতাশাকে কখনও তোমাকে পরাজিত করার সুযোগ দিও না। যখন তোমার হাতে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্প থাকে, তখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলিও সহজ হয়ে যায়।”


শেহতীয়া খবৰ