ট্রাফিক পুলিশের হাতে এল অত্যাধুনিক দূষণ মাপার যন্ত্র, এবার রাস্তাতেই হবে গাড়ির পলিউশন টেস্ট

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
ট্রাফিক পুলিশের হাতে এল অত্যাধুনিক দূষণ মাপার যন্ত্র, এবার রাস্তাতেই হবে গাড়ির পলিউশন টেস্ট
ট্রাফিক পুলিশের হাতে এল অত্যাধুনিক দূষণ মাপার যন্ত্র, এবার রাস্তাতেই হবে গাড়ির পলিউশন টেস্ট
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পথে বড় পদক্ষেপ নিল লালবাজার। ট্রাফিক পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেছে অত্যাধুনিক ৩২টি পোর্টেবল দূষণ পরিমাপক যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে এবার থেকে পেট্রল, সিএনজি চালিত গাড়ি, মোটরবাইক এবং অটোর নির্গত ধোঁয়ার মাত্রা সরাসরি রাস্তাতেই পরীক্ষা করা যাবে। ফলে শুধু পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল (PUC) সার্টিফিকেট দেখিয়ে আর দায় এড়ানোর সুযোগ থাকছে না।
 
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন অনস্পট দূষণ পরীক্ষা মূলত ডিজেলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রেই সম্ভব ছিল। পেট্রল ও সিএনজি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশকে নির্ভর করতে হতো পিইউসি সার্টিফিকেটের উপর। অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার বা নির্ধারিত সময়ের পরেও সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। আবার এমনও দেখা গিয়েছে, বৈধ সার্টিফিকেট থাকলেও বাস্তবে গাড়ি থেকে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি দূষণ নির্গত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে এই ধরনের অনিয়ম সহজেই ধরা পড়বে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ট্রাফিক চেকিং চলাকালীন প্রয়োজন মনে হলেই সংশ্লিষ্ট গাড়ির এক্সহস্ট পাইপে এই আধুনিক যন্ত্র বসিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দূষণের মাত্রা নির্ণয় করা যাবে। পরীক্ষায় নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নির্গমন ধরা পড়লে মোটরযান আইন অনুযায়ী জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এখন থেকে শুধু কাগজপত্র নয়, গাড়ির প্রকৃত নির্গমনই হবে পুলিশের নজরদারির মূল বিষয়।
পুলিশের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ ভুয়ো পলিউশন সার্টিফিকেটের কারবারেও বড় ধাক্কা দেবে। কারণ সার্টিফিকেটে কী লেখা রয়েছে, তার থেকেও বেশি গুরুত্ব পাবে গাড়ির বাস্তব দূষণের মাত্রা। এতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ যেমন আরও কার্যকর হবে, তেমনই নিয়মিত গাড়ির ইঞ্জিন ও এমিশন সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণেও উৎসাহিত হবেন গাড়ির মালিকরা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা ও সল্টলেকের পাঁচটি আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরে বর্তমানে প্রায় ২৫ লক্ষ যানবাহন নথিভুক্ত রয়েছে। গত কয়েক বছরে ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি বাণিজ্যিক যানবাহনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার প্রভাব পড়ছে শহরের বায়ুমানের উপর। সেই কারণেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফায় ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে এই ৩২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত রাস্তায় নিয়মিত অভিযানে সেগুলি ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও যন্ত্র কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে দূষণকারী যানবাহন দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


অধিক পঢ়ক

শেহতীয়া খবৰ