দলীয় কার্যালয়ের পাশের গুদামে জাল ওষুধের পাহাড়! হাওড়ায় ড্রাগ কন্ট্রোলের অভিযানে চাঞ্চল্য
কলকাতা
হাওড়ার বালিতে একটি গুদামঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, নিকৃষ্ট মানের এই ওষুধগুলি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মজুত করে রাখা হয়েছিল। গত ৭২ ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন অভিযানের সময় কয়েক লক্ষ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাওড়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট ড্রাগ কন্ট্রোলারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বালির তৃণমূল নেতা কৈলাস মিশ্রের দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন একটি ওষুধের গুদামে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে রয়েছে জ্বর, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের ওষুধ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের পাশেই কেন ওষুধের গুদাম তৈরি করা হয়েছিল? তাঁদের দাবি, এই ওষুধের ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই কৈলাস মিশ্রদের পারিবারিক ব্যবসার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বালি বিজেপির আহ্বায়ক যোগেশ সিং অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূল নেতা কৈলাস মিশ্র বেআইনিভাবে দলীয় কার্যালয়ে ওষুধ মজুত রেখেছিলেন। যেখান থেকে ওষুধ উদ্ধার হয়েছে, কয়েক বছর আগে সেটিই ছিল তাঁর দলীয় কার্যালয়। এই ওষুধ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছিল। কৈলাস মিশ্র ও তাঁর ভাই মিলে এই কাজ করেছেন। আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির গুণমান, উৎস এবং বৈধতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলি আদৌ জাল বা নিকৃষ্ট মানের কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তেই এই ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।