পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর; ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ
কলকাতা:
উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী মৃতের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং, পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং স্থানীয় নেতারা।
বিরজু কেওটকে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে হালিশহর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার পুলিশি হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওটের অভিযোগ, পুলিশ লকআপের ভিতরে বিরজুকে মারধর করা হয়েছিল এবং তার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর একদিন আগে, রবিবার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। মমতার গাড়ি ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া এবং কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় বিজেপির কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে বিজেপির তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই এবং এটি স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বিরজু কেওটের মৃত্যু এবং পরপর দুই দিনে দুই রাজনৈতিক শিবিরের শীর্ষ নেতাদের এলাকায় যাতায়াতকে কেন্দ্র করে হালিশহর-কাঁচরাপাড়া অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এখন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তে পুলিশি হেফাজতে বিরজুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতা কতটা উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।