পালং শাকের পাতা দিয়ে তৈরি হতে পারে মানুষের হার্ট টিস্যু!চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশার দিগন্ত
কলকাতা ঃ
আমরা সাধারণত পালং শাককে একটি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেই জানি। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, এই সাধারণ পালং শাক ভবিষ্যতে হৃদরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের Worcester Polytechnic Institute-এর (WPI) গবেষকরা পালং শাকের পাতা ব্যবহার করে মানুষের হৃৎপিণ্ডের টিস্যু তৈরির এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
কীভাবে তৈরি হলো হার্ট টিস্যু?
গবেষকরা প্রথমে পালং শাকের পাতাকে একটি বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করেন। এতে পাতার ভেতরের সবুজ উদ্ভিদ কোষগুলো সম্পূর্ণভাবে বের করে দেওয়া হয়। এরপর পাতায় শুধু থেকে যায় এর স্বচ্ছ সেলুলোজ কাঠামো এবং সূক্ষ্ম শিরা-উপশিরার জাল।
পরবর্তী ধাপে বিজ্ঞানীরা সেই পাতার ওপর মানুষের হৃৎপিণ্ডের পেশীর কোষ স্থাপন করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই কোষগুলো পাতার শিরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিছু সময় পরে এই কোষগুলো আসল হার্ট টিস্যুর মতো স্পন্দিত হতে শুরু করে।
কেন ব্যবহার করা হলো পালং শাক?
বিজ্ঞানীদের মতে, পালং শাকের পাতার শিরা-উপশিরার গঠন মানুষের শরীরের সূক্ষ্ম রক্তনালীর সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। মানুষের শরীরে যেমন কৈশিক রক্তনালী অক্সিজেন ও পুষ্টি বহন করে, তেমনি পালং পাতার শিরাগুলোও কৃত্রিম টিস্যুর মধ্যে পুষ্টি পরিবহনে সহায়তা করতে পারে।এই কারণেই পালং শাককে টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হার্ট অ্যাটাকে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের জন্য বিশেষ “হার্ট প্যাচ” তৈরি করা সম্ভব হবে। এই প্যাচ ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপিণ্ডের অংশকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া ভবিষ্যতে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, টিস্যু পুনর্গঠন এবং পুনর্জন্ম চিকিৎসা (Regenerative Medicine)-এর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে,তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করার আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা এবং একাধিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
তবুও চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার ভবিষ্যতের হৃদরোগ চিকিৎসায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।