শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন গতি আনতে কেন্দ্র সরকারের 'বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)' বা VB-G RAM G প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রথম কিস্তিতে প্রায় ১,২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে রাজ্যের জন্য মোট কেন্দ্রীয় বরাদ্দ প্রায় ৮,৫০০ কোটি টাকা। প্রথম কিস্তির অর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
নতুন এই কর্মসূচিতে গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি রাখা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য ৬০:৪০ অনুপাতে প্রকল্পের ব্যয় বহন করবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার কম হবে না বলেও কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধার-ভিত্তিক উপস্থিতি, জিও-ট্যাগিং এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ চলছে। মালদা-সহ একাধিক জেলাতেও প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকদের কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া জোরকদমে এগোচ্ছে।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বহু জব কার্ডধারীর মধ্যে শুরুতে সংশয় থাকলেও প্রশাসন জানিয়েছে, যাঁদের বৈধ জব কার্ড রয়েছে তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। শুধু আধার সংযুক্ত করলেই তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি, জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। কেন্দ্রের দাবি, 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্য পূরণে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মালদার বিভিন্ন গ্রামেও নতুন কর্মসূচিকে ঘিরে উৎসাহ চোখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন পর গ্রামে নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বহু পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হবে। তাঁদের আশা, সময়মতো মজুরি এবং ধারাবাহিক কাজ মিললে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। অনেকেই কেন্দ্র সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত সব গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।