পশ্চিমবঙ্গ: হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত করতে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 20 h ago
পশ্চিমবঙ্গ: হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত করতে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান
পশ্চিমবঙ্গ: হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত করতে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান
 
কলকাতা:

রবিবার গভীর রাতে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বুলডোজার দিয়ে গঙ্গা ঘাট থেকে স্টেশন চত্বর পর্যন্ত রাস্তার ধারে থাকা অস্থায়ী দোকান ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয় রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ), সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), রেল কর্তৃপক্ষ এবং হাওড়া সিটি পুলিশ। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়।

বাসস্ট্যান্ড ও গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন ফুটপাত ও জনপরিসর দখল করে থাকা বহু অস্থায়ী দোকান ও কাঠামো বুলডোজার ও আর্থমুভারের সাহায্যে সরিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীদের সুবিধার জন্য রেলের জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

যদিও রেলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দখলমুক্তকরণ অভিযানের অংশ।দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারির কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল টার্মিনাল হাওড়া স্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল।

ঘটনাস্থলের দৃশ্যে দেখা যায়, পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং রাস্তার ধারের খাবার, প্লাস্টিক সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ভেঙে ফেলা হচ্ছে।কিছু হকারের অভিযোগ, উচ্ছেদের আগে তাঁদের যথেষ্ট সময় বা নোটিস দেওয়া হয়নি, ফলে জীবিকা বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বহু ব্যবসায়ী দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে ওই দোকানগুলি ছিল এবং প্রশাসনের কাছে তাঁদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবসার জায়গার দাবি জানান।

এক হকার বলেন, “সৌন্দর্যায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অবশ্যই হওয়া উচিত, কিন্তু গরিব ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনও দরকার।”আরেক দোকানদারের বক্তব্য, “পুনর্বাসন না পেলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদের সময় কিছু ব্যবসায়ী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রশাসনের দাবি, রেলের জমির বেআইনি দখল সরিয়ে পথচারীদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। রবিবার সকালেও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।