সম্মতির ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রণয়ন হওয়া উচিত, এতে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না: ভাগবত

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 d ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
মুম্বাইঃ
 
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) সবার আস্থা নিয়ে প্রণয়ন করা উচিত এবং এর মাধ্যমে সমাজে কোনও বিভাজন সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়।

আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইউসিসি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো যায়। এতে বিভেদ তৈরি হওয়া উচিত নয়। উত্তরাখণ্ডে তিন লক্ষ প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি পাশ করা হয়েছে।”

‘আচ্ছেদিন’ (ভালো দিন) কি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আরএসএসের জন্য এসেছে—এই প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেন, বিষয়টি উল্টো। তিনি উল্লেখ করেন, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের প্রশ্নে সংঘ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং যারা এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে, তারাই উপকৃত হয়েছে।

হিন্দুত্ববাদী চিন্তাবিদ ভি ডি সাভারকরকে ভারতরত্ন দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবির প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হলে পুরস্কারের মর্যাদা আরও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন, ভিকি কৌশল, অনন্যা পান্ডে, চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, মধুর ভাণ্ডারকর, রমেশ তৌরানি এবং সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেন, “এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই—আমরা সবাই এক সমাজ।”তিনি মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

“ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়, কিন্তু আজ শান্তি দেখা যায় না। ধর্মে যদি আধ্যাত্মিকতা না থাকে, তাহলে তা প্রভাবশালী ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। আজ ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মে যা দেখা যাচ্ছে, তা যিশু খ্রিস্ট ও নবী মুহাম্মদের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রকৃত ইসলাম ও প্রকৃত খ্রিস্টধর্মের অনুশীলন দরকার,” তিনি বলেন।

ভারত–মার্কিন সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভাগবত বলেন, তিনি এখনও বিষয়টির বিস্তারিত দেখেননি।
 
“এটা ঠিক যে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারি না। যে কোনও চুক্তিতেই দেওয়া-নেওয়া থাকে। তা হওয়া উচিত উভয়ের জন্য লাভজনক… আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে আমরা ক্ষতির মুখে না পড়ি,” তিনি বলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের উপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় তিনি আনন্দিত।

আরএসএস কি বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর ‘আচ্ছেদিন’ দেখেছে—এই প্রশ্নে ভাগবত পুনরায় বলেন, “বিজেপির কারণে আমাদের ভালো দিন আসেনি… বরং উল্টোটা সত্য। আমরা রামমন্দির নির্মাণে অটল ছিলাম। যারা আমাদের সমর্থন করেছে, তারাই উপকৃত হয়েছে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আরএসএস-এর ‘আচ্ছেদিন’ এসেছে স্বয়ংসেবকদের কঠোর পরিশ্রম ও আদর্শিক নীতির প্রতি অঙ্গীকারের ফলেই।

আরএসএস প্রয়োজনে পরামর্শ দেয় উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, “তাদের পাপের দায় আমাদের ওপর চাপানো হয়, কারণ তারা আমাদের মধ্য থেকেই এসেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিক চাপ আসে ভোটারদের কাছ থেকে, আরএসএসের কাছ থেকে নয়।

কমিউনিস্টদের ভিত্তি কেন ১০০ বছরেও বিস্তৃত হয়নি—এই প্রশ্নে ভাগবত বলেন, চাইলে আরএসএস তাদের দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

তিনি জানান, আরএসএস একটি তরুণ সংগঠন; বর্তমানে সদস্যদের গড় বয়স ২৮ বছর। “আমরা এটিকে ২৫-এ নামিয়ে আনতে চাই,” তিনি যোগ করেন।