কলকাতা
দু’দিনের সফরে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে তিনি হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশের তৈরি তিনটি নৌযান ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।
প্রতিবেশী ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে শনিবার বিকেলে হুগলি জেলার তারকেশ্বরে রাজ্যস্তরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই অনুষ্ঠানে ভারতের গঠন ও উন্নয়নে বাংলার ঐতিহাসিক অবদান এবং রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল ভাবনা, ‘পশ্চিমবঙ্গ: ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’। এই ভাবনা রাজ্যের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক ঐক্য এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
অনুষ্ঠান থেকেই প্রধানমন্ত্রী রেল, কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, মৎস্য ও পশুপালন ক্ষেত্রের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনা করবেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করবেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, অ্যাগ্রি স্ট্যাক, প্রাকৃতিক কৃষির জাতীয় মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা।
এদিন প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির অর্থও প্রকাশ করবেন। এর মাধ্যমে দেশের ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটি টাকা পাঠানো হবে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৯০০ কোটির বেশি টাকা জমা হবে। এই কিস্তি দেওয়ার পর রাজ্যে পিএম-কিষান প্রকল্পে মোট অর্থ বিতরণের পরিমাণ ১৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
মৎস্য পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারিত মাছ ধরার বন্দরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বীরভূমের সাঁইথিয়ায় নবনির্মিত আধুনিক মাছের বাজারও চালু করা হবে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মাছ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়া জেলার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিঙ্ক লাইন প্রকল্প, হাওড়ায় ৩০০ শয্যার নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতাল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের হাওড় ও রাধামোহনপুরের মধ্যে একটি রোড ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY-III)-এর আওতায় তৈরি ৪৯টি সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি গ্রামীণ রাস্তা উন্নত হবে।
সফরকালে কলকাতার রাজভবনে রাত্রিবাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড থেকে তিনি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ১২তম বর্ষের মূল অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম, ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। এই ভাবনার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শান্তি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সক্রিয় জীবনযাপনে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন এবং হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নেবেন।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২,৫০০টি স্থানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হবে। এতে ২১০টিরও বেশি ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনের অংশগ্রহণ থাকবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় তৈরি দেশের তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস দুনাগিরি, সার্ভে ভেসেল আইএনএস সংশোধক এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট আইএনএস অগ্রয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তিনটি জাহাজ নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ভারতের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
তিনটি যুদ্ধজাহাজই ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোতে নকশা করা হয়েছে এবং কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এ নির্মিত হয়েছে। এই নির্মাণে ২০০-রও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা (MSME)-সহ দেশীয় শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে।