মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা; জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস ইসরাত জাহানের
Story by Nurul Haque | Posted by Aparna Das • 8 h ago
ইসরাত জাহান স্নিহার
নূরুল হক / আগরতলা
মামার বাড়ি শুধু খেলাধুলা ,আনন্দ এবং মজার জায়গা নয়। মামার বাড়ি নিয়মতান্ত্রিক চলাফলের মধ্য দিয়ে চরিত্র গঠন এবং সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের ঠিকানাও। মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে উচ্চমাধ্যমিকে জেলার সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্ত ছাত্রীর স্বীকৃতি পেয়ে এই অভিমত ১৭ বছরের ইসরাত জাহান স্নিহার।
ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া মহকুমার সীমান্তবর্তী সোনামুড়া গ্রামের ইসরাত জাহান স্নিহা ২০২৬ সালে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। কলা বিভাগে ৫০০ নম্বরের পরীক্ষায় ইসরাত জাহান স্নিহার প্রাপ্ত নম্বর ৪৬২। সে ৯২.৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে সোনামুড়া গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে প্রথম হয়ে পাশ করেছে। একইভাবে জেলা শিক্ষা আধিকারিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ইসরাত জাহান স্নিহার প্রাপ্ত নম্বর জেলার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংখ্যালঘু মুসলিম ঘরের মেয়ের এই নজরকাড়া সাফল্যে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা চলছে। মুসলিম সমাজের একটা অংশ এখনো যেখানে মক্তব ,মাদ্রাসা এবং ধর্মীয় শিক্ষার নামে ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন সেই ক্ষেত্রে প্রান্তিক গ্রামের সংখ্যালঘু মেয়ের এই সাফল্য প্রশাসনিক বিভাগেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে ইসরাত জাহান স্নিহার শিক্ষার বিষয়গুলির উপর। ইসরাত জাহান স্নিহা দর্শনের ছাত্রী। এখনো মার্কশিট হাতে না পেলেও তার দৃঢ় বিশ্বাস দর্শন বিষয়ে তার নম্বর ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। দর্শনের পাশাপাশি ভূগোল এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছে ইসরাত।
ইসরাত জাহানের বাবা সেলিম রহমান ত্রিপুরা সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের একজন সাধারণ কর্মচারী। তার মা জয়নাব বিবি একজন গৃহিণী। ইসরাতের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মেয়ের এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার শিক্ষক মামা আব্দুল্লাহ আল মামুনের। আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজেও দর্শনের স্নাতকোত্তর শিক্ষক। প্রাথমিক স্তরের পর থেকেই মেয়েকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব মা-বাবা দিয়ে দেন মামার হাতে। মামার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করে ইসরাত জাহান স্নিহা।
ইসরাত জাহান স্নিহার তার পরিবারের সঙ্গে
সাধারণত ছেলে মেয়েরা যেখানে মামার বাড়িতে গিয়ে হাসি খেলা এবং মজা করে দিন পার করে। সেখানে ইসরাতের মূল লক্ষ্য ছিল পড়াশোনা। স্কুলের বাইরে মামাই ছিলেন ইসরাতের গৃহ শিক্ষক। আদরের পাশাপাশি মামা থাকে একজন শিক্ষকের ভূমিকায় পড়াশোনায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। মামার আদরের সঙ্গেই ছিল অনুশাস এবং নিয়ম তান্ত্রিক শিক্ষার গুরুত্ব। সেই অনুশাসন এবং নিয়মতন্ত্রিক শিক্ষাই ইসরাত জাহান স্নিহার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠে।
মাধ্যমিকের প্রথম বিভাগে পাস করার পর সে দর্শন নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে জেলার শ্রেষ্ঠ ছাত্রীর শিরোপা অর্জন করতে পেরেছে। ইসরাত জাহান স্নিহা ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরবর্তী শিক্ষা পরিচালনা করতে চাইছে। ইসরাত জাহান ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হয়ে সমাজে ক্রমশ ঘটে চলা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আইন এবং বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।