পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বুধবার বিজেপির বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন নন্দীগ্রামের হাসিরানি রথ ও রেজিনগরের সখারভ সরকার। বিধানসভায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার রথীন্দ্র বসু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নবান্নে গিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা তাঁর।
গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের পর দুই কেন্দ্রেই জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা। এর ফলে ২৯৪ আসনবিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯।
নন্দীগ্রামে রেকর্ড ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন হাসিরানি রথ। অন্যদিকে, রেজিনগরে ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোটের ব্যবধানে জেতেন সখারভ সরকার। রেজিনগরে মোট ভোটারের ৬৫ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থীর এই বিপুল জয় রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে রাজ্যে বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সুফল পেয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশের আস্থা বিজেপির প্রতি বাড়ছে। তাঁর আরও দাবি, আগের শাসকদলগুলি বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে তুলে ধরে সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে যথেষ্ট নজর দেয়নি।
অধিকারীর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মহিলা ভোটার তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাসিরানি রথ প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট। গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রাস্তায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।