কলকাতা
দৌড়ঝাঁপে ভরা আধুনিক জীবনে মা–বাবাদের সবচেয়ে বড় সংকট, সময়। সকাল থেকেই শুরু হয় ম্যারাথন, বাচ্চার স্কুল, নিজের অফিস, ঘরের কাজ, তারপর সন্ধ্যার দায়িত্ব। এই হইচইয়ের মাঝে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা অনেক সময়ই অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু সত্য হলো--স্মার্ট কৌশল জানা থাকলে রান্না কখনোই চাপ নয়; বরং মিনিটের মধ্যে তৈরি হতে পারে পুষ্টিকর, সুস্বাদু খাবার।
এই সহজ কৌশলগুলো ব্যস্ত পরিবারগুলোর সময় বাঁচিয়ে দেবে, আর খাবারকে করবে ঝটপট ও স্বাস্থ্যকর।
সপ্তাহজুড়ে সাশ্রয়ী সময়: মিল প্রেপের জাদু
সপ্তাহের একটি দিন, হোক রবিবার, বেসিক জিনিসগুলো প্রস্তুত করে রাখলে প্রতিদিনের রান্নার কাজ অর্ধেকে নেমে আসে। পেঁয়াজ-রসুন-আদা বাটা, সেদ্ধ ডাল, কাটা সবজি, বা প্রি-বয়েলড মাংস ও ডিম ফ্রিজে থাকলে যেকোনো রান্না কয়েক মিনিটেই তৈরি করা যায়।
তাড়াহুড়োর দিনগুলোতে দ্রুত রান্না
ওটস, সুজি বা পাস্তা আজ ব্যস্ততার যুগের সেরা সঙ্গী। বাচ্চার টিফিন থেকে রাতের তাড়াহুড়োর খাবার, ওটস উপমা, সুজি খিচুড়ি বা ভেজ পাস্তা তৈরি হবে মাত্র ১০ মিনিটে। সঙ্গে সবজি ও ডিম যোগ করলে বাড়বে পুষ্টিগুণ।
এক হাঁড়িতে পুরো খাবার--One-Pot Meals
একটি হাঁড়িতেই তৈরি হতে পারে পুরো একটি মিল, চিকেন-রাইস, ডাল-খিচুড়ি কিংবা সবজি-পোলাও। হাঁড়ি কম, ধোয়ার ঝামেলা কম, সময়ও বাঁচবে প্রচুর।
প্রেশার কুকারে মিনিটেই ডাল, মাংস, সবজি
প্রেশার কুকার ব্যস্ত পরিবারগুলোর ‘লাইফসেভার’। রাতে হঠাৎ রান্না করতে হলে মাত্র ১৫ মিনিটেই ডাল, ভাত, মাংস বা সবজির যে কোনো কম্বো রান্না সম্ভব।
ফ্রোজ়েন সবজি, দ্রুত রান্নার আধুনিক সমাধান
ফ্রোজ়েন সবজি পুষ্টি ধরে রাখে, এ কথা বহু গবেষণাতেই প্রমাণিত। তাই সময় বাঁচাতে এগুলো রান্নাঘরে রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে। ব্যস্ত দিনের জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর।
বাচ্চাকে যুক্ত করুন, রান্না হোক মজাদার
টমেটো ধোয়া, টেবিল সাজানো বা লেটুস ছেঁড়ার মতো ছোট কাজগুলো সন্তানকে করতে দিলে রান্না দ্রুত হয়, পাশাপাশি তাদের দায়িত্ববোধ ও আগ্রহও বাড়ে।
রাইস কুকার ও এয়ার ফ্রায়ার--দু’টি যন্ত্রেই অর্ধেক কাজ
রাইস কুকারে শুধু ভাত নয়, পোলাও থেকে সুজির হালুয়াও তৈরি হয়। এয়ার ফ্রায়ারে কম তেলে সুস্বাদু চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই বা সবজি গ্রিল, সবই দ্রুত বানানো যায়।
ব্যস্ত জীবনের নতুন মন্ত্র--স্মার্ট কুকিং, কম সময়ে বেশি কাজ
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পনা এবং কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে ব্যস্ত জীবনেও প্রতিদিন ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা সম্ভব। পরিবারে সময় বাড়বে, ঝামেলা কমবে, আর খাওয়ার মানও থাকবে ঠিক বজায়।