নূরুল হক, আগরতলা :
নেশা মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে এবার নতুন রেকর্ড তৈরি করল ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের উদ্যোগে গাঁজা বিরোধী অভিযানে ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের পরিপক্ক গাঁজা গাছ।
দিনভর অভিযানের পর সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা বলেন এই অভিযান ছিল ত্রিপুরা পুলিশের "মেঘা গাঁজা ডেস্টাকশন" তথা এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ গাঁজা গাছ ধ্বংস করার অভিযান। দিনের অভিযানে ২০০ হেক্টর জমি জুড়ে ১২০ টি প্লটে পরিচালিত গাঁজা খেতে ১২ লক্ষের বেশি গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার দাবি করেছেন। ধ্বংস করা গাঁজা গাছ স্বল্প ক'দিনের মধ্যে বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল মাদক চাষীদের। এই দিনের অভিযানে ৫০ কোটি টাকা বাজার মূল্যের গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে।
এই অভিযানে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সহ, বন দপ্তর, টি এস আর এর ৩টি বাহিনী সহ ৫ থানার পুলিশ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সহযোগিতা ছিল কেন্দ্রীয় পুলিশ বলের। এ দিনের অভিযানে ৫ শতাধিক নিরাপত্তা কর্মীকে মাঠে নামানো হয়েছিল। বিশালগড় এবং সোনামুড়া মহকুমার সুতারমুড়া, তকশাপাড়া, চিতারামবাড়ি, কমলনগর ও ঘাঁটিঘর এলাকাজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে। এদিন ভোর ৬ টা থেকেই বিশালগড় মহকুমার শেষ প্রান্ত ও সোনামুড়া থানাধীন ঘাঁটিঘর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এক যোগে পাঁচ থানার পুলিশ সহ সিআরপিএফ, টিএসার এবং ফরেস্ট বিভাগ অভিযানে নামে। এই অভিযানকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা।
সকাল থেকে প্রথমে গোটা এলাকাকে সুরক্ষা কর্মীদের চাদরে মুড়িয়ে ফেলা হয়। বিশাল পুলিশ বলের মধ্যে গাঁজা চাষী সহ তাদের সহযোগিতা কোন ধরনের প্রতিরোধ করার সাহস দেখাতে পারেননি। তারপরেই বন দপ্তরের অধীনে থাকা এলাকার বিভিন্ন জঙ্গলে গাঁজা খেত ধ্বংস করা শুরু করে অভিযানকারী দল। মুহূর্তের মধ্যে এই অভিযানে গোটা এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘন্টা চলে পুলিশের অভিযান। ৯ ঘন্টার অভিযানে ৫০ কোটি টাকার গাঁজা গাছের ধ্বংস করে এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের রীতিমতো রাতের ঘুম উড়িয়ে দেয় সিপাহীজলা জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা আরো বলেন এদিনের অভিযান রাজ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গাঁজা ধ্বংস অভিযান। মুখ্যমন্ত্রীর নেশা মুক্ত ত্রিপুরার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই এই ধরন অভিযান করা হয়েছে। গাঁজার অবৈধ চাষ নির্মূল করতে প্রশাসন ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।