ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সন্ত্রাস ও হামলার ধারাবাহিকতা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সন্ত্রাস ও হামলার ধারাবাহিকতা
ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সন্ত্রাস ও হামলার ধারাবাহিকতা
নয়া দিল্লি: আওয়াজ দ্য ভয়েস

২৬/১১ মুম্বই হামলা, যা সন্ত্রাসবাদী হামলার সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উদাহরণ হয়ে গেছে, পৃথিবী কখনো ভুলতে পারবে না। এই সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে, নেট স্ট্রিট ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ভারতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ইতিহাসকে দলিল আকারে উপস্থাপন করেছে। পাঠকদের সুবিধার জন্য এই প্রতিবেদনের কয়েকটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। প্রতিবেদনের সম্পাদকতা করেছেন ডক্টর স্বাতী অরুণ, যা টিম নেট স্ট্রিট প্রস্তুত করেছে।

এই প্রতিবেদন ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদী ঘটনাবলীর সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করে। এই সময়ে সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনা এবং অবিশ্বাসের অবস্থা নিয়েই রয়ে গেছে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের নীতি অনুসারে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ গ্রহণ করেছে এবং ISI ও সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে কাবাইলি লস্কররের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে হামলা পাকিস্তানের সামরিক হস্তক্ষেপ ছিল। এতে মহারাজা হরি সিংহকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয় এবং প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৬৫ সালে অপারেশন জিব্রাল্টারের মাধ্যমে পাকিস্তান কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ ও বিদ্রোহের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভারত তা ব্যর্থ করেছে। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন চঙ্গিজ খাঁ এর আওতায় সামরিক অভিযান হয়, যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের জন্ম দেয় এবং শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তান অপ্রচলিত যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করে, যার মধ্যে বিমান হাইজ্যাকিং, খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ভারতের মধ্যে প্রাক্সি সন্ত্রাসী কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাকিস্তানের ISI সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেমন জেইশে মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তয়িবা এবং হিজব-উল-মুজাহিদিন কে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। এই গোষ্ঠীগুলি কাশ্মীরে বিদ্রোহ, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতি এবং সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার কাজে জড়িত ছিল।

প্রতিবেদনের অনুযায়ী, পাকিস্তানের এই কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী নজরে এসেছে এবং সন্ত্রাসবাদের আর্থিক সহায়তার কারণে FATF এর গ্রে লিস্টে রাখা হয়েছে। ভারত এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামরিক, কূটনৈতিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান, আলোচনাসভা এবং সামাজিক সংস্কার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংক্ষেপে, ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্র নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম ভারতের জন্য ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তগত হুমকি তৈরি করেছে। ভারত প্রতিটি পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসী উপাদানগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি মানবজীবনের ক্ষতি ও অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার স্মরণ করিয়ে দেয়, যা দেখায় যে সম্পর্ক কখনোই বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।

১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কাহিনী সংঘাত এবং অবিশ্বাসে পূর্ণ। কখনও কখনও স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরে এসেছে, কিন্তু তা স্থায়ী ও দৃঢ় হয়নি। রেকর্ড দেখায় যে পাকিস্তান বা তার নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে আসা সন্ত্রাসী হামলাগুলি বারবার ভারতের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই হামলাগুলি ISI ও সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে, যখন পাকিস্তানের সিভিল নেতৃত্ব প্রায়শই পুরো তথ্য পায়নি।

এই গল্পটি শুরু হয় ২২ অক্টোবর ১৯৪৭ তারিখে, যখন গোষ্ঠীভিত্তিক হামলাকারীরা প্রাক্তন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে আক্রমণ চালায় যাতে সংযুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তাদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করতে পারে। পাকিস্তান সেনার প্রাক্তন মেজর জেনারেল অকবর খাঁ এর একটি বিরল বইতে এই পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়। বইটি থেকে জানা যায় যে হামলাকারীরা আসলে পাকিস্তানের নিয়মিত সেনা সদস্য ছিলেন।
 
এর পর থেকে পাকিস্তান ভারতবিরোধী রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে গ্রহণ করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতি বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—মাদকসেবার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, গোয়েন্দা যুদ্ধ, সাইবার হামলা এবং ভারতের অভ্যন্তরে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা। এই দলিলটি সম্পূর্ণ তালিকা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর সংকলন। ১৯৪৭-এর পরবর্তী সময়কে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যাতে কয়েক দশক ধরে পুনরাবৃত্তি হওয়া একই ধরনের আচরণ বোঝা যায়। পাকিস্তান সবসময় তার ভূমিকা অস্বীকার করে এসেছে এবং প্রায়শই তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছে। তবুও পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বহু সংগঠন এবং ব্যক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই দেশকে সন্ত্রাসবাদের আর্থিক সহায়তার কারণে FATF গ্রে লিস্টেও রাখা হয়েছে। পাকিস্তানে থাকা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অঞ্চলেও হামলায় জড়িত ছিল, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়াও অন্তর্ভুক্ত।

ভারতের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে হয়েছে। কখনও বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় স্তরে তোলা হয়েছে, কখনও জাতিসংঘে, কখনও শক্তি ব্যবহার করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত পাকিস্তানে থাকা সন্ত্রাসী কাঠামো এবং শিবিরের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানও চালিয়েছে। এই প্রায় আট দশকের গল্প এক বড় মানবিক বিপর্যয়ের স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

পর্ব ১: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ ইন্ডিয়ান আর্মির শ্রীনগরে পৌঁছানো ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি এই ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক নিকটতার কারণে কাশ্মীর দ্বি-জাতির তত্ত্ব অনুযায়ী পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হওয়া উচিত। এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং তার সৈন্য ইউনিটগুলোকে কাবাইলি এবং তথাকথিত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাশ্মীরে প্রবেশ করায়। এই হামলা মহারাজা হরি সিংকে বাধ্য করে দ্রুত ভারতের কাছ থেকে সামরিক সাহায্য চাইতে এবং রাজ্যের সংযুক্তি সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করতে। এর ফলে এই বিতর্ক প্রথম ভারত-পাক যুদ্ধের দিকে যায়।

ভারত পাকিস্তানের হামলার বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করে এবং দাবী করে যে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করুক, তার সেনারা এবং কাবাইলি লস্করকে প্রত্যাহার করুক এবং যেহেতু কাশ্মীর আইনত ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, তার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাক। নিরাপত্তা পরিষদে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যাতে পাকিস্তান দখলমুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে গণভোট করা যায়। পাকিস্তান কখনও এই শর্ত পূরণ করেনি, ফলে গণভোট সম্ভব হয়নি। ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতি কাশ্মীরকে বিভক্ত করেছিল এবং যুদ্ধবিরতি লাইন স্থাপিত হয়, যা ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির পর লাইন অফ কন্ট্রোল নামে পরিচিত হয়।

এই সময় পাকিস্তান কাশ্মীর বিষয়ক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক কর্মকাণ্ড উভয়ই ব্যবহার করেছে। কূটনৈতিকভাবে তারা প্রতিটি ফোরামে কাশ্মীরের বিষয় উত্থাপন করেছে এবং মধ্যস্থতা ও গণভোটের দাবি করেছে। সামরিকভাবে ১৯৪৭–৪৮ সালের যুদ্ধের পরে পাকিস্তান ১৯৬৫ সালে অপারেশন জিব্রাল্টার শুরু করে, যার লক্ষ্য কাশ্মীরে গোপন অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সশস্ত্র বিদ্রোহকে উৎসাহিত করা। এই পদক্ষেপ ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সূত্রপাত দেয়, যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। অভ্যন্তরীণভাবে পাকিস্তানের সেনা কাশ্মীর সমস্যাকে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করেছে।

১৯৪৭–৪৮: পোনচ বিদ্রোহ এবং কাবাইলি হামলা,তারিখ ও স্থান: ২২ অক্টোবর ১৯৪৭, পোনচ, জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত পটভূমি,পোনচ জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ ছিল, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা প্রাধান্য পেয়েছিল। এখানে অনেক মানুষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতের সেনায় চাকরি করেছিল। যুদ্ধের পরে মহারাজার নীতির কারণে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল, যা পাকিস্তান ব্যবহার করেছিল এবং গুপ্তভাবে বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছিল। প্রথমে এটি কেবল প্রতিবাদ ছিল, যা দ্রুত একটি সশস্ত্র বিদ্রোহে পরিণত হয়, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তি এবং ডোগরা সরকারের উৎখাত। রাজ্যের পশ্চিম অংশে ডোগরা কর্মকর্তাদের হত্যা বা নির্বাসন করা হয় এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কাবাইলি লাশ্কার বিদ্রোহকে সহায়তা করতে পৌঁছায়।

লক্ষ্য ঃ বিদ্রোহ উস্কানি দেওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মুসলিমদের ডোগরা সরকারের থেকে মুক্ত করার নামে অভিযান চালানো।
 

পাকিস্তানের ভূমিকা

মহারাজার সম্ভাব্য সংযুক্তি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পাকিস্তান কাবাইলি আগ্রাসন আয়োজন করে, যাতে কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ দখল করে জমি পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যায় এবং মহারাজারকে চাপ দেওয়া যায় যাতে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তিতে বাধ্য করা যায়। পাকিস্তান এই বিদ্রোহকে একটি স্থানীয় আন্দোলন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিল, যদিও কাবাইলি লাশ্কার এবং পাকিস্তানের সেনা এতে অংশগ্রহণ করেছিল, যারা গোপনভাবে পাঠানো হয়েছিল যাতে এটি খোলা যুদ্ধের ইঙ্গিত না দেয়।

হামলার বিবরণ

২২ অক্টোবর ১৯৪৭ পাকিস্তানের সেনা তত্ত্বাবধানে অপারেশন গুলমার্গ শুরু হয় এবং ৫,০০০–৭,০০০ পর্যন্ত পাস্তুন কাবাইলি সশস্ত্র দল মুজাফফরাবাদ থেকে কাশ্মীরে প্রবেশ করে। ২৩–২৪ অক্টোবর মুজাফফরাবাদ এবং ওড়ি কাবাইলি দখলে চলে যায়। অ-মুসলিম নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড, লুটপাট এবং নির্যাতনের খবর আসে। লক্ষ্য ছিল শ্রীনগরে পৌঁছানো। ২৫ অক্টোবর বারহমুল্লা দখল করা হয়, তবে লুটপাট এবং হত্যাযজ্ঞে ব্যস্ত থাকার কারণে কাবাইলিদের অগ্রগতি থেমে যায়। এই বিলম্ব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। ২৬ অক্টোবর পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মহারাজা ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সেনা শ্রীনগরে নামানো হয় এবং বারহমুল্লা, ওড়ি এবং অন্যান্য সামরিক অগ্রভাগে লড়াই হয়।

পাকিস্তানি মেজর জেনারেল আকবর খান তার বই “Readers in Kashmir”-এ লিখেছেন যে এই অভিযান পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং এটি কেবল কাবাইলি বিদ্রোহ নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সরকারি কর্মকর্তা-ও এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। আকবর খানের মতে, লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সেনাকে পশ্চিম সীমান্ত থেকে দূরে রাখা এবং কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ জল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা।

আন্তর্জাতিক সূত্রের উল্লেখ

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও এই সত্যের উল্লেখ রয়েছে। ১৯৫৩ সালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে কাবাইলি হামলায় পাকিস্তানের সাহায্য ছিল। সাংবাদিকরা লিখেছিলেন যে প্রাক্তন INA অফিসাররাও কাবাইলি বাহিনীর সঙ্গে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছিল। BBC-এর এক প্রতিবেদনে স্থানীয়দের এবং কাবাইলিদের বিবৃতিও রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে পাকিস্তান পাঠানো সশস্ত্র বাহিনী ট্রাক ও পায়ে কাশ্মীরে পৌঁছেছে এবং দুর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
 

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি

১৯৪৭–৪৮ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ, যা প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধ নামেও পরিচিত, উভয় পক্ষের জন্যই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছিল। ভারতের প্রায় ১,১০৩–১,৫০০ সেনা শহীদ হয়েছেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর স্টেট ফোর্সের প্রায় ১,৯৯০ জন সদস্য শহীদ বা নিখোঁজ হয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রায় ১,০০০ নিয়মিত সেনা, ৫,০০০ কাবাইলি সশস্ত্র দল এবং কাশ্মীরি বিদ্রোহীরা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪,০০০ জন আহত হয়েছেন। এইভাবে পাকিস্তানকে মোটামুটি ২০,০০০ জনের মতো প্রাণহানি ভোগ করতে হয়েছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারত সংযুক্তির বৈধ পদক্ষেপ, তাত্ক্ষণিক সেনা মোতায়েন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যবহার করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। অবশেষে যুদ্ধবিরতি হয় এবং স্পষ্ট হয়ে যায় যে পাকিস্তান কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার জন্য বিদ্রোহের আড়ালে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

২। ১৯৬০-এর দশকের পর ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বিদ্রোহের সমর্থন,তারিখ ও স্থান: ১৯৬০-এর দশক, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অসম, ভারত পটভূমি ।

পাকিস্তানের সেনা ও ISI ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য অপরম্পরাগত যুদ্ধের পথ গ্রহণ করেছিল। এই কৌশলের আওতায় তারা মিজোরামের MNF এবং নাগা গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও আশ্রয় সরবরাহ করত। এই উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্ট এবং সিলেটে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, যেখানে থেকে গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। পাকিস্তানের সংস্থা বিভিন্ন কাবাইলি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে ভারতের বিরুদ্ধে মিলিত এজেন্ডার অধীনে একত্র করার চেষ্টা করত। সীমান্তের উভয় পাশে নিরাপদ পথ এবং লুকানোর জায়গা দিয়ে বিদ্রোহকে নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হতো।

লক্ষ্য পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল:


ভারতের অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল করা ভারতের সেনার মনোযোগ বিভক্ত করা জাতীয় একতা ক্ষতিগ্রস্ত করা
এটিকে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের সম্ভাব্য সমর্থনের প্রতিশোধ হিসেবেও দেখা হতো।পদ্ধতি গত বিদ্রোহীরা ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালাত।

সাদা চোখে হামলা (Ambush) এবং একসাথে নিরাপত্তা পোস্টে হামলা করা হতো যাতে সেনা চাপের মধ্যে আসে।অস্ত্র পুলিশের সংগ্রহশালা থেকে চুরি করা হতো বা পূর্ব পাকিস্তান থেকে আনা হতো।

নাগা পাহাড়ের ঘন বন ছাপা মার অভিযান এবং ফেরার জন্য ব্যবহার করা হতো।কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মী এবং প্রতিপক্ষকেও লক্ষ্য করা হতো।

১৯৬৪ সালে যুদ্ধবিরতি,একটি যুদ্ধবিরতির পরে আলোচনা শুরু হয়, কিন্তু NNC-এর কঠোর গোষ্ঠী বিদ্রোহ চালিয়ে যায়।

১ মার্চ ১৯৬৬ MNF ভারতের বিরুদ্ধে পূর্ণ বিদ্রোহ শুরু করে, যা মিজো বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
 
৮ মার্চ ১৯৬৬ পর্যন্ত

বিদ্রোহীরা ঈজর এলাকায় হামলা চালায়। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ঈজরে বিমান অভিযান চালায়, যা স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম অভ্যন্তরীণ বিমান অভিযান হিসেবে বিবেচিত। এই অভিযানের পর MNF-এর যোদ্ধারা পূর্ব পাকিস্তানে পালিয়ে যায়, যেখানে ISI তাদের আশ্রয়, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদান করে।

৫ মে ১৯৬৬

অপারেশন জেরকো চলাকালীন, MNF একটি সমন্বিত হামলা চালায়, যার ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং কিছু অস্ত্রও দখল করা হয়।

১৯৬৬ সালের পর

MNF ছাপা মার অভিযান, অবকাঠামোতে ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষ থেকে অর্থ আদায় চালিয়ে যায়।

পাকিস্তানের ভূমিকা

পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের পূর্বাঞ্চলকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল রাখা। এটি নাগা বা মিজো জনগণের সমর্থন নয়, বরং ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করা ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের সংস্থাগুলি বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং সীমান্ত পারাপারে সাহায্য করার কাজ করে। অনেক MNF নেতা ঢাকায় বিমানবন্দী জীবন যাপন করেছেন।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি

ভারতের গৃহমন্ত্রক এবং দক্ষিণ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল অনুসারে, ১৯৬০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া বিদ্রোহে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ নাগরিক এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিবছর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে চলমান বিদ্রোহ দমন করতে সেনা অভিযান, রাজনৈতিক আলোচনাসভা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। প্রাথমিকভাবে AFSPA কার্যকর করা হয় এবং সেনাকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে কৌশল পরিবর্তিত হয় এবং শান্তি চুক্তি, আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং মূল সমস্যার সমাধান চেষ্টা শুরু হয়। বহু এলাকায় সামরিক কার্যক্রম কমে যায় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা উন্নত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

১৯৬৫ – অপারেশন জিব্রাল্টার

তারিখ ও স্থান: আগস্ট ১৯৬৫, জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত

লক্ষ্য

পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরে পরিস্থিতি পরিবর্তন করা। তারা মনে করেছিল কাশ্মীরের মুসলিম জনসংখ্যা ভারতীয় প্রশাসন নিয়ে অসন্তুষ্ট এবং বাহ্যিক সাহায্য পেলে বিদ্রোহ শুরু করবে। ১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরু’র মৃত্যু পর পাকিস্তান মনে করেছিল ভারতের নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। আয়ুব খানের সরকার এর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ ছিল যে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান করতে হবে, কারণ এটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের মূল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের পশ্চিমা শক্তি এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কও এটিকে বোঝাতে সাহায্য করেছিল যে তারা ভারতকে চ্যালেঞ্জ করার অবস্থানে রয়েছে।

হামলার বিবরণ

পাকিস্তান অপারেশন জিব্রাল্টার এর আওতায় তাদের সেনা সদস্যদের সাধারণ নাগরিকের পোশাকে কাশ্মীরে পাঠায় যাতে বিদ্রোহ চালানো যায়। এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং দুই দেশ ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে প্রবেশ করে।

প্রাথমিক আগস্ট ১৯৬৫

পাকিস্তান পরিকল্পনা করেছিল কাশ্মীরে অভ্যন্তরীণ হামলা চালিয়ে বিদ্রোহ সৃষ্টি করা।
১–৫ আগস্ট ১৯৬৫, পাকিস্তানের হাজারো সৈন্য সাধারণ নাগরিকের পোশাকে জম্মু ও কাশ্মীরের কপওয়ারা, সোপোর, হিন্দওয়ারা, বারাহমোলা এবং রাজুরি-পোঁছ অঞ্চলে প্রবেশ করে।
৬–১৪ আগস্ট ১৯৬৫

হিন্দুস্তানি সেনারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অনুপ্রবেশ আটকাতে সক্ষম হয় এবং স্থানীয় সহায়তা পাওয়া যায়নি।
এই সময়ে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে এবং ভারত প্রতিক্রিয়ামূলক অভিযান শুরু করে।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫

পাকিস্তান অপারেশন গ্র্যান্ড স্লিম নামে একটি সুনির্দিষ্ট হামলা চালায় এবং ছম জোড়ি সেক্টর-এ অভিযান চালায়।

৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫

ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হয়ে লাহোরের কাছে বড় আক্রমণ শুরু করে এবং পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হয়।

পাকিস্তানের কৌশল

বিশেষ প্রশিক্ষিত সেনাদের সাধারণ নাগরিকের পোশাকে কাশ্মীরে পাঠানো হয়। সংখ্যা আনুমানিক ৩০,০০০–৪০,০০০, যার মধ্যে নিয়মিত সৈন্য এবং কমান্ডো রয়েছে।

পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিক্ষিপ্ত কাশ্মীরে মুজাহিদ ধরনের যোদ্ধাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাহাড়ি ও বনভূমি পথ নির্বাচন করা হয় যাতে ভারতীয় নজরদারি এড়ানো যায়। অনুপ্রবেশকারীদের সালাহউদ্দিন ফোর্স ও গজনভি ফোর্স নামে নাম দেওয়া হয়, যাতে ধর্মীয় আঙ্গিক দেওয়া যায়।

লক্ষ্য ছিল ভারতীয় সরবরাহ নষ্ট করা, যোগাযোগ লাইন কেটে দেওয়া, অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং কাশ্মীরি মুসলিমদের বিদ্রোহে প্রলুব্ধ করা। পাকিস্তানের ভূমিকা ISI, যা ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কাশ্মীরে গোপন কার্যক্রম বাড়িয়েছিল।তারা স্বাধীন কাশ্মীরের রেজিমেন্ট এবং স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করছিল।

রাষ্ট্রপতি আয়ুব খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো এবং জেনারেল আখতার মালিককে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে কাশ্মীরি জনগণ বিদ্রোহ করবে।তথ্য অত্যধিক আশাব্যঞ্জক ছিল এবং বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন দেয়নি।পাকিস্তানি নেতৃত্ব মনে করেছিল অভিযান সীমিত থাকবে এবং ভারত বড় প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।ধারণা করা হয়েছিল, চীন পাকিস্তানের সাহায্যে দ্বিতীয় মঞ্চ খুলতে পারে।

পরিকল্পনার নেতৃত্ব জেনারেল আখতার হুসেইন মালিকের হাতে ছিল। প্রায় ৭,০০০–২০,০০০ কর্মকর্তাকে গোরিলা যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল মুসা এই অভিযান নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি তার স্মৃতিকথায় লিখেছেন যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই অভিযান শুরু করা হয়েছিল, তবে তা কার্যকর করা হয়।

ফলাফল

অপারেশন জিব্রাল্টার লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।কোন জনসাধারণের বিদ্রোহ হয়নি, স্থানীয় সহায়তা পাওয়া যায়নি।ভারতীয় সেনারা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং অভিযান ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫, ভারতীয় বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে পাঞ্জাব ফ্রন্টে এগিয়ে যায়, যাতে কাশ্মীরে পাকিস্তানের চাপ কমানো যায়।যুদ্ধের সময় আসাল উত্তর মতো বড় ট্যাঙ্ক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ ১৭ দিন চলেছে এবং ভারতীয় সেনারা পাকিস্তানের ভিতরে অনেকদূর পৌঁছে যায়।

ভারতীয় সেনারা লাহোরের কাছে পৌঁছেছিল এবং দখলের অবস্থায় ছিল, তবে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়।

২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং জানুয়ারি ১৯৬৬-এ তাশখণ্ড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৭১ – অপারেশন চঙ্গিজ খান

তারিখ ও স্থান: ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান

পটভূমি

৩ ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তান অপারেশন চঙ্গিজ খান নামে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করে। এটি ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

১৯৪৭–১৯৭০ পর্যন্ত পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত ছিল:

পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমান পাকিস্তান)

পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)

জনসংখ্যা বেশি ছিল পূর্ব পাকিস্তানে, কিন্তু সমস্ত রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বিভেদ বৃদ্ধি পায়।

নির্বাচনের ফলাফল

৭ ডিসেম্বর ১৯৭০-এ প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।আওামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে বড় সাফল্য পায়। শেখ মুজিবুর রহমানের দল ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি জিতে।

পশ্চিম পাকিস্তানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলি ভুট্টো, সরকার হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে কঠোর প্রতিবাদ শুরু হয়।

অপারেশন সার্চলাইট

২৫ মার্চ ১৯৭১, পাকিস্তানি সেনারা সার্চলাইট অপারেশন নামে নৃশংস অভিযান শুরু করে। বাঙালি ছাত্র, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের উপর নির্যাতন। প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষ সীমান্ত পার হয়ে ভারতের কাছে চলে আসে। এর ফলে গুরুতর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়।

ভারতের ভূমিকা

এপ্রিল–নভেম্বর ১৯৭১, ভারত মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সক্রিয়।

২১ নভেম্বর ১৯৭১, ভারত বাংলাদেশের জেলায়ত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

পাকিস্তানের লক্ষ্য ঃপাকিস্তান মনে করেছিল যুদ্ধ অপরিহার্য। ভারত পূর্ব পাকিস্তানে বড় অভিযান করতে যাচ্ছে।

পাকিস্তান চেয়েছিল প্রথমে হামলা চালিয়ে বিশ্ব শক্তি, বিশেষ করে আমেরিকা ও চীনকে হস্তক্ষেপে বাধ্য করা, যাতে ভারত নির্ণায়ক জয় না পায়।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায়, প্রায় ১৭:৪৫ মিনিটে, পাকিস্তান আকস্মিকভাবে ভারতের ১১টি বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিমানবাহিনীকে দুর্বল করা এবং রানওয়েগুলো ধ্বংস করা, যাতে বিমানগুলো উড়তে না পারে। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো খুব নিচু高度ে উড়ে আক্রমণ করেছিল, যাতে রাডারের নজরদারি এড়ানো যায়। তবে এই হামলাগুলো সীমিত ছিল—এতে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল—ফলে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ক্ষয়ক্ষতি

যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষতি ছিল বিশাল। ভারতের প্রায় ২,০০০–৩,০০০ সৈনিক শহিদ হন এবং ৯,০০০-এর বেশি আহত হন। পাকিস্তানের ক্ষতি আরও বেশি ছিল—প্রায় ৬,০০০–৯,০০০ সৈনিক নিহত, ১০,০০০–২৫,০০০ আহত, এবং ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে। এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আত্মসমর্পণ।

সর্বাধিক দুর্ভোগ নেমে আসে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর—আনুমানিক ৩০ লক্ষ সাধারণ মানুষ নিহত, লাখ লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হন এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ.এ.কে. নিয়াজি ভারতীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন এবং যুদ্ধের ইতি ঘটে। এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয় এবং উপমহাদেশের ভৌগোলিক চিত্র চিরতরে বদলে যায়।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারত অত্যন্ত সুসমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থল, নৌ ও বিমান—তিন বাহিনীকে ব্যবহার করে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় ফ্রন্টে দ্রুতগতির অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলেই পাকিস্তানি বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।

ভারতের প্রচলিত সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে অক্ষম হয়ে পাকিস্তান ১৯৫০-এর দশকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে তাকে অপ্রচলিত যুদ্ধনীতি গ্রহণ করতে হবে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে এই নীতিকে আরও শক্তিশালী করা হয়।

এই পর্যায়ে পাকিস্তানের দুটি প্রধান কৌশল ছিল: বিমান ছিনতাই (হাইজ্যাকিং) সংগঠিত করা,

ভারতে খালিস্তান আন্দোলনকে উসকে দেওয়া ও সহায়তা করা । টার্গেট ছিল ভারতের সংবেদনশীল রাষ্ট্রগুলি — বিশেষত পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর।

জেনারেল জিয়া-উল-হক পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন যে খালিস্তান আন্দোলন ভারতকে দুর্বল করার একটি ‘সুযোগ’। প্রাক্তন আইএসআই প্রধান হামিদ গুলও বলেছিলেন যে পাঞ্জাবে অস্থিরতা থাকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী “বিনামূল্যে একটি অতিরিক্ত ডিভিশন” পেয়ে যায়।

এই মনোভাব থেকেই পাকিস্তান:প্রক্সি যুদ্ধ চালায়,বিমান ছিনতাই করায় (আল-কুফফাহ) নামের গোষ্ঠী তৈরি করে

ব্রিটেনে ভারতীয় কূটনীতিককে হত্যা করায় ,খালিস্তানি জঙ্গিদের দেশ-বিদেশে আশ্রয়, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করে

এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে ভেতর থেকে দুর্বল করা এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরে তাকে চাপে রাখা।

হাইজ্যাকিং ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম 

নিচে জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো, যেগুলোর পেছনে পাকিস্তানি আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।

৩০ জানুয়ারি ১৯৭১ — গঙ্গা বিমান ছিনতাই

ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফকার F-27 বিমান ‘গঙ্গা’ শ্রীনগর থেকে লাহোর হাইজ্যাক করা হয় দুই কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীর মাধ্যমে।
 
২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১, যাত্রী ও ক্রুকে নামানোর পর বিমানটিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

পাকিস্তানের ভূমিকা স্পষ্ট ছিল

হাইজ্যাকার হাশিম কুরেশি পেশোয়ারে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে মকবুল বাট—নেশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা—এর সঙ্গে যুক্ত হন।তাদের:আদর্শিক প্রশিক্ষণ,অস্ত্র প্রশিক্ষণ গেরিলা কৌশলের শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল।

তাশখণ্ড চুক্তির পর হল ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাকে পাকিস্তানের আই এস আই সক্রিয় ভাবে সহায়তা করে ।

১৯৬৯ সালের মধ্যে এটি একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল: গুপ্তচরবৃত্তি,বোমা হামলা ,দাঙ্গা ও লুটপাট, ধর্মীয় স্থানে হামলার পরিকল্পনা করে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়া

আইএসআইয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা যেমন মেজর হাবিবুল্লাহ, মেজর কায়সার কুরেশি, মেজর তুফায়েল, মেজর আসগর ইত্যাদি সরাসরি এই গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ, গাইডেন্স এবং অস্ত্র সরবরাহ করতেন।

এ সময় পাকিস্তান থেকে বড় অস্ত্রের চালান কাশ্মীরে পাঠানো হয় এবং সংগঠনটি তিনটি বড় সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

১. ১৯৮৪ সালের ঘটনার বর্ণনা

ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪, বার্মিংহাম: ভারতীয় কূটনীতিক রাভীন্দ্র মহাত্রেকে অপহরণ করে ৫ ফেব্রুয়ারি হত্যা করা হয়। এই কাজটি করেছে কাশ্মীর লিবারেশন আর্মি (KLA), যা JKLF-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের দাবি ছিল: মকবুল বাটকে তাহার জেল থেকে মুক্তি দেওয়া, তার সহযোগীদের মুক্তি এবং ১ মিলিয়ন পাউন্ড মুক্তিপণ।
২০২৩ সালের একটি গবেষণায় জানা যায়, হত্যাকারীর নাম মলিক মুসরাত, যিনি POK-এর বাসিন্দা। ব্রিটেন অভিযুক্তদের হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু পাকিস্তান বারবার অস্বীকার করেছে বা বলেছে তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। ব্রিটিশ পুলিশ সঠিক অবস্থান জানিয়েছিল, তবুও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা সহযোগিতা এড়িয়েছিল।

২৪ আগস্ট ১৯৮৪, দিল্লি–শ্রীনগর ফ্লাইট হাইজ্যাকিং: সাতজন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী (All India Sikh Students Federation) বিমানটি হাইজ্যাক করে। বিমানটি লাহোরে নিয়ে যাওয়া হয়। হাইজ্যাকারদের হাতে শুরুতে নকল অস্ত্র ছিল, কিন্তু লাহোরে আইএসআই তাদের একটি আসল পিস্তল সরবরাহ করে। কোনো প্রাণহানি হয়নি। পরে বিমানটি UAE-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অস্ত্র সেখানে ফেলে হাইজ্যাকিং শেষ হয়।
 
ভারত এই ঘটনার উপর কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়। ১৯৮২ সালে অ্যান্টি-হাইজ্যাকিং আইন প্রণয়ন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, অপরাধীদের হস্তান্তর সহজ করা এবং হাইজ্যাকিং রোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ছিল।

২. আইএসআই-এর খালিস্তান আন্দোলনে সহায়তা

১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে আইএসআই পুরো মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে।

আইএসআই ও CIA একসাথে সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করার জন্য কাজ করছিল। পরিবর্তে CIA ভারতীয় পাঞ্জাবে আইএসআই-এর কার্যক্রমকে উপেক্ষা করে।

পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল পূর্ব সীমান্ত নিরাপদ রাখা যাতে পুরো মনোযোগ আফগানিস্তানে দিতে পারে।

একই সময় জিয়া উল হক এবং আইএসআই চাইছিল কাশ্মীর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসুক। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তান এই লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

পাকিস্তানের সীমিত সামরিক শক্তি থাকায় তারা ভারতের ওপর সরাসরি চাপ দিতে পারছিল না। তাই আইএসআই প্রক্সি যুদ্ধের পথ অবলম্বন করে।

আইএসআই কাশ্মীরের সঙ্গে সঙ্গে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন প্রদান করে।

৩. জঙ্গি গোষ্ঠী ও কার্যক্রম

JKLF: স্বাধীন কাশ্মীরের দাবিতে আন্দোলন; অপহরণ, হাইজ্যাকিং, বোমা হামলা।

জয়শ মুহাম্মদ (JeM): প্রতিষ্ঠা: ২০০০, মাসুদ আজহার। উদ্দেশ্য: কাশ্মীরকে ভারতের থেকে আলাদা করে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা।

কার্যক্রম: ভারতীয় পার্লামেন্টে হামলা, ২০১৯ পুলওয়ামা হামলা। আইএসআই-এর সঙ্গে সংযোগ।

লস্কর তাইবা (LeT): প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫–৮৬, হাফিজ সাঈদ, জাফর ইকবাল, আবদুল্লাহ আজম। উদ্দেশ্য: কাশ্মীরে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কার্যক্রম: ২০০০ লালকেল্লা হামলা, ২০০৮ মুম্বই হামলা।

আইএসআই-এর সঙ্গে সংযোগ।

SIMI (Students Islamic Movement of India):

পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। বোমা বিস্ফোরণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ।

৪. প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই হামলাগুলি ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

সেপ্টেম্বর ২০০৬, কিউবা: নন-অ্যালাইন্ড সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশরফ যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার উপর সম্মতি দেন।

পাকিস্তানের ধ্রুব প্রত্যাখ্যানের কারণে আস্থা নষ্ট হয়। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনাগুলি স্থগিত বা সীমিত হয়। কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা — ৭ জুলাই ২০০৮

৭ জুলাই ২০০৮ সালে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা ছিল আফগানিস্তানে ভারত ও পাকিস্তানের বাড়তে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল। আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তান ও তালেবান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষুব্ধ করেছিল। এই হামলার পর কাবুলে আরও বড় বড় বিস্ফোরণের ধারা শুরু হয়। সে সময় তালেবান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছিল এবং আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর প্রাণহানি ইরাকের তুলনায় বেশি হয়ে গিয়েছিল।

পরবর্তীতে মার্কিন CIA পাকিস্তানকে রেকর্ড করা কথোপকথনসহ এমন প্রমাণ সরবরাহ করে যা দেখায় যে ISI এই হামলায় সহযোগিতা করেছিল। ভারত ও আফগানিস্তানের সংস্থাগুলোর মতে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশোয়ারে অবস্থানরত ৩২৪ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্যাটালিয়ন এই হামলার পরিকল্পনা করে। আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ পাকিস্তানেই হয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম. কে. নারায়ণনও বলেছিলেন যে তার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মার্কিন সংস্থাগুলিও নিশ্চিত করে যে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা হাক্কানি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

হামলাটি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হয়, যখন একটি আত্মঘাতী বোমারু গাড়িভর্তি বিস্ফোরক দূতাবাসের প্রধান গেটের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এটি তালেবান পতনের পর কাবুলে সবচেয়ে বড় হামলা ছিল। এতে ৫৯ জন নিহত হয়, যার মধ্যে ছিলেন ভারতের ডিফেন্স এটাশে, একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, দুইজন অন্যান্য কর্মী এবং একজন স্থানীয় ড্রাইভার। ১৫০ জনের বেশি আহত হন, যার মধ্যে ITBP-এর পাঁচজন সদস্যও ছিলেন। ঘটনাটির পর ভারত আফগানিস্তানে তাদের সব কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করে।

মুম্বাই হামলা — ২৬ নভেম্বর ২০০৮

২৬ নভেম্বর ২০০৮-এর মুম্বাই হামলা ভারতের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসলামাবাদে সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ সহযোগিতার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন, কিন্তু হামলা হওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়। উদ্দেশ্য ছিল ভারতের আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাইকে আঘাত করে দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ভারত–পাকিস্তান শান্তি আলোচনাকে ধ্বংস করা।

এই হামলা লস্কর-এ-তৈয়বা পাকিস্তান থেকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল এবং জঙ্গিদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। প্রথমে পাকিস্তান অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে আজমল কাসাব পাকিস্তানের নাগরিক ছিল। ২০০৯ সালে পাকিস্তান স্বীকার করে যে হামলাগুলির পরিকল্পনা করাচি ও ঠাট্টায় অবস্থিত ক্যাম্পগুলোতে করা হয়েছিল।

মুম্বাই পুলিশের তদন্তে ৩৭ জন অভিযুক্ত শনাক্ত হয়, যাদের বেশিরভাগই পাকিস্তানি নাগরিক। ডেভিড হেডলি হামলার সব লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ করে এবং আদালতে দোষ স্বীকার করে। দশ জঙ্গি পাকিস্তানের লস্কর-এ-তৈয়বার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল—নয়জন নিহত হয় এবং একজন ধরা পড়ে। হেডলি আদালতে জানায় যে সে ISI কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছে।

পাকিস্তান কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, কিন্তু ভারতের মতে তা ছিল অপর্যাপ্ত এবং অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়েছিল। এই হামলায় ১৬৬ জন নিহত এবং ৩০০-এর বেশি আহত হন।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভারত কঠোরভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) প্রতিষ্ঠা করে। উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয় এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান আরও উন্নত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন যে সন্ত্রাসের কেন্দ্রকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করা অপরিহার্য এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
 
২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ,২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বাইরের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

জার্মান বেকারি বিস্ফোরণ ২০১০: এটি মুম্বাই হামলার পর প্রথম বড় ঘটনা। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারত–পাকিস্তান আলোচনাকে ব্যাহত করা। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে একটি ব্যাগে রাখা বিস্ফোরক ফেটে যায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হন। তদন্তে জানা যায় যে এই হামলায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন (IM) এবং লস্কর-ই-তৈয়বা জড়িত ছিল।

পাঠানকোট এয়ারবেস হামলা — ১ জানুয়ারি ২০১৬,১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে পাঠানকোট এয়ারবেসে হামলা হয়।
এই হামলার পেছনে ছিল জইশ-এ-মোহাম্মদ এবং এর প্রধান মসুদ আজহার। ছয়জন জঙ্গি ভারত প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে ৭ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। ভারত শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায় এবং পাকিস্তান থেকে কঠোর জবাব দাবি করে।

উরি হামলা — ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬,১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে উরি সেনা শিবিরে হামলা হয়। হামলাকারীরা ভোরবেলা ক্যাম্পে ঢুকে গুলি চালায়। এতে ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হন। ভারত প্রতিক্রিয়ায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায় এবং সন্ত্রাসীদের লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে।

নাগরোটা হামলা — ২৯ নভেম্বর ২০১৬,২৯ নভেম্বর ২০১৬ সালে নাগরোটা আর্মি ক্যাম্পে তিনজন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এটি জইশ-এ-মোহাম্মদ-এর কাজ। এতে ৭ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ভারত পাকিস্তানের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং সন্ত্রাসবাদের সমর্থন বন্ধ করার দাবি জানায়।

নারকো-টাররিজম (NARCO-TERRORISM)

নারকো-টাররিজম বলতে বোঝায় পাকিস্তানের মাদকপাচার এবং সন্ত্রাসবাদের আর্থিক সহায়তার জটিল সঙ্ঘ। এটি মূলত ISI এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিচালনা করে। ভারত সীমান্তে কড়া নজরদারি ও অনুপ্রবেশ রোধের পর পাকিস্তান তার কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন প্রধানত তিনটি উপায় ব্যবহার করা হয়— ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক পাঠানো বিশেষ করে পাঞ্জাব ও জম্মুতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

স্থানীয় যুবকদের অনলাইনে উগ্রবাদে প্ররোচিত করা তাদের একক হামলাকারী বা মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালানের জন্য ব্যবহার করা হয়। সীমান্তের কঠিন এলাকা ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চোরাচালান পাহাড়ি ও সমুদ্রপথ দিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাঠানো হয়।

এছাড়া বহু রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মাদকাসক্ত বা মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ভারতে প্রবেশ করানো হয়।
এটি বন্দী সন্ত্রাসীদের বার্তা পৌঁছানোর বা মাদক নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য করা হয়। নারকো-সন্ত্রাস ও পাকিস্তান

নারকো-সন্ত্রাসের মূল কেন্দ্র গোল্ডেন ক্রিসেন্ট। এই অঞ্চল বিশ্বের আফিয়ুন উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভারতের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে দেশটি কঠিন হুমকির মুখে রয়েছে। হিরোইন ও অন্যান্য মাদক পাকিস্তানের মাধ্যমে স্থল ও জলপথে ভারতে প্রবেশ করানো হয়। ISI-কে এই সমস্ত কার্যক্রমের প্রধান প্রেরক হিসেবে ধরা হয়। মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদের আর্থিক সহায়তাকে একত্রিত করে এই সংস্থা তার নেটওয়ার্কের জন্য নিয়মিত অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করে।

ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো যেমন জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। নারকো-সন্ত্রাস ভারতের জন্য দ্বিগুণ হুমকি: একদিকে এটি সন্ত্রাসবাদের শক্তিকে বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে দেশে মাদকাসক্তির গুরুতর সংকট সৃষ্টি করে। ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, গোপন তথ্যের বিনিময় বাড়ানো হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার করা হয়েছে যাতে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন রোধ করা যায়।

পুলওয়ামা হামলা — ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় এই হামলা হয়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নির্বাচনের আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা, যাতে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির সম্ভাব্য জয় আটকানো যায়। এই হামলার দায়িত্ব জইশ-এ-মোহাম্মদ দ্রুত স্বীকার করে।
 
হামলাকারী ছিল আদিল আহমদ ডার, পুলওয়ামার বাসিন্দা, যিনি ২০১৮ সালে জইশ-এ-মোহাম্মদে যোগ দেন।
আদিলের পরিবার জানিয়েছে যে ২০১৬ সালে একটি প্রতিবাদে আহত হওয়ার পর তিনি হতাশ ও রাগান্বিত ছিলেন।

এই সংগঠন পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংগঠনটি ISI দ্বারা গঠিত। হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মুহাম্মদ ইসমাইল আলভী, যিনি সাইফুল্লাহ আদনান বা লম্বো নামে পরিচিত। ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, নাইট্রোগ্লিসারিন ও RDX ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, জইশ-এ-মোহাম্মদের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাকির বশীর মাগরি আত্মঘাতী হামলাকারী ও অন্যান্য পাকিস্তানি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় এবং লজিস্টিক সমর্থন প্রদান করেছিলেন। তিনি অস্ত্র, গোলাবারুদ, অর্থ এবং বিস্ফোরক সরবরাহ করতেন এবং গাড়িতে বিস্ফোরক বসাতে সাহায্য করতেন।

হামলার কৌশল ছিল: স্থানীয় যুবক, যিনি উগ্রপন্থার শিকার ছিলেন, বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি CRPF-এর কনভয়ের বাসে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণ এত তীব্র হয় যে পুরো বাস ধ্বংস হয় এবং আশেপাশের আরও কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি সাধারণ গুলিবিদ্ধ হামলার পরিবর্তে এক প্রকার আত্মঘাতী হামলা হিসেবে সামনে আসে।
হামলায় ৪০ জন CRPF জওয়ান নিহত এবং ৩৫ জন আহত হন। সাধারণ নাগরিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। হামলাকারী নিজেও নিহত হয়।

ভারতের প্রতিক্রিয়া — বালাকোট হামলা

ভারত এই হামলার জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে বালাকোটে জইশ-এ-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলা চালায়। ভারতীয় বিমান বাহিনী লাইন অব কন্ট্রোল অতিক্রম করে এই অভিযান পরিচালনা করে এবং বড় সংখ্যক সন্ত্রাসী ধ্বংস করে।
 
১৯৭১ সালের পর এটি প্রথম সুযোগ যখন ভারতীয় যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের ভিতরে গিয়েছিল। একই সঙ্গে ভারত পাকিস্তান থেকে MFN (Most Favored Nation) অবস্থানও প্রত্যাহার করে।

পেহলগাম হামলা — ২২ এপ্রিল ২০২৫, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহলগামে হামলা ঘটে। এর আগে ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির উস্কানিমূলক ভাষণে বলেন যে পাকিস্তান কাশ্মীরকে ভুলবে না এবং তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
 
এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীনগরের সফরে আসার কথা ছিল। সফরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টও ভারত সফরে ছিলেন। হামলার উদ্দেশ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতি ও পর্যটনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিশ্বের দৃষ্টি কাশ্মীরের দিকে আকর্ষণ করা।
 
হামলার দায়িত্ব TRF গ্রহণ করে, যা লস্কর-ই-তৈয়বাদের অংশ। হামলাকারীরা পাকিস্তানে বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছিল, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল মনস্তাত্ত্বিক ব্রেনওয়াশ, শারীরিক প্রশিক্ষণ ও অপ্রচলিত যুদ্ধ কৌশল। তাদের সংযোগ ছিল লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-এ-মোহাম্মদ বা হিজবুল-মুজাহিদিন-এর সঙ্গে।

হামলায় সন্ত্রাসীরা পেহলগামের বেসারান উপত্যকায় নিরস্ত্র পর্যটকদের লক্ষ্য করে হত্যা চালায়। পাওয়া যায় মার্কিন তৈরি M9 কারবাইন ও AK-47-এর খোসা।  সন্ত্রাসীরা তাদের ক্যাপে লাগানো আধুনিক ক্যামেরা দিয়ে পুরো হামলা রেকর্ড করে। এটি আগে পিপলস অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট এবং কাশ্মীর টাইগারস ব্যবহার করেছিল, যারা জইশ-এ-মোহাম্মদের জন্য কাজ করে।
 
স্থানীয় সহায়করা অর্থ, আশ্রয় ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করেছিল। হামলা পরিচয় অনুসারে লক্ষ্যভিত্তিক ছিল, এবং মূলত হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করা হয়।

হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় ঘোড়াওয়ালা। ২০-এর বেশি আহত হয়। হামলা নিরস্ত্র নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।

ভারত পরবর্তী দিনই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়।সিন্ধু-তাস চুক্তি স্থগিত ,ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ,সার্ক ভিসা স্কিম বাতিল,হাইকমিশনে কর্মী সংখ্যা কমানো ,পাকিস্তানি সেনা ও কূটনীতিক দেশ থেকে বহিষ্কার ।

ভারতের সংকল্প ও নীতি পরিবর্তন

প্রধানমন্ত্রী বলেন: ভারত প্রত্যেক সন্ত্রাসী, সহায়ক ও পরিকল্পনাকারীকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেবে।
সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে কার্যক্রমের পদ্ধতি, লক্ষ্য ও সময় নির্বাচন করার।

৭ মে ২০২৫, রাত ১ টায় অপারেশন সন্দুর শুরু হয়।ভারত পাকিস্তানে ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে। পাকিস্তান সীমান্ত ও লাইন অব কন্ট্রোলে হামলা চালায়, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ভারতের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সশস্ত্র ঘাঁটি ও ১১টি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়। গুরুতর ক্ষতির পর পাকিস্তান ১০ মে যুদ্ধবিরতি চায়, যা ভারত গ্রহণ করে।

অপারেশন সন্দুর ভারতের নীতি পরিবর্তনে ঐতিহাসিক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন: ভারতের নীতি হলো, দেশের মাটিতে প্রতিটি হামলাকে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন: এখন নতুন নীতি স্থাপন হয়েছে—সন্ত্রাসের প্রতিটি উৎসকে দমন করা হবে।

কোনো পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল গ্রহণযোগ্য নয়। যে সরকার সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয় বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত, তারা আলাদাভাবে বিবেচিত হবে না। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস ভারতের জন্য বেদনাদায়ক ও ধারাবাহিক যুদ্ধের গল্প।
 
ভারতের বহু-ধর্মীয় সমাজ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিটি হামলার পরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।সন্ত্রাসবাদ ভারতের উন্নয়নকে থামাতে পারেনি। এই নথি স্মরণ করিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, এবং রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহৃত হলে এটি গ্লোবাল নিরাপত্তার বড় হুমকি হয়ে ওঠে। বিশ্বকে একত্রিত হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
 
কোনো উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ত্রাসী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের শাস্তি প্রাপ্য। এই লেখা সন্ত্রাসবাদের সব শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে। আমরা তাদের কখনও ভুলব না।


শেহতীয়া খবৰ