NEET কাণ্ডে উত্তাল যন্তর মন্তর, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ
নয়াদিল্লি
NEET ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং CBSE-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভস্থলে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে, “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও।” পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে কটাক্ষ করে আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ চেয়েছিলাম, আপনারা দিয়েছেন ‘লিক ইন ইন্ডিয়া’।”
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বিমানবন্দরে তাঁকে ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর-এর আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে দেখা যায়।
দলের সরকারি এক্স (X) হ্যান্ডেল ‘Cockroach is Back’-এ পোস্ট করে জানানো হয়, “ভারতের সংবিধানের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে ককরোচরা যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করবে।”
আরও একটি পোস্টে দাবি করা হয়, আন্দোলনের জন্য দিল্লি পুলিশ অনুমতি দিয়েছে। দলের বক্তব্য, এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য শিক্ষামন্ত্রীর উপর পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা। পোস্টে লেখা হয়, “দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। ফলে আর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় জমায়েত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ককরোচরা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছেন।”
দিল্লি পুলিশের তরফে জারি করা একটি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের দফতর থেকে জারি করা ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলার আলোকে এককালীন ছাড় হিসেবে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে NEET-UG পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের NEET পরীক্ষা পুনর্নির্ধারণ করে আগামী ২১ জুন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (CBI)। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি CBI-র ডিরেক্টর প্রবীণ সূদ এবং NTA-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
এর আগে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র সংগঠনগুলিও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। জবাবদিহির দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রকের বাইরে আন্দোলন করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটকও করেছিল।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলেও উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, জয়রাম রমেশ এবং রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা কেন্দ্রের পরীক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।