দেশের সুরক্ষায় জমি দেব বুক পেতে, কিন্তু আমাদের ভিখারি করে নয়, সীমান্তে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এককাট্টা হিন্দু-মুসলিম

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 10 h ago
দেশের সুরক্ষায় জমি দেব বুক পেতে, কিন্তু আমাদের ভিখারি করে নয়, সীমান্তে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এককাট্টা হিন্দু-মুসলিম
দেশের সুরক্ষায় জমি দেব বুক পেতে, কিন্তু আমাদের ভিখারি করে নয়, সীমান্তে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এককাট্টা হিন্দু-মুসলিম
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

দেশের নিরাপত্তা বনাম নাগরিকের বাঁচার অধিকার, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন চিন্তায় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর সীমান্তের বাসিন্দারা। কাঁটাতারের বেড়াজাল আজ গোটা এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তাই নিজের ও পরিবারের ভিটেমাটি আর রুজি-রুটির টানে জাত-ধর্মের রঙ ভুলে এককাট্টা হয়েছেন স্বরুপনগর সীমান্তের হিন্দু-মুসলিম পরিবারগুলো। তাঁদের একটা দাবি, দেশের সুরক্ষায় জমি দেব বুক পেতে, কিন্তু আমাদের ভিখারি করে নয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামে এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কাঁটাতারের নতুন মাপজোক। গ্রামবাসীদের দাবি, ২০১৬ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সোনাই নদীর পাড় থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা ছিল।
 

কিন্তু বর্তমানের নতুন সমীক্ষা বলছে, নদী থেকে প্রায় ১২০০ গজ ভিতর দিয়ে যাবে সেই কাঁটাতারের বেড়া। আর এই নতুন নকশার কথা শুনেই বিথারি-হাকিমপুরের বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়েছে। তাঁরা যুক্তি দিয়ে জানালেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই হিসেবে কাজ হলে শুধু হাজার হাজার বিঘা উর্বর ফসলি জমি তো যাবেই সঙ্গে বিঘার পর বিঘা বসতবাড়িও চলে যাবে কাঁটাতারের ওপারে।
 
একটু পর্যলোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই এলাকার মানুষের একমাত্র রুজি-রোজগার চাষবাস। তাই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জেনে কৃষকদের প্রশ্ন, চাষের জমি আর মাথা গোঁজার ছাদটুকুই যদি কাঁটাতারের ওপারে চলে যায়, তবে প্রতিদিনের রুজি-রুটির কী হবে? সন্তানদের মুখে অন্ন জুটবে কীভাবে?
 
প্রতীকী ছবি
 
সীমান্তের বাসিন্দাদের যুক্তি, দেশের নিরাপত্তার জন্য ত্যাগে আপত্তি নেই, কিন্তু সেই ত্যাগে যেন তাঁদের জীবনের ক্ষতি না হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, জমি নেওয়া হোক আইন ও নিয়ম মেনে, আর উপযুক্ত পুনর্বাসন দিয়ে।
 
কাঁটাতারের কারণে সীমান্তের ক্ষোভকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে আন্দোলনের সুর চড়াতে মাঠে নেমেছে বাম নেতৃত্ব। এনিয়ে হাকিমপুর মাঠে এক বিশাল জনসভা করেছে তারা। সিপিএম নেতা হামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি তাঁর বিষয় নয়।
 
প্রতীকী ছবি
 
স্বরূপনগরের এই জমি জট নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে নানা পরিকল্পনা করা হলেও বিষয়টি যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই সমাধান হবে তার ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ সীমান্তের বাসিন্দাদের কাছে এটা এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সীমান্তের এই আর্তনাদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশাসন এখন কোন মানবিক সমাধান সূত্র বের করে, এখন সেটাই  দেখার বিষয়।