উর্দু সাংবাদিকতায় বিশেষ সম্মান, ‘এক্সচেঞ্জ ফর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কাশ্মীরের ইয়াসমিন খান

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 17 h ago
উর্দু সাংবাদিকতায় বিশেষ সম্মান, ‘এক্সচেঞ্জ ফর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কাশ্মীরের ইয়াসমিন খান
উর্দু সাংবাদিকতায় বিশেষ সম্মান, ‘এক্সচেঞ্জ ফর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কাশ্মীরের ইয়াসমিন খান

নয়াদিল্লি:


দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল মর্যাদাপূর্ণ ‘এক্সচেঞ্জ ফর মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস’। এবারের অনুষ্ঠানে উর্দু সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত হলেন ‘আওয়াজ–দ্য ভয়েস’-এর কাশ্মীরভিত্তিক সাংবাদিক ইয়াসমিন খান।

পুরস্কার গ্রহণের পর ইয়াসমিন খান বলেন, “অনেকেই মনে করেন উর্দু ভাষা সংকটে রয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, উর্দু কখনও সংকটে ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। যতদিন সাধারণ মানুষের ভাষা হিসেবে উর্দু বেঁচে থাকবে, ততদিন উর্দু সাংবাদিকতাও সমান শক্তিতে এগিয়ে যাবে।”

নিজের বক্তব্যে তিনি কাশ্মীরে সংবাদ সংগ্রহের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দিল্লি বা মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে সাংবাদিকতা করার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সীমান্তবর্তী কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করার বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও কাশ্মীরের সাংবাদিকরা প্রতিদিন মানুষের প্রকৃত সমস্যার কথা তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।

ইয়াসমিন জানান, কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে মানুষের সঙ্গে কথা বললে এখনও অধিকাংশ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উর্দুতেই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের গল্পের প্রধান ভাষা এখনও উর্দু। তাই এই ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

গণমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান নেতিবাচকতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমে সহিংসতা, সংঘাত এবং ভয়ের খবরই বেশি গুরুত্ব পায়। তবে ‘আওয়াজ–দ্য ভয়েস’ ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক সংবাদ তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের সাফল্য, সংগ্রাম এবং তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক উদ্যোগকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।

এই সম্মানকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, কাশ্মীরে কর্মরত প্রতিটি সাংবাদিকের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই পুরস্কার কেবল আমার নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করে যাওয়া কাশ্মীরের প্রতিটি সাংবাদিকের।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিরা ইয়াসমিন খানের বক্তব্যকে দায়িত্বশীল, মানবিক ও ইতিবাচক সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের বাস্তব জীবন, ভাষা ও সংস্কৃতিকে সামনে এনে সংবাদ পরিবেশনের যে দৃষ্টান্ত তিনি তৈরি করেছেন, তা আগামী দিনের সাংবাদিকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।