নয়াদিল্লি:
গত রাতে অসমের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই সু-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়লে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF)-এর দুই পাইলট নিহত হন।
বিমানবাহিনী জানিয়েছে, নিহত পাইলটরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুরভেশ দুরাগকর।
আইএএফ এক্স (X)-এ পোস্ট করে বলেছে,“আইএএফ-এর সব সদস্য নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে এবং এই শোকের সময়ে আমরা তাদের পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”
সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানটি একটি প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল এবং যোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে যাবার কিছুক্ষণ পরই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে।কর্মকর্তারা জানান, রুশ নির্মিত এই বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জানা গেছে, বিমানটি একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা পাহাড়ের দিক থেকে একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আগুনের বড় গোলা দেখতে পেয়েছেন।
সুখোই সু-৩০ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া।ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই “মর্মান্তিক” দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স-এ লিখেছেন,“দেশের জন্য তাদের সাহস ও সেবাকে আমরা সবসময় গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব।” তিনি আরও বলেন, এই শোকের সময়ে সমগ্র দেশ তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে
সুখোই সু-৩০এমকেআই একটি দুই আসনের দীর্ঘ-পাল্লার যুদ্ধবিমান, যা রাশিয়ার বিমান নির্মাতা কোম্পানি সুখোই তৈরি করেছে।
বর্তমানে এটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) লাইসেন্সের মাধ্যমে আইএএফ-এর জন্য তৈরি করে।
এই বিমানটি প্রথম ১৯৯৭ সালে আইএএফ-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে আইএএফ-এর কাছে ২৬০-এরও বেশি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি সুখোই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর আরেকটি সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছিল।