বিদ্যুতের বাড়তি ট্যারিফের ১০০% বোঝা নেবে ত্রিপুরা সরকার, স্বস্তি ১০ লক্ষেরও বেশি পরিবারে
আগরতলা
বিদ্যুতের বাড়তি ট্যারিফের বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে না দিয়ে তার ১০০ শতাংশই বহন করার সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের সংশোধিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের ১০ লক্ষেরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিবার বড়সড় স্বস্তি পেতে চলেছে।
ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানিয়েছেন, সাধারণ পরিবার, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্র, সব ক্ষেত্রের গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার ইতিবাচক উদ্যোগের কারণেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ট্যারিফের বোঝা কমানো সম্ভব হয়েছে। সাধারণ মানুষের উপর কোনওভাবেই অসহনীয় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ চাপিয়ে দেওয়া হবে না, মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।
ইতিমধ্যে বাড়তি বিল দেওয়া গ্রাহকদেরও স্বস্তি
নতুন ট্যারিফ ২০২৬ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে বেশ কিছু গ্রাহক ইতিমধ্যেই বাড়তি হারে বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করেছেন। তবে সেই অতিরিক্ত টাকা গ্রাহকদের নষ্ট হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
পরবর্তী তিন মাসের বিদ্যুৎ বিলে সেই অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের বিলের মাধ্যমে বাড়তি পরিশোধ করা টাকা সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের সমস্যার কথা সরকার বুঝেছে এবং ত্রিপুরার মানুষের কাঁধে এই অতিরিক্ত বোঝা থাকতে দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত আর্থিক দায় সরকারই বহন করবে।
ট্যারিফ নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রক কমিশন
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুতের ট্যারিফ সরাসরি রাজ্য সরকার বা ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড নির্ধারণ করে না। ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী, ট্যারিফ নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে ত্রিপুরা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (টিইআরসি) উপর। এটি একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক ও আধা-বিচারিক সংস্থা।
টিএসইসিএল তাদের আর্থিক চাহিদা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত খরচ কমিশনের সামনে তুলে ধরে। এরপর কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং শুনানি ও পর্যালোচনার পর ট্যারিফ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে। ফলে রাজ্য সরকার সরাসরি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ট্যারিফ পরিবর্তন করতে পারে না।
বহু শ্রেণির গ্রাহক পাবেন সুবিধা
সরকারের এই ১০০ শতাংশ ভর্তুকির সুবিধা পাবেন রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বিদ্যুৎ গ্রাহক। এর আওতায় থাকবেন:
* গৃহস্থালি বিদ্যুৎ গ্রাহক
* কৃষক
* ছোট ও বড় ব্যবসায়ী
* শিল্পক্ষেত্রের গ্রাহক
তবে রেলওয়ে ট্র্যাকশনসহ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির গ্রাহক এই ভর্তুকির আওতার বাইরে থাকবেন।
১০ লক্ষেরও বেশি পরিবারে স্বস্তি
ত্রিপুরা সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের ১০ লক্ষেরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিবার উপকৃত হবে বলে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তা অনেকটাই কমাবে বলে মনে করছে সরকার।
সরকারের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ পরিবার এবং উৎপাদনশীল ক্ষেত্রগুলিকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।