পুষ্টিগুণে ভরপুর ডিম স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী; কী বললেন বিশেষজ্ঞরা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 49 m ago
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি
 
আওয়াজ-দ্য ভয়েস

খাদ্যতালিকায় ডিমের উপস্থিতি বহুদিনের। সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এই খাদ্যটি যেমন স্বাদের জন্য জনপ্রিয়, তেমনি পুষ্টিগুণের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদানে সমৃদ্ধ ডিমকে অনেকেই ‘সুপারফুড’ বলে মনে করেন। তবে কোলেস্টেরল ও নিয়মিত ডিম খাওয়া নিয়ে বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামেনি। প্রতিদিন ডিম খাওয়া আদৌ কতটা উপকারী বা নিরাপদ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও প্রশ্ন দুই-ই রয়ে গেছে।
 
বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন যে, অধিকাংশ মানুষের জন্য ডিম সুষম খাদ্যের একটি পুষ্টিকর অংশ হতে পারে, যদি এটি পরিমিতভাবে খাওয়া হয়। সমগ্র ভারতজুড়ে সাধারণত সকালের খাবারে ডিম খাওয়া হয়। কিন্তু এখনও অনেকেই প্রশ্ন করেন: প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর, এবং কতগুলো ডিম খাওয়া উচিত?
 
 
একটি মাঝারি আকারের ডিম পুষ্টিগুণে ভরপুর

কলকাতার চিকিৎসক দেবদীপ দত্ত বলেন, একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬৬ ক্যালোরি, ৬.৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ৪.৬ গ্রাম চর্বি থাকে। এই চর্বির মধ্যে ১.৭ গ্রাম স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি। ডিমে কোলিন, ফলেট, ভিটামিন ডি, আয়োডিনও থাকে, যার ফলে এটি একটি সুলভ ও পুষ্টিকর খাদ্য।
 
পুষ্টি তত্ত্বাবধায়ক ও লেখিকা অদিতি বিশ্বাস বলেন, মুরগির ডিমে ভিটামিন এ, ডি এবং বি ১২ প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রক্তকণিকা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কোলিন হলো এমন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান যা মস্তিষ্কের বিকাশ, যকৃতের কার্যক্ষমতা এবং বিপাকীয় ক্রিয়ায় সহায়তা করে।
 
ডিমকে নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা করা হয়ে থাকে কারণ একটি ডিমে প্রায় ২১০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। তবে এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলেছে।
 
প্রতীকী ছবি
 
বিশ্বাস ব্যাখ্যা করেন যে, ডিম থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রায় আগের মতো প্রভাব ফেলে না বলে এখন মনে করা হয়। তাঁর মতে, সম্পৃক্ত চর্বি এবং অতিরিক্ত লবণ হৃদরোগজনিত সমস্যার বড় কারণ।
 
তিনি আরও বলেন, মাঝারি আকারের একটি ডিম খাওয়ার ফলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় না। ডাঃ দত্তও এই মতের সঙ্গে একমত।
 
ডাঃ দত্ত বলেন, ডিম খাওয়ার পরে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে এইচ ডি এল বা “ভালো কোলেস্টেরল”-ও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামগ্রিকভাবে লিপিডের অনুপাত স্থিতিশীল থাকে, এবং এই অনুপাতকে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের একটি উন্নত সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।
 
তিনি আরও বলেন, অনেকেই ভুলভাবে হাঁসের ডিমকে অস্বাস্থ্যকর মনে করেন। তাঁর মতে, হাঁসের ডিমের অ্যালবুমিনে মেথিওনিন, থ্রিওনিন, ট্রিপটোফ্যান এবং সালফারযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে।
 
প্রতীকী ছবি
 
ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ জয়তী বসু ব্যাখ্যা করেছেন কেন ডিমকে প্রায়ই ‘সুপারফুড’ বলা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ডিমে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির মেরামতি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কোলিন মস্তিষ্কের কার্যকলাপে সহায়তা করে, অন্যদিকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডিম ভিটামিন ডি-এরও একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে, এবং এতে অল্প পরিমাণে আয়রনও থাকে।
 
চিকিৎসক দত্ত আরও উল্লেখ করেন যে, গর্ভাবস্থায় ডিম বিশেষভাবে উপকারী, কারণ ফলেট এবং আয়োডিন স্নায়ুনালীর ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে।
 
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তি কতগুলো ডিম খাবেন তা তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর নির্ভর করে।বিশ্বাস পরামর্শ দেন যে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন একটি থেকে দুটি ডিম নিরাপদে খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে প্রায় তিন থেকে চারটি ডিম খেতে পারেন।
 
প্রতীকী ছবি
 
ডাঃ দত্ত জানান, অধিকাংশ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়ার অভ্যাস (সপ্তাহে প্রায় একটি থেকে চারটি ডিম) হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ডিম খাওয়া, অর্থাৎ সপ্তাহে ১০টির বেশি ডিম খাওয়ার ফলে সেই ঝুঁকি বাড়তে পারে।
 
সামগ্রিকভাবে ডিম পুষ্টিকর, সুলভ এবং নানা উপায়ে রান্না করা যায়, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদ বসু শেষে বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি ডিম থাকা উচিত। তবে হৃদযন্ত্র বা কিডনির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এটি খাওয়ার আগে খাদ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।