কলকাতা
ভোটের আগে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ‘শ্যামাপ্রসাদের বাংলা গড়ার’ অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরল বিজেপি। দলের দাবি, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে গত ৪ মে, যখন প্রথমবারের মতো বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ফলতা-সহ ২০৮টি আসনে জয় পাওয়ার পর এবার রাজ্যে প্রথমবার মহাসাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। বিশেষ এই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে বঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি ও তোষণের কারণে আগের সরকার এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।
এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা এবং নির্লজ্জ তোষণের রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্য এই পবিত্র দিনটির গুরুত্বকে সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইতিহাসের পাতা থেকে বাঙালির এই আত্মপরিচয়ের লড়াইকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে মানুষ নিজের শিকড় এবং পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির নেপথ্যের প্রকৃত নায়কদের ভুলে যান। কিন্তু সত্যকে কখনও চিরতরে চেপে রাখা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার সেই “ঐতিহাসিক ভুল” সংশোধন করে বাংলার প্রকৃত ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করেছে। শুভেন্দুর কথায়, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামক কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বাংলার মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য ও বৈভব পুনরুদ্ধারের পথ এগিয়ে চলেছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ কিছু বছরের পুরনো। ২০১৪ সালে ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামের একটি চিন্তাগোষ্ঠী ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন শুরু করে। পরে বিজেপির উদ্বাস্তু সেল তাদের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই দিনটি নিয়মিত পালন করতে থাকে।
২০২১ সাল থেকে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধায়কদের নিয়ে কলকাতার ময়দানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে আসছিলেন। সেই সময় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পয়লা বৈশাখকে ‘রাজ্য দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০ জুন দিনটি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যও তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের একাংশের বক্তব্য ছিল, এই দিনটি পালন করা উচিত নয়।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বছরই প্রথমবার রাজ্যজুড়ে বড় আকারে পালিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ঐতিহাসিক স্মৃতি, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বাংলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বার্তা, সব মিলিয়ে এবারের উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।