দমদম বিমানবন্দরে ‘হামলার চক্রান্ত’ ভেস্তে দিল তৃণমূলের যুব ব্রিগেড! অস্ত্রধারী বিজেপি সমর্থককে গ্রেফতারের দাবি

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 12 h ago
এই সেই ব্যক্তি, অস্ত্র নিয়ে অভিষেকের জন্য অপেক্ষায় ছিল বলে অভিযোগ
এই সেই ব্যক্তি, অস্ত্র নিয়ে অভিষেকের জন্য অপেক্ষায় ছিল বলে অভিযোগ
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

শুক্রবার গভীর রাতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
 
দলীয় সূত্রের দাবি, জরুরি তলবে শুক্রবার বিকেলে দিল্লি গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত দশটার পর তাঁর কলকাতায় ফেরার সম্ভাবনা ছিল। সেই খবরের ভিত্তিতে কয়েকজন বিজেপি কর্মী ও সমর্থক বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, তাঁদের একাংশ ডিম হাতে অপেক্ষা করছিলেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
 
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূলের যুব সংগঠনের কর্মীরাও বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর সময় তাঁদের যুব ব্রিগেড এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে, যিনি অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং সম্প্রতি রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছিলেন।
 
যদিও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এবং হামলার সম্ভাব্য চক্রান্ত নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
 
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, তাদের কর্মীদের তৎপরতার ফলেই একটি বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির একাংশ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে ‘হামলার চক্রান্ত’ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
 
তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বিমানবন্দর এলাকায় কীভাবে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের এমন জমায়েত এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষত একজন উচ্চ-নিরাপত্তাপ্রাপ্ত সাংসদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
 
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রশাসনিক রিপোর্ট সামনে এলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুক্রবার রাতের দমদম বিমানবন্দরের এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।