কাটেওয়াড়িতে পৌঁছল অজিত পাওয়ারের মরদেহ, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 5 d ago
কাটেওয়াড়িতে পৌঁছল অজিত পাওয়ারের মরদেহ, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু
কাটেওয়াড়িতে পৌঁছল অজিত পাওয়ারের মরদেহ, শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু
 
বারামতী (মহারাষ্ট্র):
 
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মরদেহ বৃহস্পতিবার তাঁর কাটেওয়াড়ির বাসভবনে আনা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি সকালে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির এই নেতার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছে বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে।

অজিত পাওয়ারের মরদেহ আহিল্যাবাই হোলকর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে বের করে আনার সময় এনসিপি প্রধান ও উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের অসংখ্য সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শিবসেনা নেতা দীপক কেসারকর এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে একে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অজিত পাওয়ার ছিলেন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতা, যিনি খুব ভোরে দিন শুরু করতেন এবং প্রশাসনের উপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল।

এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেসারকর বলেন,“এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সবাই আজ শোকাহত এবং অজিত দাদাকে স্মরণ করছে। তিনি খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ ছিলেন এবং খুব সকালে তাঁর দিন শুরু করতেন। প্রশাসনের উপর তাঁর সম্পূর্ণ দখল ছিল। তিনি মনের দিক থেকেও খুব ভালো মানুষ ছিলেন, তাই তিনি সবাইকে ভালোবাসতেন এবং সবাইও তাঁকে ভালোবাসত। আজ গোটা মহারাষ্ট্র গভীর শোকে ডুবে আছে। এই সময় রাজনীতি করা উচিত নয়। তাঁর বিমান প্রথমে অবতরণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কুয়াশার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমি অজিত পাওয়ার সাহেবের সঙ্গে কংগ্রেসে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু করি। পরে এনসিপি গঠিত হলে তাতে যোগ দিই। দাদা আমাদের সবাইকে ভালোবাসতেন, আর শরদ পাওয়ার সাহেব আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন।”

মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় ধরে (অবিচ্ছিন্নভাবে নয়) উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অজিত পাওয়ারের শেষযাত্রা শুক্রবার সকাল ৯টায় বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস (গাদিমা) থেকে শুরু হবে। শহরের বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে সাধারণ মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে এবং সকাল ১১টায় বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
 
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মরদেহ আজ তাঁর ‘অন্তিম যাত্রা’ উপলক্ষে সুসজ্জিত একটি রথে বহন করা হবে। ফুল দিয়ে সাজানো ওই রথে অজিত পাওয়ারের ছবি লাগানো রয়েছে এবং তাতে লেখা আছে— “স্বর্গীয় অজিতদাদা পাওয়ার অমর রহেন”।

বুধবার বারামতী বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত ‘দাদা’ পাওয়ারের মৃত্যু হয়। জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে তিনি বারামতী যাচ্ছিলেন। রাজনীতিতে বহু উত্থান-পতনে ভরা দীর্ঘ কর্মজীবন রেখে তিনি চলে গেলেন। অজিত পাওয়ার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই, মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার রাহুরি তালুকার দেওলালি প্রভারা গ্রামে।

মহারাষ্ট্রের মানুষের কাছে তিনি ‘অজিত দাদা’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ, মাটির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং রাজ্যের মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমই এই নামকে জনপ্রিয় করে তোলে। সরকারি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি তিনি দুধ সমবায়, ফেডারেশন ও চিনি কলসহ একাধিক সমবায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন।

দুধ সমবায়, সমবায় সমিতি, চিনি কল ও ব্যাঙ্কের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অজিত দাদার নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯১ সালে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন দিশা আসে। পরে তিনি তাঁর কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য বারামতী লোকসভা আসন ছেড়ে দেন। এরপর তিনি বিধায়ক, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

অজিত পাওয়ার ছিলেন মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় ধরে (অবিচ্ছিন্নভাবে নয়) দায়িত্ব পালনকারী উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি ছয় দফায় বিভিন্ন সরকারের আমলে এই পদে ছিলেন। পৃথ্বীরাজ চবন, দেবেন্দ্র ফডণবীস, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের মন্ত্রিসভায় তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই এনসিপির নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে।

তবুও তিনি তাঁর কাকা শরদ পাওয়ারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যাঁর দিকনির্দেশনায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পুনে ও পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পুরসভা নির্বাচনে এনসিপির দুই বিরোধী গোষ্ঠী একসঙ্গে জোট বেঁধে পুনের উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি তুলে ধরে।

সোজাসাপটা ও স্পষ্টভাষী হিসেবে অজিত পাওয়ার সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার এবং দুই পুত্র—জয় ও পার্থ পাওয়ার।