জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতিবাদে হিংসা, অরুণাচলের সিয়াং উপত্যকায় কড়া নিরাপত্তা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতিবাদে হিংসা, অরুণাচলের সিয়াং উপত্যকায় কড়া নিরাপত্তা
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতিবাদে হিংসা, অরুণাচলের সিয়াং উপত্যকায় কড়া নিরাপত্তা
 
পাসিঘাট: 
 
অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পকে ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। প্রায় ১১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় পথে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জনবসতি, কৃষিজমি, পরিবেশ, জীবিকা এবং পূর্বপুরুষদের জমির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ ও সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

গত ২৩ অক্টোবর পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনায় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগম (NHPC)-এর একটি কার্যালয়, পুলিশের একটি স্থাপনা এবং একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতির অবনতির পর এলাকায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-এর অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (RAF) দু’টি কোম্পানিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সিয়াং উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।

২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবকদের ডাকা ধর্মঘটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আপার সুবানসিরি জেলাতেও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় আন্দোলন ছড়িয়েছে। সেখানে পৃথক বন্‌ধ এবং সম্পত্তি ভাঙচুরের খবরও সামনে এসেছে।

প্রস্তাবিত সিয়াং প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগের মূল কারণ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব। তাঁদের আশঙ্কা, এত বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ, স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক স্থানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে পদক্ষেপ করার পাশাপাশি প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করা হোক অথবা বাতিল করা হোক।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু হিংসা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন করে অশান্তি ছড়ানো আটকাতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

এই পরিস্থিতি অরুণাচল প্রদেশে উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পটি এখনও প্রস্তাবিত প্রকল্প; বিক্ষোভের ঘটনাকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। আগামী দিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


শেহতীয়া খবৰ