আওয়াজ দ্য ভয়েস / মুম্বই
একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে মুসলিম, দলিত, আদিবাসী এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষের একত্রিত হয়ে সংবিধানের মূল্যবোধের ভিত্তিতে “নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ” গড়ে তোলার সময় এসেছে। মুম্বইয়ে আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এমনই ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বার্তা উঠে আসে।
রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মী ফারুক আহমেদের লেখা বই ‘খৌফ অউর নফরত কে দৌর মে মুসলমানোঁ কা সিয়াসি এজেন্ডা’ (ভয় ও ঘৃণার যুগে মুসলমানদের রাজনৈতিক এজেন্ডা) সম্প্রতি ‘প্রবুদ্ধ ভারত’ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রকাশ আম্বেদকর, প্রবীণ সাংবাদিক আরফা খানম শেরওয়ানি, স্মিতা পানসারে, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আবদুল রহমান এবং ইতিহাসবিদ সরফরাজ আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠানে বক্তারা ভবিষ্যতের জন্য একটি “ইতিবাচক রাজনৈতিক এজেন্ডা” এবং “উন্নয়নের নতুন সমীকরণ”-এর উপর জোর দেন।
ক্ষমতা অর্জনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলুন: অ্যাডভোকেট প্রকাশ আম্বেদকর
বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট প্রকাশ আম্বেদকর অত্যন্ত স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি বলেন, “মুসলিম সমাজকে মোল্লা-মৌলবীদের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলিত, মুসলিম, আদিবাসী এবং ওবিসি সম্প্রদায়কে ক্ষমতা অর্জনের জন্য একজোট হতে হবে। এই সমস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যখন সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে একত্রিত হবে, তখন দেশে একটি ‘নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ’ তৈরি হবে। এই নতুন রাজনৈতিক শক্তিই ভারতকে প্রকৃত অর্থে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত করবে। আমাদের ঐক্যই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনা।”
অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিন: আরফা খানম শেরওয়ানি
প্রবীণ সাংবাদিক আরফা খানম শেরওয়ানি সম্প্রদায়ের মানুষদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মুসলিম সমাজকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস ও সক্রিয়তার সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। যখন আমরা আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বহুজান সমাজের লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করি, তখন আমরা শুধু নিজেদের অধিকারই সুরক্ষিত করি না, বরং ভারতের গণতন্ত্র এবং ‘গঙ্গা-যমুনী তেহজিব’-কেও শক্তিশালী করি। সমতা ও অগ্রগতির এই যৌথ যাত্রা দেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”
প্রগতিশীল চিন্তার ভিত্তিতে নতুন সমীকরণ: স্মিতা পানসারে
প্রগতিশীল চিন্তাবিদ ও নেত্রী স্মিতা পানসারে সংবিধানের শক্তির উপর আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “প্রগতিশীল চিন্তাধারা এবং ভারতীয় সংবিধানের মূল্যবোধই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ একটি নতুন, যুক্তিবাদী ও সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তুলবে। একটি প্রগতিশীল ভারত গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”
ফারুক আহমেদ
ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের ভাবনায় ‘সাধারণ লক্ষ্য’
ইতিহাসবিদ সরফরাজ আহমেদ ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডঃ আম্বেদকর স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে মুসলিম সমাজ এবং হিন্দু সমাজের বহু শোষিত অংশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন একই। তাই মুসলিম সমাজের উচিত দলিত, ওবিসি এবং আদিবাসী ভাইদের সঙ্গে একটি ‘সাধারণ লক্ষ্য’ তৈরি করা। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়াই প্রকৃত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।”
মূলধারায় যুক্ত হয়ে সংবিধানভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আবদুল রহমান বলেন, গত কয়েক দশকের পুরনো রাজনৈতিক পরীক্ষাগুলোকে পিছনে ফেলে এখন একটি নতুন ও সফল পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দেশের জনসংখ্যায় বড় অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব কম। এই প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য সমাজকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা হওয়া উচিত ‘ভারতীয় সংবিধানের পক্ষে একটি প্রগতিশীল সমাজ গড়ার এজেন্ডা’।”
এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।