দুই দিনের লুকোচুরির অবসান, কামালগাছি থেকে গ্রেফতার শওকত মোল্লা; বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ-র বড় সাফল্য
দেবকিশোর চক্রবর্তী
দুই দিনের টানটান নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শুক্রবার সকালে সোনারপুরের কামালগাছি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ভোটের আগে ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লাকে অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরেই ভাঙড়ে শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দেয় এনআইএ-র একটি বিশেষ দল। তবে সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা তাঁর কোনও খোঁজ পাননি। এরপর তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙড়, ক্যানিং-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। দিনভর মোট আটটি জায়গায় অভিযান চালানো হলেও শওকতের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়, শওকত মোল্লা গা-ঢাকা দেওয়ার পর তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে একাধিক সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। রাতের দিকে খবর আসে, তিনি বাসন্তী হয়ে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করতে পারেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাসন্তীর চুনোখালি এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায় এনআইএ। কিন্তু সেখানেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে শুক্রবার সকালে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সোনারপুরের কামালগাছি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরণ মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড় বিধানসভার চালতাবেড়িয়ার দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার পরে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে বিস্ফোরণের নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা। সেই সূত্র ধরেই শওকত মোল্লার নাম সামনে আসে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
গত কয়েক মাস ধরেই মামলার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শওকত মোল্লার ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারীদের নজরদারি বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে হানা এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযান স্পষ্ট করে দেয় যে তাঁকে খুঁজে বের করাই ছিল এনআইএ-র প্রধান লক্ষ্য। শেষ পর্যন্ত কামালগাছি থেকে তাঁর গ্রেফতারি তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন নজর আদালতের দিকে। এনআইএ শওকত মোল্লাকে আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, বিস্ফোরণ মামলার ষড়যন্ত্র, অর্থের উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
দুই দিনের ধোঁয়াশা কাটিয়ে শওকত মোল্লার গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে তাঁর জেরায় আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য তথা রাজনৈতিক মহলের।