কলকাতা
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ড ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসার, বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছিলেন। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার পর এফআইআর দায়ের, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের প্রথম ধাপেই একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।
শুভেন্দু আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসক সমাজের আন্দোলন এবং জনরোষের মুখে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। পরে তাঁকে কলকাতা পুলিশ থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এ বদলি করা হয়।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তকেও সরানো হয়েছিল। অন্যদিকে ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় আরজি কর-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বারবার পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে সামনে এসেছিলেন। এবার তাঁর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। বিরোধীদের দাবি, এটি ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও শাসকদলের একাংশ একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই কটাক্ষ করেছে।
আরজি কর কাণ্ডে ফের তদন্তের গতি বাড়ায়, সেই রাতের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে। এখন নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর এগোয়।