ইসকনের সব মঞ্চ থেকে সরানো হলো রাধারমণ দাসকে? ৬ কারণ তুলে ধরে বড় দাবি, তুমুল চর্চা
দেবকিশোর চক্রবর্তী
ইসকনের বিভিন্ন মঞ্চে আর প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না রাধারমণ দাস। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সংগঠনের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে রাধারমণ জানান, সংগঠনের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি আর ইসকনের পক্ষে কোনও সভা-সমাবেশ, আলোচনা বা ধর্মীয় মঞ্চে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। এমনকি ইসকন-সংক্রান্ত বিষয়েও প্রকাশ্যে বক্তৃতা দেওয়া থেকে তাঁকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
রাধারমণের দাবি, তাঁকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে মোট ছয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলা এবং চিন্ময়কৃষ্ণের সমর্থনে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়াকে সংগঠন আপত্তির কারণ হিসেবে দেখেছে।দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর বিষয়টি। তৃতীয় কারণ, কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের একটি মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করা।
রাধারমণের বক্তব্য অনুযায়ী, চতুর্থ কারণ ছিল তথাকথিত ‘সনাতন নির্মূল’ প্রচারের বিরুদ্ধে তিনি সনাতন ধর্মের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। পঞ্চম কারণ হিসেবে তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্কের রথযাত্রার একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি পুরোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন, যা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।
ষষ্ঠ ও শেষ কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৯ মে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে কিছু প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন। নিজের এক্স পোস্টে সেই সাক্ষাৎকারের লিঙ্কও সংযুক্ত করেছেন তিনি।রাধারমণের এই বক্তব্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর দাবির পক্ষে-বিপক্ষে মত প্রকাশ করছেন। তবে ইসকনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছয়টি কারণ বা রাধারমণ দাসের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটি ধর্মীয় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হলেও, রাধারমণের করা অভিযোগ ও তার ব্যাখ্যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, ইসকন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায় কি না এবং রাধারমণ দাসের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে সংগঠনের প্রতিক্রিয়া কী হয়।